kalerkantho

শুক্রবার । ২ ডিসেম্বর ২০২২ । ১৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ ।  ৭ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

শিবালয়ের দুর্গম আলোকদিয়া চর

চার কোটি টাকার রাস্তা নির্মাণের শুরুতেই দুর্নীতির অভিযোগ

জোর করে কৃষকের ফসলি জমি থেকে মাটি কাটার অভিযোগ ঠিকাদারের বিরুদ্ধে

আঞ্চলিক প্রতিনিধি, মানিকগঞ্জ    

২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২২ ১৬:৫২ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



চার কোটি টাকার রাস্তা নির্মাণের শুরুতেই দুর্নীতির অভিযোগ

মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার দুর্গম আলোকদিয়া চরাঞ্চলে প্রায় চার কোটি টাকা ব্যয়ে নতুন পাকা রাস্তা নির্মাণের শুরুতেই অনিয়ম-দুর্নীতির অভিাযোগ উঠেছে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স বেল্লাল কনস্ট্রাকশনের বিরুদ্ধে। কোনো নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে স্থানীয় প্রভাবশালীদের মাধ্যমে রাতের আঁধারে ভেকু দিয়ে কৃষকদের ফসলি জমি থেকে জোরপূর্বক মাটি কেটে রাস্তায় ফেলছেন ওই ঠিকাদার। বাধা দিতে গেলেই সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে নিরীহ কৃষকদের প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছেন। বিষয়টি নিয়ে ভুক্তভোগী কৃষকরা বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিয়েও কোনো প্রতিকার পাচ্ছেন না।

বিজ্ঞাপন

এছাড়াও দরপত্র অনুযায়ী মাটি না ফেলাসহ নানা অভিযোগ উঠেছে ওই ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে।

সরেজমিন খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শিবালয় উপজেলার দুর্গম চরাঞ্চলে জনসাধারণের চলাচলের সুবিধার্থে আলোকদিয়া আশ্রয়কেন্দ্র থেকে যমুনার হাট পর্যন্ত আট কিলোমিটার রাস্তা নির্মাণ হচ্ছে। জাপান ইন্টারন্যাশনাল করপোরেশন এজেন্সি (জাইকার) অর্থায়নে প্রায় চার কোটি টাকা ব্যয়ে রাস্তাটির নির্মাণকাজ বাস্তবায়ন করছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর। আর সড়কটির প্রথম ধাপে চার কিলোমিটার নির্মাণকাজ পেয়েছে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স বেল্লাল কনস্ট্রাকশনের মালিক আব্দুল হান্নান। চরাঞ্চলের রাস্তা হওয়ায় নীচের দুই ফিট এঁটেল  মাটি দিয়ে উচুঁ করার কথা রয়েছে সিডিউলে। কিন্তু ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে রাতের আঁধারে বালুমাটি ফেলাসহ জোর করে ভেকু দিয়ে কৃষকের ফসলি জমি কেটে নিচ্ছে।  

স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, বাধা দিলে কিছু প্রভাবশালী লোকদের টাকার বিনিয়মে তারা এ মাটি চুরির কাজ বাস্তবায়ন করছেন। টাকার বিনিময়ে হান্নানের পালিত সন্ত্রাস বাহিনী প্রতিবাদকারীদের প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে ভুক্তভোগীরা বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দিয়েও কোনো প্রতিকার পাচ্ছেন না। উল্টো সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারা অনেকটাই অসহায় হয়ে পড়েছেন। উপজেলা প্রশাসনসহ প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার নির্দেশনা উপেক্ষা করে অনেকটাই ক্ষমতা আর গায়ের জোরে প্রকাশ্যে এমন অনিয়মের মাধ্যমে রাস্তার নির্মাণকাজ চলছে। এ বিষয়ে অবশেষে ভুক্তভোগী কৃষকরা মানিকগঞ্জ জেলা বিজ্ঞ আদালতে একটি মামলাও দায়ের করেছেন।

ভুক্তভোগী কৃষক পান্নু  ফকির, শামীম ফকির কারের কণ্ঠকে বলেন, আমাদের সাথে আলোচনা না করে রেকর্ডীয় সম্পত্তির ওপর দিয়ে রাস্তা নিয়েছে। এলাকার স্বার্থে সেদিকে আমাদের কোনো আপত্তি নেই। এর পরও মাসকলাই, আমন ধানক্ষেত থেকে ফসল নষ্ট করে এলাকার সন্ত্রাসীদের দিয়ে ঠিকাদার জোর করে মাটি কেটে নিয়ে যাচ্ছে। আবার নির্দিষ্ট জায়গা বাদ দিয়ে ইচ্ছেমতো রাস্তা অন্যের রেকর্ডের জমির ওপর দিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। আমরা প্রতিবাদ করতে গেলে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তরে আবেদন করেও কোনো প্রতিকার না পেয়ে গতকাল কোর্টে একটি মামলা দায়ের করেছি। ওই চক্রের হাবু শেখ, জাহাঙ্গীর শেখ, জাহানারা বেগম, আক্তার শেখ, জুলহাসসহ ডিআরও, টিআরও, সাব-ঠিকাদার মাহিমা এন্টারপ্রাইজের সত্ত্বাধিকার আব্দুল তপন, প্রকল্প পরিচালকসহ বেশ কয়েকজনের নামে একটি মামলা দায়ের করেছি।  

এ বিষয়ে মেসার্স বেল্লাল কনস্ট্রাকশনের দায়িত্বে থাকা সুবুর খান বেল্লালের সাথে ফোনে বার বার কল দিয়েও নম্বরটি বন্ধ পাওয়া গেছে। পরে ক্ষুদেবার্তা পাঠিয়েও যোগাযোগ করা  সম্ভব হয়নি।
 
শিবালয় উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সুদেব কৃঞ্ষ রায় বলেন, সিডিউল অনুযায়ী ঠিকাদার কাজ না করায় বেশ কয়েকবার নিষেধ করলেও তারা কাজ বন্ধ রাখেননি। এঁটেল মাটি দিয়ে নিচের দুই ফুট আগে করার কথা থাকলেও তারা সে নির্দেশনা মানছেন না। আর ওই এলাকার কৃষকদের লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। আমার উর্ধ্বতনদের বিষয়টি অবগত করেছি।

শিবালয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জাহিদুর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, স্থানীয় কৃষকদের ফসলি জমি জোর করে কেটে রাস্তায় ফেলানোর বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তারা যদি নির্দেশনা না মানেন, তাহলে আমরা প্রকল্প পরিচলক বরাবর বিষয়টি লিখিতভাবে জানাবো। এভাবে রাস্তা করার নিয়ম নেই।



সাতদিনের সেরা