kalerkantho

শনিবার । ৩ ডিসেম্বর ২০২২ । ১৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ । ৮ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

ব্যাংকের অর্থ আত্মসাৎ : ৫ জনকে পৌনে ৪ কোটি জরিমানা, কারাদণ্ড

নোয়াখালী প্রতিনিধি   

৩ অক্টোবর, ২০২২ ১৮:৪৬ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ব্যাংকের অর্থ আত্মসাৎ : ৫ জনকে পৌনে ৪ কোটি জরিমানা, কারাদণ্ড

নোয়াখালীতে সোনালী ব্যাংকের এক কোটি ৯৭ লাখ টাকা আত্মসাতের দায়ে দুদকের মামলায় সোনালী ব্যাংকের চার জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাসহ পাঁচজনকে বিভিন্ন মেয়াদে ৭০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে সবাইকে বিভিন্ন ধারায় তিন কোটি ৭০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। আজ সোমবার দুপুরে নোয়াখালী বিশেষ জজ আদালতের বিচারক এ এন এম মোরশেদ খান এই রায় দেন।  

বিষয়টি নিশ্চিত করে জেলা দুদকের পিপি অ্যাডভোকেট আবুল কাশেম জানান, দুপুর ১২টার দিকে মামলার শুনানি শেষে বিচারক রায় ঘোষণা করেন।

বিজ্ঞাপন

রায় দেওয়ার সময় মামলার তিন আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। মামলার ১ ও ২ নম্বর আসামি পলাতক রয়েছেন।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন নোয়াখালীর সদর উপজেলার সোনাপুর বিসিক শিল্প এলাকার মেসার্স ডলফিন সি ফুড ইন্ডাস্ট্রিজের কর্ণধার নিজাম উদ্দিন ফারুক, সোনালী ব্যাংক নোয়াখালী শাখার সাবেক সহকারী মহাব্যবস্থাপক এ জে আবদুল্লা আল মামুন, সোনালী ব্যাংক নোয়াখালী শাখার সাবেক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জাকের উল্লাহ, ফেনীর ফুলগাজী উপজেলার সোনালী ব্যাংকের সাবেক এওজি ক্যাশ-২ এম এ রহমান, সোনালী ব্যাংক লিমিটেডের প্রধান কার্যালয়ের বরখাস্তকৃত ইঞ্জিনিয়ার সামছুদ্দোহা নাহাদ।

দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সূত্রে জানা যায়, ২০১৬ সালে ব্যবসায়ী ফারুক ও চার ব্যাংক কর্মকর্তার যোগসাজশে ক্ষমতার অপব্যবহার করে প্রতারণা ও জালিয়াতির মাধ্যমে প্লেজ গুদামে মাছ না রেখে ভুয়া প্লেজ লেটার প্রস্তুত করা হয়। পরে সেটি ব্যাংকে দাখিল করার মাধ্যমে বিল-ভাউচার প্রস্তুত করে ঋণ নেওয়া হয়। ঋণের টাকা গ্রাহকের নামে ঋণ হিসেবে স্থানান্তর করে নগদ উত্তোলন করেন তারা। পরে ঋণের অর্থ অন্যত্র স্থানান্তর ও রূপান্তর করে মানিল ন্ডারিংয়ের সাথে সম্পৃক্ত ও সংশ্লিষ্ট সম্পত্তি অর্জন করা হয়। সর্বশেষ আলামত ধ্বংস (প্লেজকৃত মাছ) করে এক কোটি ৯৭ লাখ ১৬ হাজার ৭০০ টাকা আত্মসাৎ করেন তারা।

২০১৭ সালের ২৩ অক্টোবর দুর্নীতি দমন কমিশন, সমন্বিত জেলা কার্যালয়, নোয়াখালীর তৎকালীন সহকারী পরিচালক মো. মশিউর রহমান, বর্তমান উপপরিচালক এবং গোয়েন্দা ইউনিটের প্রধান কার্যালয়ের তদন্ত শেষে কমিশনের অনুমোদন নিয়ে  বিজ্ঞ আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়।   

মামলার আইনজীবী জানান, দুটি ধারায় ফারুক ও এ জে আবদুল্লা আল মামুনকে দুর্নীতির দায়ে ২০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে ফারুককে দুই কোটি দুই লাখ টাকা ও আবদুল্লা আল মামুনকে এক কোটি দুই লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।  

অপর তিন ব্যাংক কর্মকর্তাকে একাধিক ধারায় ১০ বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তাদের ২২ লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। রায়ে তাদের ২৫ বছর করে দণ্ডিত করা হলেও একসাথে সাজা কার্যকর হওয়ায় তিন আসামিকে ১০ বছর সাজা গ্রহণ করতে হবে বলেও জানান আইনজীবী।



সাতদিনের সেরা