kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১ ডিসেম্বর ২০২২ । ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ ।  ৬ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় চুরির মামলা! ৩ পুলিশ ক্লোজড

কুমিল্লা প্রতিনিধি   

২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২২ ১৭:২৭ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় চুরির মামলা! ৩ পুলিশ ক্লোজড

কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলায় এক অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূকে ধর্ষণ ও ভিডিও ধারণের ঘটনায় মামলা করতে গেলে পুলিশের বিরুদ্ধে প্রকৃত ঘটনায় মামলা না নিয়ে চুরির মামলা নেওয়ার অভিযোগ উঠে। এ ঘটনায় কর্তব্য পালনে অবহেলার কারণে ৩ পুলিশ সদস্যকে ক্লোজড করা হয়েছে।

সোমবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মুরাদনগর উপজেলার বাঙ্গরা বাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইকবাল হোসেন। রবিবার বিকেলে কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপারের নির্দেশে ওই পুলিশ সদস্যদেরকে বাঙ্গরা বাজার থানা থেকে জেলা পুলিশ লাইনসে ক্লোজড করা হয়।

বিজ্ঞাপন

 

এরা হলেন- প্রকৃত ঘটনা আড়াল করে পুলিশের নেওয়া চুরির মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও বাঙ্গরা বাজার থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ওমর ফারুক, সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আতাউর রহমান এবং কনস্টেবল মামুন হোসেন।

থানা পুলিশের সদস্য ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, উপজেলার বাঙ্গরা বাজার থানাধীন একটি গ্রামে গত ১৫ সেপ্টেম্বর রাতে মা ও ছোট সন্তানকে মারধর করে হাত-পা বেঁধে মুখে স্ক্রচটেপ লাগিয়ে দেয় একদল দুর্বৃত্ত। এ সময় ওই অন্তঃসত্ত্বা ওই নারীকে পাশের রুমে নিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করেন তারা। ঘটনার সময় ওই নারীর ভিডিও ধারণ করা হয়। ঘটনার পরদিন গত ১৬ সেপ্টেম্বর এ বিষয়ে থানায় অভিযোগ করতে গেলেও প্রকৃত সত্য ঘটনাকে আড়াল করে সাধারণ চুরির অভিযোগ নিয়ে সময় ক্ষেপণের মাধ্যমে ঘটনার প্রধান আসামিকে পালিয়ে যেতে সহায়তার অভিযোগ উঠে।  

ভুক্তভোগী নারীর পরিবারের সদস্যরা জানায়, ঘটনার পর ওই নারী থানায় গেলে পুলিশ সদস্য ও থানার কম্পিউটার অপারেটর মামুন সঠিকভাবে অভিযোগ না লিখে চুরি হয়েছে মর্মে একটি অভিযোগ লিখে দেন। পরে ওই অভিযোগের তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ওমর ফারুকের ওপর। ফারুকের সঙ্গে এএসআই আতাউর রহমানও ঘটনার তদন্তে যান। তারা সঠিকভাবে তদন্ত না করে ভুক্তভোগী নারী ও তার পরিবারকে বিভিন্নভাবে হয়রানি করেন। এনিয়ে স্থানীয়ভাবে সংবাদ সম্মেলন করেন ভুক্তভোগী ওই নারী। এ সময় বিচার না পেলে আত্মহত্যার হুঁশিয়ারি দেন তিনি। পরে পুলিশ সদস্যদের অভিযুক্ত করে লিখিত অভিযোগ দেন জেলা পুলিশ সুপারের কাছে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে রবিবার বিকেলে তাদের পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়েছে।

সোমবার দুপুরে বাঙ্গরা বাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইকবাল হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, এক গর্ভবতী গৃহবধূকে বিবস্ত্র করে ভিডিও ধারণ ও ধর্ষণের ঘটনায় গাফিলতির কারণে জেলা পুলিশ সুপারের নির্দেশে ওই তিন পুলিশ সদস্যকে ক্লোজড করা হয়েছে। আমরা প্রকৃত ঘটনাটি তদন্ত করে দেখছি।



সাতদিনের সেরা