kalerkantho

সোমবার । ৫ ডিসেম্বর ২০২২ । ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ । ১০ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

আ. লীগ নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা রফিকউল্লাহর খুনের কিনারা হয়নি দুই দিনেও

চাঁদপুর প্রতিনিধি   

২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২২ ০০:২৮ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



আ. লীগ নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা রফিকউল্লাহর খুনের কিনারা হয়নি দুই দিনেও

নিহত রফিকউল্লাহ ও অমিত।

ঘটনার দুই দিন পার হয়েছে। তবে এখনো চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগ নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা রফিকউল্লাহ হত্যাকাণ্ডের কোনো কিনারা করতে পারেনি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এরই মধ্যে এই হত্যাকাণ্ড নিয়ে নতুন মোড় নিয়েছে। গত শনিবার রাতে শহরের নতুনবাজার এলাকার সখিনা আবাসিক হোটেলের পেছন থেকে এক কিশোরকে দৌড়ে যেতে দেখা গেছে।

বিজ্ঞাপন

পরে ঘটনাস্থলের দেড় কিলোমিটার দূরে রেললাইনে যার খণ্ডিত লাশ পাওয়া যায়। তাহলে ওই কিশোরই কি রফিকউল্লাহ হত্যাকাণ্ডে জড়িত কিংবা সে এমন কোনো ঘটনা দেখে ফেলেছে। যে কারণে তাকেও প্রাণ দিতে হলো। এসব বিষয় নিয়ে জেলা পুলিশ, ডিবি, সিআইডি এবং পিবিআই মামলার তদন্ত নিয়ে সামনে এগোচ্ছে।

গত শনিবার রাতে চাঁদপুর শহরের নতুনবাজার এলাকার সখিনা আবাসিক হোটেল লাগোয়া ফ্ল্যাটের তিনতলা বাসা থেকে রফিকউল্লাহ‘র রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগ সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধা রফিকউল্লাহ অবিবাহিত ছিলেন। বাসায় তিনি একা থাকলেও মিরাজ হোসেন নামে এক যুবক তাকে দেখাশোনা করতেন। তবে ঘটনার সময় এই যুবক বাসার বাইরে ছিলেন বলে দাবি করেন। মিরাজ হোসেন জানান, মাঝেমধ্যে অপরিচিত কিশোরদের যাতায়াত ছিল রফিকউল্লাহ‘র কক্ষে। এদের কাউকে সরাসরি তিনি চেনেন না।

তবে কে বা কারা উপর্যুপরি ছুরিকাঘাতে রফিকউল্লাহকে হত্যা করেছে- তা এখনো উদ্ঘাটন করতে পারেনি মামলার সঙ্গে তদন্তসংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তারা। এরই মধ্যে ঘটনার পরের দিন চাঁদপুর সদর মডেল থানায় অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে মামলা করেন নিহত রফিকউল্লাহর বড় ভাইয়ের ছেলে তন্ময়।

এদিকে ঘটনার রাতে চাঁদপুর শহরের পাসপোর্ট এলাকায় রেললাইনের পাশ থেকে অজ্ঞাতপরিচয় এক কিশোরের মরদেহ উদ্ধার করে জিআরপি থানা পুলিশ। ট্রেনে কাটা পড়ে খণ্ড-বিখণ্ড হয়ে যাওয়া সেই কিশোরের মরদেহ পরদিন অজ্ঞাতপরিচয় হিসেবে মাটিচাপা দেয় জিআরপি।

কিন্তু পুলিশের একাধিক সংস্থা যখন রফিকউল্লাহ হত্যার ক্লু বের করতে ব্যস্ত, তখন এর মধ্যে নতুন মাত্রা যোগ হলো সিসি ক্যামেরার কিছু ফুটেজ। যেখানে দেখা যাচ্ছে, রফিকউল্লাহ ফ্ল্যাটের নিচ থেকে এক কিশোর দ্রুত বের হয়ে যাচ্ছে। পরে যা এই মামলার ছায়া তদন্তে থাকা পিবিআইয়ের প্রযুক্তিতে ধরা পড়েছে। যার নাম অমিত (১৫)। যাকে দ্রুত চলে যেতে দেখা যায় এবং পরে চলন্ত ট্রেনে কাটা পড়ে যার মৃত্যু হয়। চাঁদপুরে পিবিআইয়ের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, রফিকউল্লাহ হত্যাকাণ্ড নিয়ে বেশ সতর্কভাবে কাজ করছি। একই সঙ্গে হত্যার প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটনের চেষ্টা চলছে।

অন্যদিকে, সোমবার বিকেলে অজ্ঞাতপরিচয়ের ওই কিশোর হচ্ছে অমিত। তা জানার পর তার বাবা-মা ও স্বজনরা চাঁদপুর জিআরপি থানায় ছুটে যান। এ সময় তারা স্কুলব্যাগ, প্যান্ট-শার্ট ও জুতা দেখে নিশ্চিত হন। এ বিষয়ে চাঁদপুর জিআরপি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুরাদউল্লাহ বাহার জানান, রেললাইনের পাশ থেকে উদ্ধার হওয়া মরদেহের কোনো দাবিদার না থাকার কারণে অজ্ঞাতপরিচয় হিসেবে আমরা তা মাটি দিয়ে দিই। এমন পরিস্থিতিতে অমিতের মা মিতু দাস জানান, তার ছেলে আত্মহত্যা করতে পারে না। প্রকৃত ঘটনা আড়াল করতে কোনো একটি মহল তার ছেলেকে হত্যা করেছে। বাবা গৌতম দাস জানান, তার ছেলে চাঁদপুর শহরের গনি মডেল হাই স্কুলে দশম শ্রেণিতে পড়ত। তিন সন্তানের মধ্যে অমিত সবার বড়। ছেলের এমন পরিণতিতে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন তিনি।  

এ বিষয়ে আওয়ামী লীগ নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা রফিকউল্লাহ হত্যা মামলার তদন্তে থানা পুলিশ কর্মকর্তাদের কেউ সরাসরি মুখ খুলতে রাজি হচ্ছেন না। তবে চাঁদপুর জেলা পুলিশ সুপার মিলন মাহমুদ জানান, পুরো বিষয়টির জট খুলতে আরো কিছু সময় প্রয়োজন। পুলিশের একাধিক সংস্থা এ নিয়ে গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।



সাতদিনের সেরা