kalerkantho

শনিবার । ১০ ডিসেম্বর ২০২২ । ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ । ১৫ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

কালের কণ্ঠে সংবাদ প্রকাশ

সেই অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকের দায়িত্ব নিলেন নন্দীগ্রাম ইউএনও

শুভসংঘের সদস্যরা নতুন কাপড়সহ ফলমূল নিয়ে যান

বগুড়া অফিস ও নন্দীগ্রাম প্রতিনিধি   

২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২২ ১৪:৩৫ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সেই অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকের দায়িত্ব নিলেন নন্দীগ্রাম ইউএনও

কালের কণ্ঠে সংবাদ প্রকাশের পর যাত্রীছাউনীতে থাকা অবসরপ্রাপ্ত সেই শিক্ষকের দায়িত্ব নিলেন বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)। অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক আব্দুর রশিদকে যাত্রীছাউনী থেকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে দিয়েছেন তিনি। সেখানে নতুন কাপড়সহ ফলমূল নিয়ে যান কালের কণ্ঠ শুভসংঘের সদস্যরা।  

নন্দীগ্রাম উপজেলার ভাটগ্রামের বাসিন্দা আব্দুর রশিদ (৮৮) তিন-তিনটি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধানশিক্ষকের দায়িত্ব পালন করেছেন।

বিজ্ঞাপন

এরশাদ সরকারের সময় ছিলেন উপজেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি। জমিজমাও ছিলো ১৪ বিঘা। কিন্তু সব হারিয়ে নিঃস্ব সেই প্রবীণ স্ত্রী-কন্যার কাছ থেকে বিতাড়িত হয়ে আশ্রয় নেন উপজেলার কুন্দারহাট বাসস্ট্যান্ডের যাত্রীছাউনীতে। বিগত এক বছরের বেশি সময় ধরে সেখানেই অবস্থান করছিলেন তিনি।  

এ নিয়ে গত ২৬ সেপ্টেম্বর কালের কণ্ঠে 'অবসরপ্রাপ্ত প্রধানশিক্ষকের ঠাঁই এখন যাত্রীছাউনীতে' শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়। এই সংবাদের প্রেক্ষিতে মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টায় সেখানে যান নন্দীগ্রাম ইউএনও শিফা নুসরাত। তিনি সেখানে পৌঁছে দীর্ঘক্ষণ ওই প্রবীণ শিক্ষকের সঙ্গে কথা বলেন। এসময় তার সঙ্গে নন্দীগ্রাম পৌর মেয়র আনিসুর রহমান, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা গোলাম মোস্তফা ও ভাটগ্রাম ইউপি চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ উপস্থিত ছিলেন। তারা ওই শিক্ষকের শারীরিক সমস্যাগুলো জেনে নিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে অ্যাম্বুলেন্স ডাকেন। পরে সেখান থেকে অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে উপজেলার বিজরুলে অবস্থিত স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে দেন।  

ভর্তির পর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তোফাজ্জল হোসেন ও আবাসিক মেডিক্যাল কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. ইকবাল মাহমুদ শিক্ষক আব্দুর রশিদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেন। তারা ইউএনওকে জানান, তার ফুসফুসে পানি জমেছে। এছাড়া তার কোমরের হাড় ভাঙা, মানসিক সমস্যা, পানিশূন্যতা ও চর্মরোগ আছে। এসব কারণে তার  বেশকিছু পরীক্ষা করানো দরকার। এজন্য শহরের কোনো ভালো ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিতে হবে। তবে সেখানে নেওয়ার আগে শারীরিক সুস্থতা প্রয়োজন। অন্তত দু'দিন হাসপাতালে ভর্তি রেখে চিকিৎসা প্রদানের পর শহরে নেওয়া যেতে পারে। ইউএনও সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ প্রদান করেন।

এসময় ইউএনও জানান, কালের কণ্ঠে প্রবীণ এই শিক্ষকের বিষয়ে প্রকাশিত সংবাদ দেখে তার সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। তিনি সুস্থ হয়ে উঠলে থাকার জন্যও ব্যবস্থা করা হবে। ইতিমধ্যে এ নিয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও রাজনীতিকদের সঙ্গে তিনি কথা বলেছেন। ভালো কোনো বৃদ্ধ নিবাসে যেন তাকে রাখা যায়, সকলের কাছে সেই সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, তার পরিবারের প্রথম দায়িত্ব ছিলো পাশে থাকা। তারা যেহেতু তা করেননি, এ কারণে প্রশাসন তথা সরকারের দায়িত্ব তার পাশে দাঁড়ানো। বর্তমান সরকার এটি নিশ্চিত করতে চায় যে, কোনো মানুষই গৃহহীন থাকবে না এবং তাদের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা হবে। এটিও তারই অংশ। তার চিকিৎসা, আবাসনসহ মানবিক সকল বিষয়ে উপজেলা প্রশাসন পাশে থাকবে।

এদিকে, বৃদ্ধ ওই শিক্ষককে হাসপাতালে ভর্তির পরপরই তার পাশে দাঁড়ায় কালের কণ্ঠ শুভসংঘের স্থানীয় শাখা। কালের কণ্ঠের স্থানীয় প্রতিনিধি ও শুভসংঘের উপদেষ্টা ফিরোজ কামাল ফারুকের নেতৃত্বে শুভসংঘের সাধারণ সম্পাদক আবু তৌহিদ রাজিব, সদস্য রিপন সেখানে পৌঁছেন। তারা শিক্ষকের জন্য নতুন পোশাক (লুঙ্গি, গেঞ্জি), ডাব, হরলিক্স, ফলমূল পৌঁছে দেন। তার চিকিৎসাকালীন সার্বিক সহায়তায় শুভসংঘ পাশে থাকবে বলে জানান সংগঠনের স্থানীয় উপদেষ্টা।



সাতদিনের সেরা