kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৮ ডিসেম্বর ২০২২ । ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ । ১৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

একটি সেতুর অপেক্ষায় পঞ্চগড়বাসীর বিসর্জন

পঞ্চগড় প্রতিনিধি   

২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২২ ১২:১৬ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



একটি সেতুর অপেক্ষায় পঞ্চগড়বাসীর বিসর্জন

পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার মাড়েয়া বামনহাট ইউনিয়নের আউলিয়ার ঘাট। ঘোড়ামারা ও করতোয়া নদীর মিলনস্থানে এই ঘাট অবস্থিত। করতোয়া নদীর ঘাটগুলোর মধ্যে এটি অন্যতম। প্রতিদিন এই ঘাট দিয়ে নৌকাযোগে নদী পারাপার করে কয়েক হাজার মানুষ।

বিজ্ঞাপন

সরকারিভাবে বার্ষিক ডাক হয় আউলিয়ার ঘাট। এবার ঘাটটি জেলা পরিষদের নিলাম বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ইজারা নেন আব্দুর রাজ্জাক নামের একজন। রাজ্জাক ইজারা নিলেও বড়শশী ইউনিয়নের ইউপি সদস্য তারা মিয়া এর সব কাজ করেন।  

জেলার সব ঘাটের মধ্যে এই ঘাট দিয়ে যাতায়াতকারী মানুষের সংখ্যা অপেক্ষাকৃত  অনেক বেশি। পূর্ব পাড়ে বড়শশী, চিলাহাটি, টেপ্রিগঞ্জ এবং পশ্চিম পাড়ে মাড়েয়া, শালডাঙ্গা, সাকোয়া, চন্দনবাড়ি, পাঁচপীর, বোদা ইউনিয়নের মানুষ দৈনিক নদী পার হয়ে গন্তব্যে পৌঁছয়। জনপ্রতি ভাড়া ১০ টাকা। এ ছাড়া সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম পূজনীয় স্থান বোদেশ্বরী পীঠ মন্দির। পূজা-পার্বণে এই মন্দিরে পঞ্চগড়সহ আশপাশের এলাকার আট থেকে ১০ হাজার মানুষের সমাগম হয়। পশ্চিম পাড় থেকে আউলিয়ার ঘাট পার হয়ে যেতে হয় পূর্ব পাড়ের বোদেশ্বরী মন্দিরে। যাওয়া-আসার একমাত্র বাহন নৌকা। এই স্থানটিতে একটি সেতু নির্মাণের দাবি দুই পারের লাখো মানুষের। কিন্তু আশ্বাসেই কেটে গেছে বহু বছর।  

বর্ষাকালে করতোয়া হয়ে ওঠে ভয়াবহ। ঝুঁকি নিয়ে নদী পারাপার হতে হয় নারী-শিশুসহ সবাইকে।  

বড়শশী ইউনিয়নের বাসিন্দা খাজা রহমান বলেন, ‘আমি প্রতিদিন এই ঘাট দিয়ে যাতায়াত করি। বড়শশী থেকে নদী পার হয়ে মাড়েয়ার দূরত্ব তিন থেকে চার কিলোমিটার। আর সড়কপথে দূরত্ব ১৮ কিলোমিটার। তাই আমরা বেশির ভাগ সময় নৌকায় করে গন্তব্যে যাই। কিন্তু পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে মারাত্মক দুর্ভোগ পোহাতে হয়। ’

আসাদুল ইসলাম নামে স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, ‘সরকার যায়, সরকার আসে, আশ্বাসে আশ্বাসে আমাদের বছর পার হয়। একটা সেতু থাকলে আজ এতগুলো প্রাণহানি হতো না। মানুষকে ঠেলাঠেলি করে নৌকায় উঠতে হতো না। কয়েক দিন পর পর নেতারা আসেন আর বলেন, কিছুদিনের মধ্যেই কাজ হবে। তারপর কী হয় আমরা আর জানতে পারি না। ’

আম্বিয়া বেগম বলেন, ‘নৌকায় উঠতে ভয় হয়। তার পরও প্রয়োজনের তাগিদে নৌকা দিয়েই পার হতে হয়। ’

আব্দুস সাত্তার বলেন, ‘এতগুলো প্রাণ গেল তবু যদি সরকারের বোধোদয় হয়। এবার আমরা আর আশ্বাস চাই না। শিগগিরই যেন একটি সেতু নির্মাণ করা হয়। ’ 

প্রত্যক্ষদর্শী রেজামুল ইসলাম বলেন, ‘দুটো নৌকা দিয়ে মানুষ পারাপার করা হচ্ছিল। নৌকার তুলনায় মানুষ ছিল কয়েক গুণ বেশি। নৌকাটিতে ধারণক্ষমতার দ্বিগুণ মানুষ তোলা হয়েছিল। তাই মাঝনদীতে গিয়ে নৌকাটি উল্টে যায়। মানুষগুলো মাছের মতো ভাসতে থাকে। তাড়াহুড়া করতে গিয়ে আজ এতগুলো প্রাণ গেল। ’

এ বিষয়ে রেলপথ মন্ত্রী মো. নূরুল ইসলাম সুজন বলেন, ‘আউলিয়ার ঘাটে ওয়াই ব্রিজ নির্মাণের জন্য একটি প্রকল্প একনেকে পাস হয়েছে। এখন নকশা প্রণয়নের কাজ চলছে। নকশা হয়ে গেলে টেন্ডারের মাধ্যমে কাজ শুরু করা যাবে। তখন এভাবে কষ্ট করে নৌকায় মানুষকে পারাপার হতে হবে না। ’



সাতদিনের সেরা