kalerkantho

রবিবার । ৪ ডিসেম্বর ২০২২ । ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ । ৯ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

মাদরাসা অধ্যক্ষের নিয়োগ বাণিজ্য : স্ত্রীকেও ক্লার্ক পদে নিয়োগ

আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি   

২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২২ ২১:৫৬ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মাদরাসা অধ্যক্ষের নিয়োগ বাণিজ্য : স্ত্রীকেও ক্লার্ক পদে নিয়োগ

বরগুনার তালতলীতে একটি মাদরাসায় মোটা অংকের টাকার বিনিময় অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে গোপনে নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ পাওয়া গেছে। মাদরাসা পরিচালনা কমিটির দুই তৃতীয়াংশ সদস্য সাংবাদিকদের কাছে এমন অভিযোগ করেন।

অভিযোগে জানা যায়, উপজেলার তালতলী ছোট ভাইজোড়া ছালেহিয়া আলিম মাদরাসায় অফিস সহকারী কাম-কম্পিউটার অপারেটর ২টি, অফিস সহকারী কাম-হিসাব সহকারী ১টি ও নৈশ প্রহরী ১টি পদ শুন্য রয়েছে। শুন্য থাকা ৪টি পদের ১টিতে অধ্যক্ষের স্ত্রীকে নিয়োগ দেওয়া ও বাকি ৩টি পদে নিয়োগ দেওয়ার জন্য প্রায় ২০ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন মাদরাসার অধ্যক্ষ মাও. আবু জাফর মোহাম্মদ সালেহ।

বিজ্ঞাপন

মোটা অংকের টাকা নিয়ে নিয়োগ দেওয়ার ঘটনাটি অনেকটা জানাজানি হলে গোপনে তিনি নাম সর্বস্ব একটি পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দিয়ে প্রায় ২২ দিন পূর্ব থেকেই গাঁ ঢাকা দিয়েছেন।

নিয়োগ প্রক্রিয়া মতে গত ২৬ সেপ্টেম্বর মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের ওয়েব সাইটে মহাপরিচালক কে. এম. রুহুল আমিন স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে ডিজি প্রতিনিধি হিসাবে মাহফুজা ইয়াসমিন সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) নিয়োগের তথ্য প্রকাশ হয়। এতে এলাকার লোকজনসহ মাদরাসা পরিচালনা কমিটির সদস্যরা চমকে ওঠেন।

মাদরাসার উপাধ্যক্ষ আবুল কালাম বলেন, মাদরাসা পরিচালনা কমিটিতে অধ্যক্ষ বাদে বাকী ৫ জন সদস্যের মধ্যে আমরা ৪ জনই এ নিয়োগের কোনো খবর জানি না। মাদরাসার রেজুলেশন বহি আমার কাছে। এতে নিয়োগ সংক্রান্ত কোনো রেজুলেশন হয়নি।

মাদরাসা পরিচালনা কমিটির সদস্য আ. সালাম বলেন, নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে জানা গেছে, অধ্যক্ষ সাহেব প্রায় ২০ লক্ষ টাকা নিয়ে ৩টি পদে ও তার স্ত্রীকে ১টি পদে গোপনে নিয়োগ দেওয়ার পাঁয়তারা চালাচ্ছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। অধ্যক্ষ যদি একাই নিয়োগ দিতে পারেন তাহলে সরকার প্রতিষ্ঠানে কি জন্য পরিচালনা কমিটি গঠন করেছে তা আমার বোধগম্য নয়।

মাদরাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো. আলী আকবর হাওলাদার মুঠোফোনে বলেন, আমি এবার মাদরাসায় সভাপতি হওয়ার পরে নতুন কোনো নিয়োগের জন্য রেজুলেশন বহিতে স্বাক্ষর করিনি। আর নিয়োগের বিষয়ে অধ্যক্ষ সাহেব আমার সাথে কোনো আলোচনাও করেনি এবং সভাও ডাকেননি।  

এদিকে গোপনে নিয়োগের বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর থেকে গত ২২ দিন (৬ থেকে ২৮ সেপ্টেম্বর) ধরে মাদরাসার অধ্যক্ষ আবু জাফর মোহাম্মদ সালেহ মাদরাসায় আসছেন না এবং হাজিরা খাতায়ও স্বাক্ষর করেননি বলে মাদরাসা কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে মাদরাসার অধ্যক্ষ আবু জাফর মোহাম্মদ সালেহর ব্যবহৃত মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন দিলেও ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।



সাতদিনের সেরা