kalerkantho

শনিবার । ৩ ডিসেম্বর ২০২২ । ১৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ । ৮ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

ভোলায় উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা

টাকার বিনিময়ে মিলছে নকলের সুযোগ, অভিযোগ পরীক্ষার্থীদের

ভোলা প্রতিনিধি   

৩ অক্টোবর, ২০২২ ১৭:৫০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



টাকার বিনিময়ে মিলছে নকলের সুযোগ, অভিযোগ পরীক্ষার্থীদের

ভোলায় বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাউবি) অধীনে এইচএসসি প্রথম ও দ্বিতীয় বর্ষের পরীক্ষায় টাকার বিনিময়ে পরীক্ষার্থীদের নকল করার সুযোগ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে কেন্দ্রের কর্মকর্তা, শিক্ষক এবং কর্মচারীদের বিরুদ্ধে। গত শুক্রবার চরফ্যাশন উপজেলার ফাতেমা মতিন মহিলা ডিগ্রী কলেজের বাউবি স্টাডি সেন্টার পরীক্ষাকেন্দ্রে গিয়ে অভিযোগের সত্যতাও মিলেছে।

শুক্রবার কেন্দ্রটিতে পরীক্ষার্থীদের বাঁধাহীনভাবে বই ও উত্তরপত্র দেখে পরীক্ষা দিতে দেখা গেছে।  

এইচএসসি প্রথম ও দ্বিতীয় বর্ষের একাধীক পরীক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেছেন, শিক্ষক ও অফিস সহকারিকে দুই হাজার টাকা দেওয়ার বিনিময়ে তারা পরীক্ষার প্রবেশপত্র পেয়েছে।

বিজ্ঞাপন

এ ছাড়াও বিষয়ভিত্তিক প্রশ্নের উত্তর পত্রের জন্য ২০০ টাকা এবং নকল করে পরীক্ষা দেওয়ার জন্য এক হাজার টাকা দিয়ে পরীক্ষায় বসতে হয়েছে তাদের।
 
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক পরীক্ষার্থী জানিয়েছেন, কলেজটির অফিস সহকারি হৃদয় ও শিক্ষক খোরশেদের দাবী করা টাকা দিতে না পারায় তাকে হলের সামনের বেঞ্চে একা বসে পরীক্ষা দিতে বাধ্য করা হয়েছে।

কেন্দ্রটির আরো একাধীক পরীক্ষার্থী জানিয়েছে, অফিস সহকারী হৃদয়কে দুই হাজার টাকা না দেওয়ায় পরীক্ষার্থীদের প্রবেশপত্র আটকিয়ে রাখেন তিনি। অন্যদিকে শিক্ষক খোরশেদসহ সংশ্লিষ্টরা পরীক্ষার্থীদেরকে দুই হাজার টাকা করে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। পরীক্ষা শুরুর প্রথম দিন প্রবেশ পত্র নেওয়ার সময় যারা টাকা দিবে তাদেরকে এক পাশে এবং যারা টাকা দিবে না তাদের আরেক পাশে দাঁড়াতে বলেন শিক্ষক খোরশেদ।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এর আগেও ২০২১ সালে চরফ্যাশন মহিলা কলেজের বাউবির কেন্দ্রকে ঘিরে কলেজের অধ্যক্ষ মো. হোসেনের বিরুদ্বে বাউবি স্টাডি সেন্টার ভাংচুর এবং কাগজপত্র তছরুফের অভিযোগে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছিলেন।  

২০২০ সালে বাউবির রেজিস্ট্রার কর্তৃক এইচএসসি এবং বিএ/বিএসএস প্রোগ্রামের প্রবেশ পত্র বাবদ অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন। এর পরও কেন্দ্রটির দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা, শিক্ষক এবং কর্মচারীদের কোনো প্রকার পরিবর্তন হয়নি।

বর্তমানে বাউবির ওই কেন্দ্র থেকে এইচএসসি পর্যায়ে প্রথম ও দ্বিতীয় বর্ষের মোট ১১২জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করছেন।  

এদিকে অতিরিক্ত টাকার বিনিময়ে নকল করার সুযোগ দেওয়ার বিষয়ে শিক্ষক খোরশেদকে একাধিকবার ফোন করেও পাওয়া যায়নি। তবে অফিস সহকারি মো. হৃদয় জানান, প্রত্যেক পরীক্ষার্থীকে তাদের প্রবেশপত্র প্রদান করা হয়েছে। আর টাকা নেওয়ার বিষয়টি সত্য নয়।

চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আল নোমান জানান, উন্মুক্তের পরীক্ষায় কোনো কর্মকর্তা যদি দায়িত্বে অবহেলা করে থাকেন এবং বাউবি স্টাডি সেন্টারের সংশ্লিষ্টরা শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে যদি অতিরিক্ত অর্থ আদায় করে থাকেন তাহলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ছাড়াও কোনো পরীক্ষার্থী অসদুপায় অবলম্বন করলে তাদেরকেও বহিস্কার করা হবে।



সাতদিনের সেরা