kalerkantho

শনিবার । ৩ ডিসেম্বর ২০২২ । ১৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ । ৮ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

তমব্রু-টেকনাফ সীমান্ত নীরব, দূরেই গুলির শব্দ

জাকারিয়া আলফাজ, তমব্রু থেকে    

২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২২ ২২:৪১ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



তমব্রু-টেকনাফ সীমান্ত নীরব, দূরেই গুলির শব্দ

বান্দরবান জেলার নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম ইউনিয়নের তমব্রু সীমান্তের ওপারে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে পূর্বাঞ্চলের দিকে গুলির শব্দ শোনা গেছে। তবে বাংলাদেশ সীমান্তের কাছাকাছি মর্টারের বিকট শব্দ বন্ধ হয়েছে। এতে তমব্রু সীমান্ত এলাকার বাসিন্দাদের মাঝে অনেকটা স্বস্তি দেখা গেছে। তমব্রু এলাকার মানুষের আতঙ্কও অনেকটা কেটে গেছে।

বিজ্ঞাপন

একইভাবে মঙ্গলবার (২৭ সেপ্টেম্বর) সারা দিন উখিয়া ও টেকনাফ সীমান্তেও মিয়ানমারের ওপারে গোলাগুলির বিকট শব্দ শোনা যায়নি।  

তমব্রু সর্বজনীন দুর্গামন্দির কমিটির সভাপতি রূপলা ধর জানান, আগামী ১ অক্টোবর থেকে দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হচ্ছে। ভেবেছিলাম মর্টার আর গোলাগুলির শব্দে আতঙ্কের মধ্যে পূজা হবে। কিন্তু গত কয়েক দিন ধরে মর্টারের বিকট শব্দ বন্ধ হওয়াতে হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা স্বাচ্ছন্দ্যে পূজা পালন করতে পারবে বলে আশা করছি।

তমব্রু ভাজাবনিয়া সীমান্ত এলাকার বাসিন্দা শামসুল আলম বলেন, ‘মিয়ানমারের অভ্যন্তরে গুলির আওয়াজ অনেক দূরে শোনা যায়। আগের মতো কাছ থেকে গোলাগুলির বিকট আওয়াজ শোনা যায় না। তবে আমরা চাচ্ছি সীমান্তের কাছাকাছি তাদের সংঘর্ষ বন্ধ হোক। তাতে আমরা নিরাপদে থাকতে পারব। ’

তমব্রু উত্তর পাড়ার এসএসসি পরীক্ষার্থী নুর জাহান বলে, ‘গত কয়েক দিন সীমান্তে গোলাগুলি ও মর্টারের বিকট শব্দে আমাদের লেখাপড়ায় ব্যাপক ব্যাঘাত ঘটে। এখন গুলির শব্দ না থাকায় গত কয়েক দিন পড়তে পেরেছি। ’ 

তমব্রু সীমান্তের নো ম্যানস ল্যান্ডে বসবাসকারী রোহিঙ্গা আজম উল্লাহ বলেন, ‘চার দিন ধরে তমব্রু সীমান্তে মিয়ানমারের ওপারে গোলাগুলি বন্ধ রয়েছে। গত রাতে মিয়ানমারের পূর্ব দিকে অর্থাৎ সীমান্ত থেকে একটু দূরে বেশ কয়েকটি গুলির শব্দ শোনা গেছে। তবে তা আগের মতো বিকট শব্দে না। আমরা আশা করছি সীমান্তের কাছাকাছি গোলাগুলির শব্দ বন্ধ হবে। কারণ সীমান্তের খুব কাছে যখন মর্টারের আওয়াজ শোনা যায় তখন সবার থেকে আমরা যারা শূন্যরেখায় থাকি, তারাই বেশি আতঙ্কে থাকি। ’

আজম উল্লাহ আরো বলেন, ‘যেখান থেকে এখন গুলির শব্দ আসে তাতে মনে হয় সংঘর্ষ এখন সীমান্ত থেকে একটু পূর্ব দিকে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে চলছে। এ ছাড়া জান্তাবিরোধী সশস্ত্র বিদ্রোহীরাও দক্ষিণে মংডুর দিকে অগ্রসর হচ্ছে বলে শুনেছি। ’ 

এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কক্সবাজারের টেকনাফ হোয়াইক্যং সীমান্তে গত সোমবার সারা দিন গোলাগুলির শব্দ শোনা গেলেও মঙ্গলবার এপার সীমান্তের কোথাও গোলাগুলির শব্দ শোনা যায়নি।  

হোয়াইক্যং ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নুর আহমদ আনোয়ারী বলেন, ‘গত সোমবার আমার ইউনিয়নের খারাংঘাঘোনা ও উলুবনিয়া সীমান্তে গুলির শব্দ শোনা গিয়ছিল। কিন্তু গতকাল কোথাও গুলির শব্দ শোনা গেছে বলে শুনিনি। তবে পরিস্থিতি যা-ই হোক, আমরা উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশনা মোতাবেক পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রস্তুত আছি। পরিস্থিতি দেখে অবস্থা বেগতিক হলে সীমান্তবর্তী বসবাসরত পরিবারগুলো সরানোসহ স্থানীয় জনগণের নিরাপত্তার সব ব্যবস্থা করা হবে। ’ 



সাতদিনের সেরা