kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১ ডিসেম্বর ২০২২ । ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ ।  ৬ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগ: এক কমিটিতেই ৯ বছর

নূপুর দেব, চট্টগ্রাম   

৩ অক্টোবর, ২০২২ ০২:৫০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগ: এক কমিটিতেই ৯ বছর

চট্টগ্রাম মহানগর যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও তাঁতি লীগের সম্মেলন হয়েছে। এখন নগরে আওয়ামী লীগের তৃণমূল পর্যায়ে সম্মেলন চলছে। ওয়ার্ড ও থানা কমিটির পর চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সম্মেলন হবে বলে জানিয়েছেন দলের কেন্দ্রীয় নেতারা। কিন্তু মহানগর ছাত্রলীগের কমিটির ৯ বছর হতে চললেও সম্মেলনের বিষয়ে এখন পর্যন্ত কিছু জানা যায়নি।

বিজ্ঞাপন

অথচ ৯ বছরে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটিতে তিনবার পরিবর্তন হয়েছে।

চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের তিনটি কমিটি পরিবর্তনের পর এখন সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় ও সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্যের নেতৃত্বে সংগঠনটি চলছে। সামনে এই কমিটিরও সম্মেলন হতে পারে। সেই হিসাবে বলতে গেলে কেন্দ্রীয় চারটি কমিটির মেয়াদ পার করতে যাচ্ছে চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের প্রায় ৯ বছর আগের কমিটি। কেন্দ্রে কমিটি আসে-যায়, কিন্তু চট্টগ্রাম মহানগরের কমিটি পাল্টায় না।

নেতারা আরো জানান, শুধু তা-ই নয়, কেন্দ্র থেকে এরই মধ্যে চট্টগ্রাম মহানগরের আশপাশে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম উত্তর ও চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগেও একাধিকবার নতুন কমিটি হয়েছে। কিন্তু পৌনে সাত বছর ধরে মেয়াদোত্তীর্ণ চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের কমিটির কোনো ধরনের নড়চড় নেই। ২০১৩ সালের অক্টোবরে কেন্দ্র থেকে দেওয়া এই কমিটির হাতে গোনা কয়েকজন ছাড়া অন্য কারো ছাত্রত্ব নেই। ২৯১ সদস্যের নগর কমিটিতে নিয়মিত ছাত্রত্ব না থাকায় বেশির ভাগই বিয়েশাদি করে সংসারী হয়েছেন। আবার তাঁদের অনেকে ব্যবসা-বাণিজ্য নিয়ে ব্যস্ত। সংগঠনের কাজে সময় দেন না। এ কারণে সংগঠনের কার্যক্রমে স্থবিরতা বিরাজ করছে।

নগর ছাত্রলীগের একাধিক নেতা জানান, নিয়মিত সম্মেলন না হওয়ায় এবং নতুন নেতৃত্ব না আসায় চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগ দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছে এবং এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে তাদের অধীন বিভিন্ন সাংগঠনিক ওয়ার্ড, থানা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কমিটিগুলোতে। তৃণমূল থেকে নগর ছাত্রলীগের কার্যক্রম চলছে পাল্টাপাল্টি কর্মসূচিতে। মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি বিলোপ করে নতুন কমিটি গঠনের দাবিতে দুই বছর আগে রাজপথে সংগঠনের একাংশ আন্দোলন করেছিল।

কেন্দ্র থেকে ২০১৩ সালের ২৯ অক্টোবর ইমরান আহমেদ ইমুকে সভাপতি এবং নুরুল আজিম রনিকে সাধারণ সম্পাদক করে ২৪ জনের আংশিক কমিটি দেওয়া হয়। এরপর ২০১৪ সালের ১১ জুলাই ওই ২৪ জনসহ ২৯১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ নগর ছাত্রলীগের কমিটির অনুমোদন দেয় কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ। এরপর নুরুল আজিম অব্যাহতি নিলে তাঁর স্থলাভিষিক্ত হন জাকারিয়া দস্তগীর। এক বছর মেয়াদের এই কমিটি এখন পার করছে প্রায় ৯ বছর। জানা যায়, সে সময় কমিটির অনুমোদন দিয়েছিলেন কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ সভাপতি এইচ এম বদিউজ্জামান সোহাগ ও সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকী নাজমুল আলম। ২০১১-২০১৫ মেয়াদের ওই কমিটির পর ২০১৫-২০১৮ মেয়াদে মো. সাইফুর রহমান সোহাগ সভাপতি ও এস এম জাকির হোসাইন সাধারণ সম্পাদক এবং ২০১৮-১৯ মেয়াদে রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন সভাপতি ও মো. গোলাম রাব্বানী সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে আল নহিয়ান খান জয় সভাপতি ও লেখক ভট্টাচার্য সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন।

বর্তমানে চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগ দুই ভাগে বিভক্ত। সভাপতি ইমু ও সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়ার নেতৃত্বে একটি অংশ। অন্য অংশের নেতৃত্বে কমিটির সহসভাপতি রেজাউল আলম রনি ও মিথুন মল্লিক এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ওয়াহেদ রাসেল।

চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া দস্তগীর কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘নগর সম্মেলন করার জন্য আমরা প্রস্তুত আছি। কেন্দ্র থেকে নির্দেশনা পেলে আমরা সম্মেলন করতে পারব। ’

মহানগর ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ওয়াহেদ রাসেল গতকাল রবিবার রাতে কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘নগর ছাত্রলীগের কমিটি নিয়ে কারো কোনো মাথাব্যথাও নেই। আমরা মেয়াদোত্তীর্ণ এই কমিটি বাতিলের জন্য আন্দোলন করেছি। ’ তিনি আরো বলেন, প্রায় ৯ বছর আগে দেওয়া এ কমিটির কারোই নিয়মিত ছাত্রত্ব নেই। বর্তমান মহানগর ছাত্রলীগের কমিটির অন্তত ৭০ শতাংশ বিবাহিত।

চট্টগ্রাম মহানগর কমিটির দায়িত্বপ্রাপ্ত কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সহসভাপতি শওকতুজ্জামান সৈকত কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে কথা বলে আমরা দু-তিন মাস আগে কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে রিপোর্ট দিয়েছি। আমরা বলেছিলাম সম্মেলন করার জন্য। সম্মেলন না হলে একটি কর্মিসভা করার প্রস্তাব দিয়েছিলাম। চট্টগ্রাম মহানগর কমিটির সম্মেলন কিংবা নতুন কমিটি গঠন করার সম্পূর্ণ এখতিয়ার কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি-সম্পাদকের। ’

এ বিষয়ে জানতে আল নহিয়ান খান জয় ও লেখক ভট্টাচার্যের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করলেও তাঁরা ধরেননি। পরে খুদে বার্তা পাঠানোর পরও সাড়া পাওয়া যায়নি।



সাতদিনের সেরা