kalerkantho

শনিবার । ১০ ডিসেম্বর ২০২২ । ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ । ১৫ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

কোথাও ৯৯ বছরের পুরনো, কোথাও প্রথমবারের পূজা

বিশ্বজিৎ পাল বাবু, ব্রাহ্মণবাড়িয়া   

২ অক্টোবর, ২০২২ ১২:৫৭ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



কোথাও ৯৯ বছরের পুরনো, কোথাও প্রথমবারের পূজা

সরাইলের শাহবাজপুরের স্বর্গীয় হারাধন সাহার বাড়িতে পূজা হয় ৯৯ বছর ধরে।

স্বর্গীয় হারাধন সাহার বাড়িতে দুর্গোৎসবের বয়স ৯৯ বছর। ঘট পূজা দিয়ে শুরু করে এখন বাড়িটিতে প্রতিবছরই প্রতিমায় দুর্গাপূজা হয়। স্বাধীনতাযুদ্ধের সময় এ পরিবারের সদস্যরা ভারতের ত্রিপুরায় শরণার্থী হিসেবে ছিলেন। দেখানেও নিয়ম রক্ষার পূজা করেন তারা।

বিজ্ঞাপন

মাঝে ছেদ পড়লেও স্বাধীনতার পর এবার প্রথম পূজা হচ্ছে গ্রামটিতে।  

হারাধন সাহার বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার শাহবাজপুর গ্রামে। রুটি গ্রামটি জেলার আখাউড়া উপজেলার ধরখার ইউনিয়নে। ঐতিহ্যগতভাবে পূজা করতে পেরে আনন্দিত হারাধন সাহার পবিরারের লোকজন। রুটি গ্রামের হিন্দু ধর্মাবলম্বীরাও গ্রামে প্রথমবারের মতো পূজা দেখতে পেয়ে বেশ উৎফুল্ল।

শঙ্কার মেঘ উড়িয়ে দিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এবারও শুরু হয়েছে হিন্দুধর্মাবলম্বীদের প্রধান উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসব। জেলার ছয় শতাধিক মন্দিরে শনিবার ষষ্ঠী পূজার মধ্য দিয়ে শারদীয় দুর্গোৎসব শুরু হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ১৫১টি মণ্ডপে পূজা হচ্ছে নাসিরনগর উপজেলায়। এ ছাড়া নবীনগরে ১২৯, সদরে ৭৮, বিজয়নগরে ৬৫, সরাইলে ৪৯, কসবায় ৪৯, বাঞ্ছারামপুরে ৪৭, আখাউড়ায় ২২ ও আশুগঞ্জ উপজেলায় ১৪টি মণ্ডপে পূজা হচ্ছে। আগের চেয়ে এবার ৪০টির অধিক পূজা বেড়েছে।  

এবারের পূজায় ব্যতিক্রম আয়োজন রয়েছে জেলার আখাউড়া উপজেলার শ্রী শ্রী রাধামাধব আখড়া কেন্দ্রীয় মন্দিরে। নবমীর দিন বিকেলে জীবিত মায়ের পূজা অনুষ্ঠিত হবে মন্দিরটিতে। সোমবার (৩ অক্টোবর) অষ্টমীর দিন সকালে রাধামাধব আখড়া, মোগড়া দশভুজা মন্দির ও মনিয়ন্দের রামসুন্দর মন্দিরে আসবেন স্থানীয় সংসদ সদস্য আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।

গত বছর দেশের বিভিন্ন স্থানে হামলাকে আমলে নিয়ে এ বছর প্রশাসনের পক্ষ থেকে মন্দির ঘিরে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। প্রতিটি মন্দিরেই স্থাপন করা হয়েছে সিসি ক্যামেরা। নিয়মিত আনসার সদস্য অবস্থানের পাশাপাশি পুলিশ, বিজিবি, র‌্যাব নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ করছে।  

শাহবাজপুর গ্রামের হারাধন সাহার ছেলে বলাই সাহা বলেন, ‘আমার প্রয়াত বাবার বয়স যখন ১৬ বছর তখন থেকেই তিনি আমাদের বাড়িতে ঘটের মাধ্যমে দুর্গাপূজা শুরু করেন। স্বাধীনতাযুদ্ধের সময় আমাদের পরিবারের সবাই ত্রিপুরায় শরণার্থী শিবিরে থাকা অবস্থায় সেখানেই নিয়ম রক্ষা করা হয়। দেশ স্বাধীনের পর থেকে প্রতিমা দিয়ে পূজা শুরু হয়। দিনকে দিন পূজাকে কেন্দ্র করে নানা আয়োজন ও আনন্দ বেড়ে চলছে। ’

আখাউড়া উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের আহ্বায়ক দীপক কুমার ঘোষ বলেন, ‘আমাদের উপজেলায় এবার রুটি গ্রাম ও পৌরসভার মসজিদপাড়া এলাকায় প্রথমবারের মতো পূজা হচ্ছে। এর মধ্যে রুটি গ্রামে আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের হস্তক্ষেপে ও পৌরসভার মেয়র তাকজিল খলিফার সহযোগিতায় দুই বছর আগে মন্দিরের জায়গা উদ্ধার করা হয়। এর পর থেকেই ওই এলাকার হিন্দুধর্মাবলম্বীরা দুর্গাপূজা উদযাপনের চিন্তাভাবনা শুরু করেন। স্থানীয় মুসলিম লোকজনও তাদেরকে সার্বিক সহযোগিতা করছেন। ’

বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সভাপতি সোমেশ রঞ্জন রায় বলেন, ‘ব্রাহ্মণবাড়িয়া সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এলাকা। পূজাকে কেন্দ্র করে এখানে কোনো সহিংস ঘটনা এখন পর্যন্ত ঘটেনি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ বছরও সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ’ 



সাতদিনের সেরা