kalerkantho

শুক্রবার । ৯ ডিসেম্বর ২০২২ । ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ । ১৪ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

১৮ বছর পূর্বের সভাপতি ও সম্পাদককে বহাল, নতুন পদপ্রত্যাশীদের ক্ষোভ

বামনা (বরগুনা) প্রতিনিধি   

২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২২ ২২:৩৩ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



১৮ বছর পূর্বের সভাপতি ও সম্পাদককে বহাল, নতুন পদপ্রত্যাশীদের ক্ষোভ

বরগুনায় আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন। ছবি- কালের কণ্ঠ।

১০ বছর পরে অনুষ্ঠিত হয়েছে বরগুনার বামনা উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন। ১৮ বছর পূর্বের সম্মেলনে নির্বাচিত হওয়া সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে দেওয়া হয়েছে পুনরায় একই দায়িত্ব। এতে দীর্ঘদিন ধরে পদ প্রত্যাশী নতুন নেতৃবৃন্দের মনে দেখা দিয়েছে চরম ক্ষোভ।

গতকাল সোমবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বরগুনার বামনা সরকারি সারওয়ারজান পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত হয়েছে উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন।

বিজ্ঞাপন

সম্মেলনের কাউন্সিল অধিবেশনে উদ্বোধক ও বরগুনা জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি অ্যাডভোকেট ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু পূর্বতন কমটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে স্বপদে বহাল রেখে কমিটি ঘোষণা করেন।

ঘোষিত  সভাপতি হলেন, অ্যাডভোকেট হারুন অর রশিদ ও সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন সাইতুল ইসলাম লিটু। তারা বিগত ২০০৪ সালে কাউন্সিল অধিবেশেন প্রথম সভাপতি সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছিলেন।

বামনা উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আফজাল হোসেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ  শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক সম্পাদক মো. সিদ্দিকুর রহমান।

এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন- বরগুনা জেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির, বরগুনা-২ আসনের সংসদ সদস্য শওকত হাচানুর রহমান রিমন। নারী সংসদ সদস্য সুলতানা নাদিরা, যুবলীগ প্রেসিডিয়াম সদস্য সুভাষ চন্দ্র হাওলাদারসহ কেন্দ্রী ও জেলা আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ।

জানা গেছে, ২০০৪ সালে বামনা উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনে প্রথম বার নির্বাচিত সভাপতি হয়েছিলেন অ্যাডভোকেট  হারুন অর রশিদ ও  সাধারণ সম্পাদক সাইতুল ইসলাম লিটু। ১/১১ পরবর্তী সময়ে কোনো সম্মেলন না হওয়ায় দলটি ক্ষমতায় আসার পরে ২০১২ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি আবার সম্মেলনের আয়োজন করে উপজেলা আওয়ামী লীগ। ওই সম্মেলনে প্রথম অধিবেশন শেষ হলেও কাউন্সিল অধিবেশন হয়নি।

প্রায় দুই মাস পরে পূর্বের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে  বহাল রেখে বরগুনা জেলা আওয়ামী লীগ কমিটি ঘোষণা করেন। এরপর টানা ১০ বছর পরে গত সোমবার  ১৮ বছর পূর্বের সভাপতি ও সম্পাদকের পদ পাওয়া নেতাদের স্বপদে বহাল রেখে নতুন কমিটি ঘোষণা দেওয়া হয়।

উপজেলা আওয়ামী লীগের নতুন কমিটি ঘোষণা হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে যুক্ত নতুন পদপ্রত্যাশীরা একদিকে যেমন ক্ষোভ প্রকাশ করছেন অন্যদিকে অনেক প্রবীণ নেতারা বিষয়টিকে সাধুবাদ জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে বর্তমান কমিটিতে সাধারণ সম্পাদক পদ প্রত্যাশী ও বিগত কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক চৌধুরী কামরুজ্জামান সগির বলেন, 'সম্মেলন হয়েছে ঠিকই তবে কাউন্সিল অধিবেশনে কাউন্সিলদের কোনো মতামত কিংবা ভোট না নিয়ে তারা কমিটি ঘোষণা করেছে। এতে নতুন পদপ্রত্যাশীদের মনোবল ভেঙে দেওয়া হয়েছে। উপস্থিত কাউন্সিলরাও এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়েছেন। '

পূর্বের কমিটি বহাল রাখায় বরগুনা জেলা আওয়ামী লীগ সদস্য ও বামনা উপজেলা আওয়ামী লীগ উপদেষ্টা প্রবীণ রাজনীতিবিদ গাজী আবুল কালাম বলেন, 'সামনে নির্বাচন এই সময় জেলা আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ যে কমিটি ঘোষণা দিয়েছেন আমি মনে করি এটাই উত্তম কমিটি। এই কমিটি নিয়ে কারো মনে কোনো প্রকার দ্বিধাদ্বন্দ্ব থাকার কথা নয়। '



সাতদিনের সেরা