kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৮ ডিসেম্বর ২০২২ । ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ । ১৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

দিপালীর আর কেউ রইল না!

পঞ্চগড় প্রতিনিধি   

২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২২ ১০:৫৬ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



দিপালীর আর কেউ রইল না!

পাগলপ্রায় দীপালি, স্বজন-প্রতিবেশীরা তার দুঃখ মোছার চেষ্টার করছেন

বোধন থেকে বিসর্জন―স্বামী আর একমাত্র ছেলেকে নিয়ে বেশ আনন্দ উৎসবের মধ্য দিয়ে এবারের দুর্গাপূজা পালনের ইচ্ছা ছিল গৃহবধূ দিপালীর। স্বামী অমল চন্দ্র রায় ও ছেলে দীপঙ্কর রায়কে নিয়ে তিনজনের সংসার তার। দরিদ্র দিনমজুর পরিবার হলেও সুখেই কাটছিল তাদের দিন। পূজা উপলক্ষে এরই মধ্যে কেনাকাটাও করেছেন।

বিজ্ঞাপন

কিন্তু মাকে ভাসানের আগে তার স্বামী আর একমাত্র সন্তান ভেগে গেল পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলা মাড়েয়া বামনহাট ইউনিয়নের আউলিয়ার ঘাট এলাকায়।  


ছেলে দীপঙ্কর রায়

করতোয়ায় অন্যদের মতো তার সংসারের খুঁটি আর ভবিষ্যৎ দুটিই ভেসে গেল। রবিবার (২৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে স্বামী আর সন্তানকে সাজিয়ে পাঠিয়েছিলেন বোদেশ্বরী পীঠ মন্দিরে। বিধাতার নির্মম পরিহাসে ভেঙেছে তার হাতের শাঁখা, মুছেছে কপালের সিঁদুর। নেই বেঁচে থাকার একমাত্র অবলম্বনও। রবিবার নৌকাডুবির পর রাতে তার স্বামী অমলের মরদেহ পাওয়া যায়। রাতেই তার সৎকার সম্পন্ন হয়। কিন্তু ছেলে দীপঙ্করকে পাওয়া যাচ্ছিল না। পরদিন সোমবার দুপুরে ঘটনাস্থল থেকে চার-পাঁচ কিলোমিটার দূরে মেলে তার ছেলের মরদেহ। দিপালীর কপালে সুখ সইল না। দুঃখের ঘট ছায়া এখন তার শূন্য পরিবারে। সংসারে কেউ রইল না তার।  


স্বামী অমল চন্দ্র রায়ের সঙ্গে দীপালি

দিপালী বলেন, ‘আমি কী নিয়ে বাঁচব বলেন। আমার স্বামী নেই। আমার একমাত্র সন্তানও নেই। আহা, কত স্বপ্ন ছিল একসাথে পূজা করব। পূজা এসেছে তাই আমার ছেলের কত  আনন্দ। কেবল স্থানীয় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ে। ওকে নিয়ে আমার আকাশ সমান স্বপ্ন ছিল। সব শেষ হয়ে গেল নৌকাডুবিতে। ’ 



সাতদিনের সেরা