kalerkantho

শুক্রবার । ৯ ডিসেম্বর ২০২২ । ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ । ১৪ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

উদ্ধারের আকুতি সৌদি আরবে পাচার হওয়া তরুণীর

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি   

৫ অক্টোবর, ২০২২ ২১:০৯ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



উদ্ধারের আকুতি সৌদি আরবে পাচার হওয়া তরুণীর

হবিগঞ্জের মাধবপুরের কমলপুর গ্রামের দরিদ্র পরিবারের ইয়াসমিন বেগম (১৫)। দালালের খপ্পরে পড়ে জাল জন্মনিবন্ধন ও জাতীয় পরিচয়পত্রের মাধ্যমে পাসর্পোট তৈরি করে পাচারকারীরা তাকে সৌদি আরবে প্ররণ করেন। ওখানে গিয়ে শুরু হয় পাশবিক নির্যাতন। নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে বাঁচার আকুতি জানিয়ে গোপনে স্বজনদের একটি বার্তা দিয়েছেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

সেখানে উল্লেখ করেন ইয়াসমিন 'আমাকে উদ্ধার করেন, আমি অত্যাচার সহ্য করতে পারতেছিনা। আমারে যেমনে পারেন এমনে উদার করেন। ' এই বার্তা পেয়ে ইয়াসমিনের বাব-মা পাগলপ্রায়। কিন্তু বিষয়টি পাচারকারীদের জানালে, উল্টো তারা হুমকি-ধামকি দিচ্ছেন। নিরুপায় হয়ে কুদ্দুছ মিয়া গত রবিবার প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রনালয়ে একটি অভিযোগ দিয়েছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৭ সেপ্টেম্বর গৃহকর্মীর কাজ দিয়ে সৌদি আরবের রিয়াদে পাঠায় ঢাকার আরামবাগ এলাকার শান ওভারসিস নামের একটি রিক্রুটিং এজেন্সি। ওই তরুণী তিন দিন আগে রিয়াদ থেকে ইমোতে তার বাবার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। এ সময় তিনি বলেন, 'তাকে সৌদির রিয়াদে আটকে রেখে নির্যাতন করা হচ্ছে। এ নির্যাতন তিনি সহ্য করতে পারছেন না। তাকে সেখান থেকে যেন উদ্ধার করে আনা হয়। ' এই ফোন পেয়েই ইয়াসমিনের পিতা কুদ্দুছ মিয়া যোগাযোগ করেন সৌদি আরবে প্রেরণকারী চুনারুঘাট উপজেলার আমতলী গ্রামের দালাল কাশেম মিয়ার কাছে। কিন্তু কাশেম মিয়া কোন ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস না দিয়ে উল্টো দুর্ব্যবহার করেন তার সাথে।  

ইয়াসমিনের বাবা জানান, 'দালাল কাশেম এর কাছে তার মেয়েকে ফেরত আনার কথা বললে তিনি দুর্ব্যবহার করেন। ইয়াসমিন তাকে জানিয়েছে তাকে রিয়াদের একটি নির্জন স্থানে রেখে নির্যাতন করা হচ্ছে। কাশেমের কাছ থেকে কোন প্রতিকার না পেয়ে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রনালয়ে লিখিত অভিযোগ দায়েরের কথাও জানান তিনি।

তবে কাশেম মিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, 'তিনি ঢাকার আরামবাগের শান ওভারসিস রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে ওই তরুণীকে গৃহকর্মীর কাজ দিয়ে সৌদিতে পাঠিয়েছিলেন। আরো অনেক লোককে এভাবে বিদেশে পাঠানো হয়েছে। এর আগে কেউ তার বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ করেনি। ' 

এ বিষয়ে ঢাকার শান ওভারসিসের অফিসিয়াল নম্বরে ফোন দিলে কেউ ফোন রিসিভ করেননি।

মাধবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শেখ মাইনুল ইসলাম বলেন, 'তিনি অভিযোগ পেয়েছেন। এ বিষয়ে অভিযুক্ত স্থানীয় দালাল কাশেমকে গতকাল মঙ্গলবার অফিসে ডেকে আনা হয়েছিল। কাশেম স্বীকার করেছেন, তার মাধ্যমে মেয়েটিকে সৌদিতে পাঠানোর কথা। তাই ওই ব্যক্তিকে সময়সীমা বেধে দেওয়া হয়েছে মেয়েটিকে ফেরত নিয়ে আসতে। ফেরত না আনলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। '



সাতদিনের সেরা