kalerkantho

শনিবার । ১০ ডিসেম্বর ২০২২ । ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ । ১৫ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

কক্সবাজারের পর্যটন মেলায় সচিব মোকাম্মেল হোসেন

অবৈধ স্থাপনার চাপ সহ্য করতে পারছে না সেন্ট মার্টিনস

বিশেষ প্রতিনিধি, কক্সবাজার   

১ অক্টোবর, ২০২২ ০১:২৫ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



অবৈধ স্থাপনার চাপ সহ্য করতে পারছে না সেন্ট মার্টিনস

কক্সবাজার সাগরপাড়ের পর্যটন মেলায় অনুষ্ঠিত এক সেমিনারে বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোকাম্মেল হোসেন বলেছেন, সেন্ট মার্টিনসে অপরিকল্পিত ভবন কখনোই গ্রহণযোগ্য নয়। এসব অবৈধ স্থাপনার চাপ সেন্ট মার্টিনস দ্বীপ সহ্য করতে পারছে না।

শুক্রবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় সৈকতের লাবণী পয়েন্টে পর্যটন মেলার প্যানেল ডিসকাশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। ‘সেন্ট মার্টিনসে ইকো ট্যুরিজম : চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা’ শীর্ষক সেমিনারে পর্যটনসচিব বলেন- সেন্ট মার্টিনসে যে হারে অপরিকল্পিত স্থাপনা নির্মাণ হচ্ছে তা পর্যটনের সঙ্গে যায় না।

বিজ্ঞাপন

এগুলো বন্ধ করার জন্য কাজ চলছে। ’

তিনি বলেন, সব কিছু বিবেচনায় রেখে আপাতত টেকনাফ ঘাট থেকে সেন্ট মার্টিনসের উদ্দেশ্যে জাহাজ চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. আমিন আল পারভেজের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এ সেমিনারে সচিব বলেন, কখন নাগাদ টেকনাফ ঘাট থেকে জাহাজ ছাড়বে তা জানানো হবে।

পর্যটনসচিব মো. মোকাম্মেল হোসেন আরো বলেন, ‘পর্যটননগরী কক্সবাজারকে নান্দনিকভাবে সাজাতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পরিকল্পনা রয়েছে। আবার কারো ক্ষতি করে তিনি উন্নয়ন করবেন না। তিনি বঙ্গবন্ধুর কন্যা। নিশ্চিত থাকতে পারেন, তিনি কারো ক্ষতি করে উন্নয়ন করবেন না। সব কিছু ইতিবাচক হলে তিনি উন্নয়নের সিদ্ধান্ত নেবেন। ’

সচিব বলেন, ‘পর্যটন খাতকে বিশ্বদরবারে তুলে ধরতে এই রকম পর্যটন মেলা প্রতিবছর করার জন্য চিন্তাভাবনা আছে। এমনকি সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে এ ধরনের মেলা বছরে দুইবারও করতে পারব আমরা। পর্যটনের জন্য কক্সবাজার অন্যতম একটি স্থান, এটিকে সুন্দরভাবে উপস্থাপন করা আমাদের সবার দায়িত্ব। ’

ছোটখাটো ঘটে যাওয়া ঘটনাকে তিলকে তাল না করে পর্যটন এলাকাকে প্রমোট করলে দেশি-বিদেশি পর্যটকে ভরপুর হবে কক্সবাজার- এমনটিও জানান বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব মোকাম্মেল হোসেন।

জেলা প্রশাসক মো. মামুনুর রশীদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো বক্তৃতা করেন পর্যটন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব সুকেশ কুমার সরকার, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় ধর্মবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট সিরাজুল মোস্তফা, রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির সভাপতি নইমুল হক চৌধুরী টুটুল, কক্সবাজার চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের প্রেসিডেন্ট আবু মোরশেদ চৌধুরী প্রমুখ।

গত ২৭ সেপ্টেম্বর বিশ্ব পর্যটন দিবস উপলক্ষে আয়োজন করা হয়েছে সপ্তাহব্যাপী পর্যটন মেলা ও বিচ কার্নিভাল। আগামী ৩ অক্টোবর মেলা শেষ হবে। কক্সবাজার জেলা প্রশাসন ও বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটি আয়োজিত মেলার গতকাল শুক্রবার ছিল চতুর্থ দিন। প্রতিদিনই পর্যটকদের পাশাপাশি স্থানীয়দেরও প্রচুর ভিড় থাকে। এই মেলাটি ভ্রমণপিপাসু পর্যটকদের বিনোদনের বাড়তি খোরাক হয়ে দাঁড়িয়েছে। মেলায় বসেছে দুই শতাধিক স্টল।  

শুক্রবার ও শনিবার দুই দিন সরকারি ছুটির দিন হওয়ায় মেলায় উপচেপড়া ভিড় রয়েছে। সাগর পাড়ের এ মেলায় স্টলগুলোর বাহারি সৌন্দর্য, লাইটিং, ডিজাইন, জমকালো বর্ণিল সাজে দীর্ঘ এলাকায় বসেছে যেন পর্যটকের মিলনমেলা। সন্ধ্যার পর স্থানীয় ও জাতীয় শিল্পীদের গানের মনোমুগ্ধকর পরিবেশনায় আগত পর্যটকদের মাঝে বাড়তি আনন্দ যোগ হয়েছে।

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. মামুনুর রশীদ জানিয়েছেন, ‘দেশের প্রধান পর্যটন কেন্দ্র কক্সবাজারকে ব্র্যান্ডিং করতে চাই আমরা। সেই সঙ্গে কক্সবাজারের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে বিশ্বের কাছে তুলে ধরাই আমাদের অন্যতম উদ্দেশ্য। ’ 

তিনি আশা করছেন, এখন থেকে প্রতিবছরের বিশ্ব পর্যটন দিবসের দিন থেকে সপ্তাহব্যাপী এ মেলা অনুষ্ঠিত হবে সাগর পাড়ের লাবণী পয়েন্টে। প্রসঙ্গত দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্পপ্রতিষ্ঠান বসুন্ধরা গ্রুপ কক্সবাজারের পর্যটন মেলার অন্যতম সহযোগী (স্পন্সর)।



সাতদিনের সেরা