kalerkantho

রবিবার । ৪ ডিসেম্বর ২০২২ । ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ । ৯ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

সন্তানের পিতৃপরিচয় ও স্বামীর অধিকার আদায়ের দাবিতে সুমি আক্তার

কলাপাড়া (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি   

২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২২ ২২:৩৯ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



সন্তানের পিতৃপরিচয় ও স্বামীর অধিকার আদায়ের দাবিতে সুমি আক্তার

সন্তানের পিতৃপরিচয় ও স্বামীর অধিকার আদায়ের দাবিতে সুমি আক্তারের সংবাদ সম্মেলন। ছবি- কালের কণ্ঠ।

বিয়ে করে ঘর-সংসার করার পর মো. বশির হাওলাদার তার স্ত্রী মোসা. সুমি আক্তার ও তার গর্ভের সন্তানকে অস্বীকার করার সঙ্গে সঙ্গে নানা অপবাদ, হয়রানিমুলক মামলা এবং জীবন নাশের হুমকি প্রদান করে আসছিলেন। এ অবস্থায় সুমি আক্তার বশির হাওলাদারের স্ত্রীর স্বীকৃতি এবং ছয় বছরের পুত্র স্বাধীন হাওলাদারের পিতার অধিকার আদায়ের দাবিতে সাংবাদ সম্মেলন করেছেন।

আজ বুধবার দুপুরে কলাপাড়া প্রেস ক্লাবের ইঞ্জিনিয়ার তৌহীদুর রহমান মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সাংবাদিক সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে মোসা. সুমি আক্তার জানান, বালিয়াতলী ইউনিয়নের বৌদ্ধপাড়া গ্রামের আলাউদ্দিন ফকির ও হাজেরা খাতুন দম্পতির দুই ছেলে, চার কন্যার মধ্যে তিনি সবার ছোট। ২০০৯ সালে লেখাপাড়ার জন্য পৌরশহরের নেছারউদ্দিন সিনিয়র মাদ্রাসায় ভর্তি হন।

বিজ্ঞাপন

তিনি জানান, মাদরাসায় ভর্তির পর তার ওপর নজর পড়ে টিয়াখালী ইউনিয়নের পশ্চিম বাদুড়তলী গ্রামের ময়জ উদ্দিন হাওলাদারের পুত্র মো. বশির উদ্দিন হাওলাদারের। তখন নানা কৌশলে বশির তার প্রথম বিয়ের তথ্য গোপন করে ২০১২ সালে ধর্মীয় রীতিনীতি অনুযায়ী বিয়ের বন্ধনে আবদ্ধ হন তার সাথে। পরে ওই বছরের ০৫ জানুয়ারি মাসে ঢাকা মতিঝিলের একটি কাজী অফিসে গিয়ে পাঁচ লাখ টাকা কাবিননামার মাধ্যমে বৈবাহিক অবস্থা পাকাপোক্ত করে ঘর সংসার করতে শুরু করেন।

তিনি আরো জানান, ২০১৬ সালে গর্ভবতী হওয়ার পর তিনি নিশ্চিত হতে পারেন যে, বশিরের প্রথম স্ত্রী রয়েছে। পরে বশির ও তার পরিবারের পক্ষ থেকে সুমিকে স্ত্রীর পরিচয় এবং গর্ভের সন্তানকে অধিকার বঞ্চিত করার পাঁয়তারা শুরু করা হয়। গর্ভের সন্তান এবং তাকে নানা রকম অপবাদ দিয়ে এবং বিপুল পরিমাণের অর্থের মাধ্যমে অধিকার বঞ্চিত করার জন্য সকল প্রক্রিয়া চালায়। '

সুমি জানান, তাদের সকল অপচেষ্টা ধূলিসাৎ হয় তৎকালীন টিয়াখালী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. মশিউর রহমান শিমুর যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে তার স্বামী এবং গর্ভের সন্তানের পৈত্রিক পরিচয়ের রিপোর্ট প্রদান করায়। এরপর তিনি স্বামীর অধিকার আদায়ের জন্য পটুয়াখালী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল আদালতে ২০১৬ সালে একটি মামলা দায়ের করেন। '

ছবি- স্বামী মো. বশির হাওলাদারের সাথে মোসা. সুমি আক্তার।

তিনি আরো জানান, মামলা চলাকালীন গর্ভের সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়ায় তার নাম রাখা হয় মো. স্বাধীন হাওলাদার। এরপর মামলাটির চার্জ গঠন হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মো. বশির হাওলাদার হাইকোর্ট থেকে আগাম জামিন নিয়ে আসে। একই সঙ্গে হাইকোর্ট উক্ত মামলায় ২০২০ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর স্বামীর এবং পুত্রের অধিকার আদায়ের জন্য রায় প্রদান করেন এবং নিম্ন আদালতে শিশুপুত্রের খোরপোষের জন্য অভিযোগ দায়েরের নির্দেশ প্রদান করে। এরপর মো. বশির উদ্দিন হাওলাদার ও তার সহযোগীরা আমাদের অধিকার বঞ্চিত করার পাঁয়তারা শুরু করে ২০ লাখ টাকার বিনিময়ে।

একই সঙ্গে ওই মামলার আদেশসহ মামলার অগ্রগতির কার্যক্রমটি স্থবির অবস্থায় পড়ে আছে বিধায় পরবর্তী কার্যক্রম নিতে পারছেন না বলে হতাশা ব্যক্ত করেন অধিকার বঞ্চিত মোসা. সুমি আক্তার।

সংবাদ সম্মেলনে সুমি আরো বলেন, 'এখন আমাকে এবং আমার সন্তানকে হত্যাসহ নানাধরনের হুমকি প্রদান করায় জীবন ও সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তায় ভুগছি। '

তিনি আরো জানান, কিডনি এবং লিভারের রোগে ভুগছেন তিনি। তার ছেলে স্বাধীনের বয়স বর্তমানে ছয় বছর চলছে।  পিতৃপরিচয়হীনভাবে জীবনযাপন করছে স্বাধীন আর বিদ্যালয়ে বাবার পরিচয়ে ভর্তি হতে না পেরে শিক্ষা কার্যক্রম থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

স্বামীর অধিকার এবং একমাত্র পুত্রের পিতৃপরিচয় ও অধিকার নিশ্চিত হওয়ার জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহায়তা কামনা করছেন সুমি।

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত মো. বরিশর উদ্দিন হাওলাদার সাংবাদিকদের জানান, এ বিষয়ে তিনি কোনো কথা বলতে পারবেন না। এ ঘটনায় আদালতে মামলা চলমান রয়েছে।



সাতদিনের সেরা