kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১ নভেম্বর ২০২২ । ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ ।  ৬ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

যথাযথ সহযোগিতা পেলে

কক্সবাজারে পর্যটন বিনোদন কেন্দ্র গড়ে তুলবে বসুন্ধরা গ্রুপ

বিশেষ প্রতিনিধি, কক্সবাজার   

২ অক্টোবর, ২০২২ ০২:৫৪ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



কক্সবাজারে পর্যটন বিনোদন কেন্দ্র গড়ে তুলবে বসুন্ধরা গ্রুপ

বেশ জমে উঠেছে কক্সবাজার সাগরপাড়ের সপ্তাহব্যাপী পর্যটন মেলা ও বিচ কার্নিভাল। মেলায় আজ শনিবার অনুষ্ঠিত সেমিনারে বলা হয়েছে, উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে যথাযথ সহযোগিতা পেলে বসুন্ধরা গ্রুপ কম সময়েই কক্সবাজারে দৃশ্যমান বহুমাত্রিক পর্যটন বিনোদন কেন্দ্র গড়ে তুলবে। সেই সঙ্গে শনিবার মেলার পঞ্চম দিনে বিশেষ আকর্ষণ ছিল বিদেশিদের পরিবেশনায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

গত ২৭ সেপ্টেম্বর বিশ্ব পর্যটন দিবস উপলক্ষে আয়োজন করা হয়েছে সপ্তাহব্যাপী এমন জমকালো মেলা ও বিচ কার্নিভালের।

বিজ্ঞাপন

কক্সবাজার জেলা প্রশাসন ও বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটির উদ্যোগে আয়োজন করা হয়েছে মেলা ও বিচ কার্নিভাল। কক্সবাজারকে বিশ্বমানের পর্যটননগরী গড়তে ইতিমধ্যে মেলার অন্যতম পৃষ্ঠপোষক হিসেবে কাজ করছে দেশের শীর্ষ শিল্পপ্রতিষ্ঠান বসুন্ধরা গ্রুপ।

তার আগে মেলায় প্রতিদিনকার মতো বিষয়ভিত্তিক প্যানেল আলোচনাসভা (সেমিনার) অনুষ্ঠিত হয়। আজকের আলোচনার বিষয় ছিল- ‘পর্যটন শিল্প বিকাশে বেসরকারি উদ্যোগ : কক্সবাজার প্রেক্ষিত। ’ আলোচনায় বক্তারা সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি উদ্যোক্তাদের কক্সবাজারকে বিশ্বমানের পর্যটন নগরী হিসেবে সাজাতে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন।

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. মামুনুর রশীদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সেমিনারে আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান কমোডর মোহাম্মদ নুরুল আবছার, কক্সবাজার প্রেস ক্লাবের সভাপতি মো. আবু তাহের, কক্সবাজার সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ মোহাম্মদ সোলাইমান, বসুন্ধরা গ্রুপের জ্যেষ্ঠ মহাব্যবস্থাপক মো. আবু হেনা। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) বিভীষণ কান্তি দাশ।

বক্তারা বলেন, বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকতের কারণে দেশি-বিদেশি সব পর্যটকে জন্য আকর্ষণীয় স্থান কক্সবাজার। তাই প্রাকৃতিক এই সম্পদের সুরক্ষা এবং পর্যটকদের সুবিধার্থে নিতে হবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা। এ জন্য সরকারের পাশাপাশি এগিয়ে আসতে হবে বেসরকারি উদ্যোক্তাদেরকেও। তাহলেই পর্যটন শিল্পের বিকাশে কক্সবাজার হয়ে উঠবে অন্যতম মাধ্যম। প্যানেল আলোচনায় বক্তারা বলেন, পর্যটনশিল্প বিকাশে বিদেশিদের গুরুত্ব দেওয়াটা সবচেয়ে জরুরি। যেটি কক্সবাজারে বলতে গেলে একেবারেই নেই।

আলোচনায় অংশ নিয়ে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের-কউক চেয়ারম্যান কমোডর মোহাম্মদ নুরুল আবছার বলেন-‘কক্সবাজারকেই দেশের পর্যটন নগরীর রাজধানী বলা হয়। যেখানে পর্যটকই স্থানীয় অর্থনীতির মূল স্তম্ভ। এমনকি স্থানীয়দের অর্থনৈতিক পরিমণ্ডলও পর্যটককে ঘিরেই। ’ জেলা প্রশাসক মেলার আয়োজন নিয়ে বলেন, কক্সবাজারকে ব্র্যান্ডিং করাই হচ্ছে এ রকম মেলা আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য।  

দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্প উদ্যোক্তা এবং বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহানের বরাত দিয়ে গ্রুপটির জ্যেষ্ঠ মহাব্যবস্থাপক মো. আবু হেনা বলেন- ‘কক্সবাজারকে বিশ্বমানের একটি আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে বসুন্ধরা গ্রুপ বিনিয়োগে অত্যন্ত আগ্রহী। প্রকল্প বাস্তবায়নে যদি যথাযথ সহযোগিতা পাওয়া যায়, তাহলে অত্যন্ত কম সময়ের মধ্যেই বহুমাত্রিক পর্যটন বিনোদন প্রকল্প গড়ে তোলা সম্ভব। ’ তিনি এ জন্য সবার সহযোগিতা কামনা করেছেন।

আলোচনা শেষে অনুষ্ঠিত হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। যেখানে অংশ নেন বিদেশিরা। গান, সালসা নাচ দিয়ে দর্শক মাতান তারা। চার দিন ধরে স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ের শিল্পীরা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে আসছেন। বিদেশিদের নাচ-গান মেলায় এনেছে বৈচিত্র্য। এ জন্য দর্শকরাও বেজায় খুশি। সাপ্তাহিক ছুটির দিন হওয়ায় শনিবারের মেলায় প্রচুরসংখ্যক পর্যটকও অংশগ্রহণ করেন।



সাতদিনের সেরা