kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৮ ডিসেম্বর ২০২২ । ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ । ১৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

বাড়ির উপরে বৈদ্যুতিক তার

জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ৫ শতাধিক মানুষের বসবাস

চাটমোহর (পাবনা) প্রতিনিধি    

২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২২ ১৪:৪২ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ৫ শতাধিক মানুষের বসবাস

বাড়ির উপরে বৈদ্যুতিক তার

পাবনার চাটমোহর উপজেলার ছাইকোলা (সরদার পাড়া) গ্রামের প্রায় শতাধিক পরিবারের পাঁচশত মানুষ প্রতিনিয়ত ঝুঁকির মধ্যে বসবাস করছেন। তাদের বাড়ি-ঘরের উপর দিয়ে বিদ্যুৎ লাইন নির্মিত হওয়ায় এ সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। সেই বৈদ্যুতিক তারে নেই কোন প্লাষ্টিকের আবরণ। টিনের ঘরের উপর দিয়ে বৈদ্যুতিক লাইন থাকায় যে কোন সময় ঘটতে পারে বড় ধরণের দূর্ঘটনা।

বিজ্ঞাপন

এ বিষয়ে ভূক্তভোগী এলাকাবাসী জানান, নব্বইয়ের দশকে এ বৈদ্যুতিক লাইনটি নির্মান করে পাবনা পল্লীবিদ্যুৎ সমিতি-১।  তখন এর বিরুপ প্রভাব সম্পর্কে সচেতন ছিলেন না তারা। বাড়িগুলোর দক্ষিণ পাশ দিয়ে সরকারি রাস্তা থাকলেও রাস্তার পাশ দিয়ে বৈদ্যুতিক লাইন নির্মাণ না করে ঘর-বাড়ি, উঠানের উপর দিয়ে বৈদ্যুতিক লাইনটি নির্মাণ করা হয়। জনসংখ্যা বাড়ায় পরে বৈদ্যুতিক লাইনের নিচেই ঘর করতে বাধ্য হন অনেকে। ঘর-বাড়ির উপর দিয়ে তার যাওয়ায় কোনোরকম গাছও লাগাতে পারেন না তারা। কেউ কেউ কিছু গাছ লাগালেও তা বড় হতে না হতেই বিদ্যুৎ বিভাগের লোকজন কেটে দেন।

এ প্রসঙ্গে ছাইকোলা সরদার পাড়ার শহিদুল ইসলামের মেয়ে সুমি খাতুন জানান, টিনের ঘরের উপর দিয়ে বৈদ্যুতিক তার যাওয়ায় আমরা সব সময় আতঙ্কে থাকি। ঝড় বৃষ্টির সময় আতঙ্ক বেড়ে যায়। তখন মনে হয় কখন যেন আমাদের টিনের ঘরে বৈদ্যুতিক তারের স্পর্শ লাগে!

এলাকাবাসী আতাহার সরদার জানান, আনুমানিক ২৫ থেকে ৩০ বছর আগে লাইনটি নির্মিত হয়েছে। তখন এর কুফল বুঝিনি। কিন্তু এখন কোনো কূল কিনারা পাচ্ছিনা। সবসময় ভয়ে থাকি, কখন কি হয়ে যায়!

ভূক্তভোগী খবির উদ্দিন মাস্টার, জান্নাত হোসেন ও কলেজ শিক্ষক হাসিনুর রহমান উজ্জ্বল জানান, এ পাড়ার বাড়িগুলোর উপর দিয়ে বৈদ্যুতিক তার যাওয়ায় মানুষ নতুন স্থাপনা তৈরী করতে পারছে না। তারে কোন আবরণ না থাকায় ঝড় বৃষ্টির সময় তার গাছের ডাল পাতার সংস্পর্শে এলে আগুন ধরে যায়। প্রতিকার পেতে জানমাল রক্ষার্থে বৈদ্যুতিক লাইনটি সড়িয়ে রাস্তার পাশে স্থাপন করতে বিদ্যুৎ বিভাগের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভূক্তভোগীরা।  

এ ব্যাপারে পাবনা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর জেনারেল ম্যানেজার আকমল হোসেন জানান, ইতিপূর্বে নির্মিত এ বৈদ্যুতিক লাইনগুলো স্থানান্তরের জন্য কোন তহবিল নাই। গ্রাহক অসুবিধা মনে করলে বৈদ্যুতিক লাইনটি স্থানান্তরের আবেদন করলে প্রকৌশলী পাঠিয়ে তদন্ত করে কত টাকা খরচ হবে পত্র মারফত গ্রাহকদের জানানো হবে। প্রয়োজনীয় টাকা জমা দিলে টেন্ডার প্রক্রিয়ার পর ঠিকাদারের মাধ্যমে বৈদ্যুতিক লাইনটি স্থানান্তর করা হবে। সমিতির পক্ষ থেকে ভূক্তভোগীদের যতটুকু সহায়তা করা যায় তা করা হবে।



সাতদিনের সেরা