kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৯ নভেম্বর ২০২২ । ১৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ ।  ৪ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

ময়মনসিংহের চার মাদরাসাছাত্র নিখোঁজের পেছনে রহস্য কী?

আঞ্চলিক প্রতিনিধি, ময়মনসিংহ   

৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২২ ১৯:৩৫ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ময়মনসিংহের চার মাদরাসাছাত্র নিখোঁজের পেছনে রহস্য কী?

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ ও নান্দাইলের বিভিন্ন মাদরাসা ও একটি বিদ্যালয়ের চার ছাত্র দীর্ঘদিন ধরে নিখোঁজ রয়েছে। দিন, মাস ও বছর পেরিয়ে গেলেও সন্ধান মিলেনি তাদের। এতে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় রয়েছে তাদের পরিবার। এ ব্যাপারে পরিবারের লোকজন থানায় সাধারণ ডায়েরিও করেছেন।

বিজ্ঞাপন

পুলিশ বলছে তাদের উদ্ধারে সর্বাত্মক চেষ্টা চালানো হচ্ছে।

নিখোঁজ ছাত্ররা হলো ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার সরিষা ইউনিয়নের গুইলাকান্দা গ্রামের মো. ওমর ফরুকের ছেলে রিসান মিয়া (১৩), একই উপজেলার সোহাগি ইউনিয়নের তারাকান্দি গ্রামের মো. দুলাল মিয়ার ছেলে মো. তামিম মিয়া (১৪) ও মগটুলা ইউনিয়নের মধুপুর নয়াপাড়া গ্রামের আবু রায়হানের ছেলে ইয়াহিয়া মাহমুদ (১৫)। অন্যদিকে নান্দাইল ইউনিয়নের ভাটি সাভার এলাকার একটি মাদরাসার ছাত্র মো. মজিবুর রহমানের ছেলে মো. আসিফ মিয়া (১৭) ও চরবেতাগৈর ইউনিয়নে কামরুল ইসলামের ছেলে রিমন মিয়া (১০)। তারা দুই উপজেলার ভিন্ন ভিন্ন মাদরাসা ও একটি বিদ্যালয়ের ছাত্র বলে জানা গেছে।

নিখোঁজ হওয়া রিসানের বাবা মো. ওমর ফারুক জানান, তাঁর ছেলে গত ২০ আগস্ট বাড়ি থেকে বের হয় পাশের সরিষা ডেকুয়ারচর দাখিল মাদরাসায় যায়। মদরাসায় সে পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ে। এরপর আর বাড়ি ফিরেনি। পরে তিনি থানায় জিডি করেন। গত প্রায় এক মাসের ওপরে হয়ে গেলেও এখনো কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

এদিকে সোহাগি ইউনিয়নের ছোট তারাকান্দি গ্রামের দুলাল মিয়া জানান, তাঁর ছেলে ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার ঐতিহ্যবাহী ইসলামপুর মাদরাসায় পড়ত। গত ১৫ আগস্ট নিখোঁজ হয়। পরে জানা যায় মাদরাসায় এক সময় পড়ালেখা করত পাশের খানপুর গ্রামের শাহাব উদ্দিনের ছেলে শুভ মিয়া। সেই তামিমকে নিয়ে গেছে। এরপর থেকে শুভর মোবাইল বন্ধ।

দুলাল মিয়া আরো বলেন, এর আগেও শুভ অনেক ছাত্রকে নিয়ে গেছে বলে অনেক অভিভাবক জানেয়েছেন। সেই ছাত্ররা আর বাড়িতে ফিরে আসেনি। তিনি দ্রুত তাঁর ছেলেকে ফেরত চান।

এ ছাড়া গত ৩৭ দিন ধরে নিখোঁজ রয়েছে মগটুলা ইউনিয়নের মধুপুর নয়াপাড়া গ্রামের আবু রায়হানের ছেলে ইয়াহিয়া মাহমুদ (১৫)। তার সন্ধানও পাওয়া যাচ্ছে না। অন্যদিকে নান্দাইল উপজেলার দাতারাটিয়া গ্রামের মো. এমদাদুল হক ফকির জানান, তাঁর ভাগিনা রিমন মিয়া। গত প্রায় তিন বছর আগে বীরখামাটখালি একটি কওমী মাদরাসা থেকেই নিখোঁজ হয়। এরপর বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুজি করলেও কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। নান্দাইল উপজেলার নান্দাইল ইউনিয়নের ভাটি সাভার গ্রামের একটি মাদরাসায় পড়ত রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার মুজিবুর রহমানের ছেলে মো. আসিফ মিয়া। গত প্রায় দুই মাস আগে সেও নিখোঁজ হয়। এখনো তার খোঁজ পাওয়া যায়নি।

এ ব্যাপারে ঈশ্বরগঞ্জ থানার ওসি পীরজাদা মোস্তাছিনুর রহমান জানান, নিখোঁজ হওয়া ছাত্রদের প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।

নান্দাইল থানার ওসি মিজানুর রহমান আকন্দ জানান, নিখোঁজ হওয়া পরিবারের লোকজন থানার সহায়তা চাইলে সার্বিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।



সাতদিনের সেরা