kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৯ নভেম্বর ২০২২ । ১৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ ।  ৪ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

নৌকাডুবির ঘটনায় ঠাকুরগাঁওয়ে একই পরিবারের চারজনের মৃত্যু

এখনো নিখোঁজ একজন

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি   

২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২২ ২৩:০১ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



নৌকাডুবির ঘটনায় ঠাকুরগাঁওয়ে একই পরিবারের চারজনের মৃত্যু

মাত্র দুদিন আগে পরিবার ও দুই কন্যা সন্তান দ্বিপশিখা (৭) ও পুজার (১৫) জন্য দুর্গাপূজার নতুন পোশাক ও অন্যান্য সামগ্রী ক্রয় করেন বাবা দিপক চন্দ্র রায়। কিন্তু ভাগ্যের কি পরিহাস, সেই নতুন কাপড় পড়ে পরিবারসহ পূজামন্ডপে যাওয়া হলো না দিপক রায় ও তার স্ত্রী সন্ধ্যা রাণী রায়ের। দিপক রায় ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা দেবীপুর ইউনিয়নের পাঞ্জিয়া পাড়ার বাসিন্দা।

রবিবার (২৫ সেপ্টেম্বর) পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলা বড়শশী ইউনিয়নের বরদেশ্বরী মন্দীরে মহালয়া অনুষ্ঠানে যাওয়ার পথেই নৌকাডুবিতে প্রাণ যায় ঠাকুরগাঁওয়ের সেই পরিবারের ৪ জনের, এখনো নিখোঁজ একজন।

বিজ্ঞাপন

এলাকা জুড়ে চলছে শোকের মাতম। নিজের দুই সন্তানকে হারিয়ে মা সন্ধ্যা রাণী ভেঙে পড়েছেন, ঘটনার পর থেকেই না খেয়ে রয়েছেন তিনি, মাঝে মাঝেই অজ্ঞান হয়ে পড়ছেন। নিখোঁজ শিশু সন্তান পুজার (১৫) মরদেহ ফিরে পেতে সরকারের প্রতি আবেদন পরিবারের।

নিহতরা হলেন, দিপক চন্দ্র রায় ও সন্ধ্যা রাণী রায়ের মেয়ে নিহত শিশু দ্বিপশিখা (৭) ও নিখোঁজ পুজার (১৫)। দিপক চন্দ্র রায়ের পিসি মা ঝর্ণা রাণী (৫০) ও বড় বোন মিনতি রাণী রায়ের ছেলে জ্যোতি মিম রায় (১৫) এবং অমনি রায় (৫)।

নিহত শিশু দ্বিপশিখা ও নিখোঁজ পুজার বাবা দিপক চন্দ্র রায় জানান, রবিবার দুপুরে বরদেশ্বরী মন্দিরে মহালয়া অনুষ্ঠানে পিতৃপুরুষদের আত্মার শান্তি কামনায় পিন্ড দিতে যান পরিবারের মোট এগারোজন সদস্য। কিন্তু সেই মন্দিরে পূজা দিতে যাওয়ার একমাত্র ভরসা নৌকা। তাই বাধ্য হয়ে ঠাসাঠাসি করে সেই নৌকাতে উঠেন পরিবারের ১১ সদস্য। ধারণক্ষমতার থেকে অতিরিক্ত যাত্রী উঠায় নৌকাটি মাঝ পথে ডুবে যায়। এসময় পরিবারের ছয়জন সদস্য সাঁতরে উঠলেও শিশুসহ অন্য পাঁচ সদস্য পানিতে ডুবে যায়। পরে ডুবে যাওয়া পাঁচজনের মধ্যে চারজনের মৃতদেহ স্থানীয় জনগণ ও ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি সদস্যরা উদ্ধার করলেও এখনো  নিখোঁজ রয়েছে একজন। সেই নিখোঁজ শিশু সন্তান পুজার (১৫) মরদেহ ফিরে সরকারের প্রতি আকুল আবেদন জানিয়েছেন পরিবার ও প্রতিবেশীরা।

সন্ধ্যা রাণী রায় জানান, অনেক আদর যত্ন করে তার দুই কন্যা শিশু দ্বিপশিখা ও নিখোঁজ পুজাকে তিনি প্রতিদিনই নিজ হাতে ভাত খাইয়ে দেন। পরিবারের সবার আদরের ছিল তারা দুজন। আসন্ন দুর্গোৎসবে কোথায় কোথায় ঘুরবে তার পরিকল্পনাও করেছিল তারা দুই বোন। কিন্তু তারা এই পৃথিবী ছেড়ে চিরকালের জন্য চলে গেল। আর কোনোদিন তারা কোনো পূজায় অংশ নেবে না। তিনি আরো বলেন, নিষ্পাপ এই শিশু দুটি কি অপরাধ করেছিল যে ভগবান তাদের অকালে প্রাণ নিয়ে নিলেন।

দিপক চন্দ্র রায়ের বাবা সুবেন্দ্র নাথ বর্মন জানান, পরিবারের ১১ জন সদস্য মিলে বরদেশ্বরী মন্দিরে যাওয়ার পথেই নৌকাডুবির ঘটনা ঘটে। জীবনের শেষ বয়সে এসে এমন পরিস্থিতির শিকার হবেন তা কখনো ভাবেন নাই। নৌকায় উঠার সময় অতিরিক্ত যাত্রী দেখে তার মন বলছিল পরের নৌকায় যাই, তিনি পরিবারের সবাইকে সেই কথাই বলছিলেন। কিন্তু পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের জেদের কারণে সেই নৌকাতেই তারা যাত্রা করেন।  

এ বিষয়ে পরিবারের প্রতি শোক ও সমবেদনা জানিয়েছেন ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু তাহের মো. সামসুজ্জামান। তিনি জানান, এ ধরনের ঘটনা যেন আর না ঘটে সে বিষয়ে আরো সতর্কতা অবলম্বনে প্রচারণাসহ সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।



সাতদিনের সেরা