kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১ ডিসেম্বর ২০২২ । ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ ।  ৬ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

কক্সবাজার সৈকতে প্রতিমা বিসর্জন, লাখো মানুষের মিলনমেলা

বিশেষ প্রতিনিধি, কক্সবাজার    

৬ অক্টোবর, ২০২২ ০০:৩৮ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



কক্সবাজার সৈকতে প্রতিমা বিসর্জন, লাখো মানুষের মিলনমেলা

লাখো পর্যটক আর সনাতন ধর্মাবলম্বী ভক্তদের মিলনমেলা বসেছিল বুধবার (৫ অক্টোবর) কক্সবাজারের বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকতে। দেশের সবচেয়ে বড় প্রতিমা বিসর্জন অনুষ্ঠানকে ঘিরেই বসে অসাম্প্রদায়িক এ মিলনমেলা। ঢাক-ঢোল বাজনা আর রং ছিটানো এবং আতশবাজি ফুটিয়ে বের করা হয় শোভাযাত্রা। বিসর্জন উপলক্ষে সৈকতে সমাগম হয় দেশি-বিদেশি পর্যটক আর ভক্তদের ঢল।

বিজ্ঞাপন

এ উপলক্ষে নেওয়া হয় বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থাও।  

অনুষ্ঠানের নিরাপত্তার জন্য সৈকতে ওয়াচ টাওয়ারের মাধ্যমে পুরো বিসর্জন উপলক্ষে বসা মানুষের মিলনমেলা পর্যবেক্ষণে রাখে পুলিশ। নানা ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য আর উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে সমাপ্ত হয়েছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রতিমা বিসর্জন। এর মাধ্যমে সমাপ্তি ঘটে দুর্গা উৎসবের। এবার কক্সবাজার সৈকতে দেড় শতাধিক প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক বেন্ডু দাশ।

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজার বুধবার ছিল প্রতিমা বিসর্জন ও বিজয়া দশমী। সকাল থেকে কক্সবাজার জেলার পূজামন্ডপগুলোতে বিরহের সুর বেজে ওঠে। মা দেবী দুর্গা ফিরে গেলেন কৈলাসে সন্তানদের আশীর্বাদ করে। সকাল থেকে কক্সবাজার জেলার পূজামন্ডপগুলোতে ভক্তদের মাকে বিদায় দেওয়ার অশ্রুসিক্ত শ্রদ্ধাঞ্জলি দিতে দেখা যায়।  

দুপুরের পর থেকে কক্সবাজারের বিভিন্ন মণ্ডপ থেকে প্রতিমা বহনকারী ট্রাকগুলো কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের দিকে আসতে থাকে। পুরো শহর জুড়ে নেওয়া হয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা। বিকেল ৩টার পর থেকে সৈকতের লাবনী পয়েন্ট ভক্ত আর পর্যটকদের পদচারণায় লোকে লোকারণ্য হয়ে ওঠে। লাবনী পয়েন্ট থেকে সুগন্ধা পয়েন্ট পর্যন্ত সনাতন ধর্মবলম্বী আর সৈকতে আগত পর্যটকদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো।

কক্সবাজার সৈকতের লাবনী পয়েন্টের উন্মুক্ত মঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় প্রতিমা বিসর্জনের অনুষ্ঠান। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যরিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল। অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন সংসদ সদস্য আশেক উল্লাহ রফিক, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের ধর্মবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট সিরাজুল মোস্তফা, কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. মামুনুর রশিদ, কক্সবাজারের পুলিশ সুপার মাহফুজুল ইসলাম, কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অ্যাডভোকেট ফরিদুল ইসলাম চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক ও কক্সবাজার পৌরসভার মেয়র মজিবুর রহমান, টুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজার জোনের পুলিশ সুপার জিল্লুর রহমান প্রমুখ।  

জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি উজ্জ্বল করের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন জেলা পূজা উদযাপন পরিষদ, প্রশাসনের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, সামাজিক নেতাসহ নানা সম্প্রদায়ের নেতৃত্ব। বিসর্জন মঞ্চ থেকে মন্ত্র উচ্চারণ শেষে সমুদ্র সৈকতে শুরু হয় বিসর্জন। এরপর একে একে পূজামণ্ডপের প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয় সাগর সৈকতে।  

পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি উজ্জ্বল কর জানিয়েছেন জেলায় ৩০৫টি পূজামণ্ডপে পূজার আয়োজন করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৪৮টি প্রতিমা পূজা আর ১৫৭টি ঘট পূজা। প্রতিটি পূজামণ্ডপে ছোট বড় ৬টি প্রতিমা রয়েছে।

কক্সবাজার সদর উপজেলায় ২৮টি, ঈদগাও উপজেলায় ২৬ কক্সবাজার পৌরসভায় ২১ রামু উপজেলায় ৩২ চকরিয়া উপজেলা ও পৌরসভায় ৯২ পেকুয়া উপজেলায় ৯ কুতুবদিয়া উপজেলায় ৪৫ মহেশখালী উপজেলা ও পৌরসভায় ৩১ উখিয়া উপজেলায় ১৬ এবং টেকনাফ উপজেলায় ৬টি পূজামণ্ডপের আয়োজন করা হয়।  



সাতদিনের সেরা