kalerkantho

শনিবার । ১০ ডিসেম্বর ২০২২ । ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ । ১৫ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

সরকারি জায়গায় দোকান, প্রতিদিনই ভাড়া তোলে চাঁদাবাজ

সিদ্ধিরগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি   

২ অক্টোবর, ২০২২ ১১:০৬ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সরকারি জায়গায় দোকান, প্রতিদিনই ভাড়া তোলে চাঁদাবাজ

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের পুল এলাকায় সড়ক ও ঢাকা-ডেমরা-নারায়ণগঞ্জ (ডিএনডি) প্রকল্পের জায়গা দখল করে শতাধিক দোকান বসিয়ে ভাড়ার নামে চাঁদা তোলা হচ্ছে। ফলে ওই এলাকায় প্রতিনিয়তই যানজটে আটকে পড়ে দুর্ভোগ পোহাতে হয় জনসাধারণকে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, বছরের পর বছর ধরে চাঁদাবাজরা সড়কটি দখল করে রাখলেও স্থানীয় প্রশাসন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে না।

গতকাল শনিবার সকালে সিদ্ধিরগঞ্জ পুল এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, সড়কের পাশেই রাস্তা বন্ধ করে ভ্যান গাড়ি আর অস্থায়ী দোকান বসিয়ে বিভিন্ন পণ্য বেচাকেনা চলছে।

বিজ্ঞাপন

সড়কটি ঘেঁষে ডিএনডি প্রকল্পের জায়গায় দোকান বসিয়েও দিব্যি ব্যবসা করছেন অনেক দোকানদার। দোকানিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সরকারি জায়গায় দোকানগুলো নির্মাণ করা হলেও স্থানীয় চাঁদাবাজদের প্রতিদিনই দোকানপ্রতি ১৫০ থেকে ২০০ টাকা দিতে হয়। এ ছাড়া সন্ধ্যার পর বৈদ্যুতিক বাতির বিল বাবদ ৩০ টাকা ও পানির বিল বাবদ আরো ২০ টাকা দিতে হয়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন এলাকাবাসী জানায়, সিদ্ধিরগঞ্জ পুল এলাকার বাসিন্দা সালাহউদ্দিন, কামরুল ইসলাম ও জয়নাল মিয়া ২০ থেকে ২৫টি দোকান বসিয়ে প্রতিটি দোকান থেকে দৈনিক ২০০-৩০০ করে টাকা তুলছেন। এ ছাড়া দেলোয়ার হোসেন দেলা, জয়নাল মিয়া (২)সহ কয়েকজনের চারটি থেকে ১০টি করে দোকান রয়েছে এখানে। প্রতিদিনই চাঁদা তুলছেন তাঁরা।

মাছ ব্যবসায়ী আবুল কালাম জানান, জয়নাল মিয়া মাছ, কাঁচাবাজার ও ফলের দোকান বসিয়ে প্রতিদিন ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা চাঁদা উত্তোলন করছেন দীর্ঘদিন ধরে।

কথা হয় সড়কের পাশে আখের রস বিক্রেতা বিল্লাল হোসেনের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘দোকান বসিয়েছি এককালীন ২০ হাজার টাকা দিয়ে। প্রতিদিন দোকান ভাড়া বাবদ ২০০ টাকা দিতে হয়। পানি ও বিদ্যুৎ বাবদ আলাদা টাকা দিতে হয়। এক দিন টাকা না দিলে পরদিন আর বসতে দেওয়া হয় না। তাই আমরা বাধ্য হয়ে চাঁদা দিয়েই দোকান চালাই। কী করব, ছেলেমেয়ে নিয়ে তো বেঁচে থাকতে হবে। ’

ফলের দোকানদার ফয়সাল মিয়া বলেন, ‘সরকারি জায়গায় দোকানদারি করলেও প্রতিদিন বিদ্যুৎ বিল, জায়গার ভাড়া ও পানির বিল মেটাতে হয়। এ কারণে আমাদের হাতে আর কিছুই থাকে না। খুব কষ্টে দিন কাটাচ্ছি। ’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে জয়নাল মিয়া কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমাদের মার্কেটের সামনে জায়গা খালি পড়ে থাকায় দোকান বসিয়ে ভাড়া তুলছি। সরকারের প্রয়োজন হলে এই জায়গা ছেড়ে দেব আমরা। ’

সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসি মশিউর রহমান বলেন, ‘পুলিশ পাঠিয়ে কয়েকবার এসব অবৈধ দোকান উচ্ছেদ করেছি। কিছুদিন পরই ফের দোকান বসে যায়। খুব শিগগির উচ্ছেদ অভিযান চালানো হবে। ’



সাতদিনের সেরা