kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৯ নভেম্বর ২০২২ । ১৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ ।  ৪ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

মায়ের কোলে থেকেও বেঁচে যায় দিপু, চিতায় মা-নিখোঁজ বাবা

পঞ্চগড় প্রতিনিধি   

৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২২ ২১:৪৮ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মায়ের কোলে থেকেও বেঁচে যায় দিপু, চিতায় মা-নিখোঁজ বাবা

বাবা ভুপেন্দ্রনাথের সাথে মা রূপালী রানীর কোলে চেপে তিন বছরের ছোট্ট শিশু দিপু যাচ্ছিলো মহালয়া অনুষ্ঠানে যোগ দিতে। গত রবিবার পঞ্চগড়ের আউলিয়ার ঘাটে ভয়াবহ নৌকাডুবিতে বেঁচে যায় দিপু। মা রূপালী ফেরেন লাশ হয়ে। বাবা ভুপেন্দ্রনাথের এখনো খোঁজ মেলেনি।

বিজ্ঞাপন

ছোট্ট দিপু এখনও জানে তার বাবা তার জন্য মন্দিরে খেলনা আনতে গেছে। এই পরিবারের সদস্যরা গৃহবধূকে চিতায় তুলে দিয়ে এখন ভুপেনের মরদেহের জন্য প্রতিক্ষা করছেন। শিশু দিপুর প্রতিক্ষা বাবা ফিরবেন খেলনা নিয়ে।  

ভুপেন্দ্রনাথের বাড়ি জেলার দেবীগঞ্জ উপজেলার শালডাঙ্গা ইউনিয়নের ছত্রশিকারপুর হাতিডুবা এলাকায়। সেখানে অন্যের জমিতে বাস করতেন তিনি। বৃদ্ধ দাদা দাদিসহ সাত সদস্যের সংসারের চাকা টানতেন এই ভুপেন। বাবা মাকে হারিয়ে দিপু, তার বড় ভাই সপ্তম শ্রেণি পড়ুয়া পরিতোষ ও এসএসসি পরীক্ষার্থী দিপন রায়ের ভবিষ্যত এখন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। ভুপেনের বাবা মদন কুমার ও মা লক্ষ্মী রানী ছেলেকে হারিয়ে নির্বাক হয়ে গেছেন।  

প্রতিবেশি ইসমাইল হোসেন বলেন, খুব কষ্ট করে সংসার চালাতো ভুপেন। দুই ছেলে স্কুলে পড়ে। ছোট শিশুটি এখনো কিছু বোঝে না। তিন ভাই এখন এতিম হয়ে গেলো। সংসারটি এখন কিভাবে চলবে।

ভুপেনের ছেলে দিপন জানায়, 'ছোট ভাই দিপুকে নিয়ে বাবা মা মহালয়ায় যাওয়ার জন্য বের হয়। নৌকাডুবিতে নিখোঁজ হয় তিনজনই। বিকেলে আমার ছোট ভাই দিপুকে খুঁজে পাই আশঙ্কাজনক অবস্থায় প্রথমে দেবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও পরে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরদিন কিছুটা সুস্থ হলে তাকে বাড়ি আনা হয়। ঘটনার পরদিন আমার মায়ের মরদেহ পাই। কিন্তু এখনো বাবার কোন খোঁজ পাওয়া গেলো না। দিপু এখনো বাবা খেলনা নিয়ে আসবে বলে অপেক্ষা করছে। তাকে কিছুতেই বোঝাতে পারছি না। তারা আর আমাদের মাঝে নেই। এখন বাবার লাশ পেলে সৎকার করতে পারতাম। ' 

দিপুর দাদি লক্ষ্মী রানী বলেন, 'মোর বাপধন হামার তানে কি না কইছে। সংসারের বোঝাখান একলায় টানে লিছে। মোর বুকখান খালি হইয়া গেইল। এলাও মোর ছুয়াটাক খুঁজে পাওয়া গেইল নাই। তোমরা মোর ছুয়াটাক আনি দাও,মুই শেষ দেখা দেখিম। ' 

পঞ্চগড় জেলা প্রশাসক মো. জহুরুল ইসলাম বলেন, 'নৌকাডুবিতে যেসব পরিবারের কর্মক্ষম ব্যক্তিটিকে হারিয়েছেন আমরা তাদের তালিকা প্রস্তুত করছি। তাদের পুনর্বাসনের জন্য যা যা করা দরকার আমরা করবো। '  



সাতদিনের সেরা