kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১ ডিসেম্বর ২০২২ । ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ ।  ৬ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

ধর্মের ভিত্তিতে কোনো দেশ হয় না : আসাদুজ্জামান নূর

নীফামারী প্রতিনিধি   

২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২২ ২১:২৬ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ধর্মের ভিত্তিতে কোনো দেশ হয় না : আসাদুজ্জামান নূর

নীলফামারীতে সামাজিক সম্প্রীতির সমাবেশে সংসদ সদস্য আসাদুজ্জামান নূর বলেছেন, ‘বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের মানুষকে স্বপ্ন দেখালেন একটি স্বাধীন বাংলাদেশের। তিনি বলেছিলেন, বাংলাদেশটা হবে একটা ফুলের বাগানের মতো। একটা ফুলের বাগানে নানান রঙ্গের ফুল থাকলে যেমন বেশী সুন্দর হয়, তেমনি একটি দেশে নানান ধর্মের মানুষ থাকলে ফুলের বাগানের মতোই সুন্দর হয়। ’

শনিবার দুপুরে জেলা প্রশাসন আয়োজিত শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি একথা বলেন।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে তো নানান রঙ্গের ফুলের একটি দেশ। হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান, পাহাড়ের মানুষ, সমতলের মানুষ, সাওতাল, গাড়ো, চাকমা, মারমা সব মিলেই তো বাংলাদেশ। এই যে বৈচিত্র্য, সে কারণেই তো বাংলাদেশটা সুন্দর। আর এই বৈচিত্র্য রক্ষা করা আমাদের প্রত্যেকের দায়িত্ব। যে কারণে মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষ কোনো ধর্মীয় শ্লোগান নয়, জয়বাংলা শ্লোগান তুলে নিয়েছিলাম। জয় বাংলা শব্দটা এসেছে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের একটি কবিতা থেকে। বঙ্গবন্ধু সেখান থেকে জয় বাংলা শব্দটি নিয়েছেন। এই কবিতা লেখা হয়েছিল ভারত ভাগ হওয়ার অনেক আগে। ’

নূর আরো বলেন, ‘ধর্মের ভিত্তিতে পূথিবীতে কোনো দেশ হয় না। দেশ হয় তার ইতিহাস ঐতিহ্য, সংস্কৃতি মিলে। যারা বলেন ধর্মের ভিত্তিতে দেশ হতে পারে তাদের কাছে আমার প্রশ্ন সৌদি আরব, আলজেরিয়া, মিসর, ইরান, ইরাক, আবুধাবি, কুয়েত ওমান পর্যন্ত যত মুসলিম দেশ আছে সব পাশাপাশি, এদের ভাষাও কিন্তু এক, আরবি। ওইখানে তো সকল দেশের মানুষ মুসলমান, সবাই আরবিতে কথা বলেন, তাহলে একটা দেশ হলো না কেন?’

তিনি উল্লেখ করে বলেন, ‘প্রত্যেকটা দেশের নিজস্ব ইতিহাস ঐতিহ্য আছে, সংস্কৃতি আছে। সেটা নিয়ে তারা গর্ব করেন, অহঙ্কার করেন এবং নিজেদের আলাদা আলাদা ভাবে চিহ্নিত করেন। একজন ইরাকের মানুষ বলেন আমি ইরাকি, একজন মিসরের মানুষ বলেন আমি মিশরি, একজন ইরানের মানুষ বলেন আমি ইরানি, আরব দেশের মানুষ বলেন আমি আরবি, কুয়েতের মানুষ বলেন আমি কুয়েতি, কাতারের মানুষ বলেন আমি কাতারি। কারণ তাদের নিজের নিজের ভূখণ্ড নিয়ে গর্ব আছে, অহঙ্কার আছে, যেভাবে আমাদের অহঙ্কার আছে আমরা বাংলাদেশি। এই ইতিহাসের সত্যতা ভুললে হবে না।

সমাবেশে জেলা প্রশাসক খন্দকার ইয়াসির আরেফিনের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথির বক্তৃতা দেন সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য রাবেয়া আলিম, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান, সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাহিদ মাহমুদ, নীলফামারী সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ দেবীপ্রসাদ রায়, নীলফামারী সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ মো. ওবায়দুল আনোয়ার, বীর মুক্তিযোদ্ধা আমিনুল হক, মশিউর রহমান ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম, বীর মুক্তিযোদ্ধা কান্তিভুষন কুন্ডু, নীলফামারী বড়মসজিদের পেশ ঈমাম খন্দকার আশরাফুল হক নূরী, পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি মোসফিকুল ইসলাম রিন্টু প্রমুখ।

সমাবেশে জেলার ছয় উপজেলার জনপ্রতিনিধি, শিক্ষার্থী, সুধি সমাজের প্রতিনি, ধর্মীয় নেতা, শিক্ষক ও রাজনৈতিক দলের নেতা উপস্থিত ছিলেন।



সাতদিনের সেরা