kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১ ডিসেম্বর ২০২২ । ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ ।  ৬ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

৬৫ বছর বয়সে সাড়ে ২২ কিলোমিটার সাঁতার শহীদুলের

রায়পুরা (নরসিংদী) প্রতিনিধি   

২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২২ ২১:২৫ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



৬৫ বছর বয়সে সাড়ে ২২ কিলোমিটার সাঁতার শহীদুলের

শহীদুল

নরসিংদীর রায়পুরায় ৬৫ বছর বয়সী এক বৃদ্ধ সাঁতরে সাড়ে ২২ কিলোমিটার পাড়ি দিয়েছেন। অবশ্য এটি তার জন্য কোন নতুন ঘটনা নয়। এর আগেও মেঘনায় ১৫ কিলোমিটার সাঁতার কেটে এলাকায় রীতিমত হইচই ফেলেন তিনি।

সাঁতারু শহিদুল ইসলাম পেশায় একজন কৃষক।

বিজ্ঞাপন

তিনি উপজেলার আমিরগঞ্জ ইউনিয়নের হাজি দানিছ মিয়ার ছেলে।
শনিবার (২৪সেপ্টেম্বর) সকাল পৌনে নয়টায় উপজেলার আদিয়াবাদ ইসলামিয়া স্কুল ও কলেজ ঘাট থেকে সাঁতার শুরু করেন শহীদুল। আড়িয়াল খাঁ নদ ও মেঘনা নদীর সাড়ে ২২ কিলোমিটার সাঁতরে দুপুর ২টা বাজে ১৫ মিনিটে পৌঁছান নাগরিয়াকান্দি সেতু ঘাটে। এতে তিনি সময় নেন প্রায় সাড়ে ৫ ঘণ্টা। এ সময় স্পিবোড, ইঞ্জিলচালিত নৌকায় করে এবং নদীর দুপাড়ে উৎসুক জনতা শহীদুলের সাঁতার দেখতে ভীড় জমায়।

জানা গেছে, একটি মসজিদ নির্মাণের জন্য এক খন্ড জমি দান করেন শহীদুল। পরে নির্মাণ সামগ্রী কেনার টাকা সংগ্রহের জন্য একক সাঁতার প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার ঘোষণা দেন তিনি। যদিও ওই সময় তার এ ঘোষণাকে কেউ আমলে নেয়নি। ২০২১ সালে ১৩ সেপ্টেম্বর উপজেলার মনিপুরা মেঘনা ঘাট থেকে সাঁতরে ১৫ কিলোমিটার পাড়ি দিয়ে পৌঁছে যান নরসিংদী সদর ঘাটে। এতে তিনি সময় নেন চার ঘন্টা। ওই সময় স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি তাকে দেড় লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করেন। পরে সেই টাকা মসজিদ নির্মাণে দান করার ঘোষণা দিয়ে সংবাদপত্রে শিরোনাম হন শহীদুল ইসলাম। কিন্তু পরে পুরস্কারের অর্থ পাননি তিনি।

অদম্য শহীদুল ইসলাম হাল ছাড়ার পাত্র নন। বয়সের ভাড়ে একটুও নুয়ে পড়েননি। ৬৫ বছর বয়সী শহীদুল আবারও ঘোষণা দেন সাঁতরে উপজেলা আদিয়াবাদ ঘাট থেকে নরসিংদীর নাগরিয়াকান্দি ব্রিজে পৌঁছাবেন। যদি কেউ তাকে পুরস্কৃত করেন তা দিয়ে মসজিদ নিমার্ণ সামগ্রী কিনবেন। শনিবার সকাল পৌনে নয়টায় উপজেলার আদিয়াবাদ ঘাট থেকে সাঁতার শুরু হয়। সাড়ে পাঁচ ঘণ্টায় সাড়ে ২২ কিলোমিটার সাঁতরে নাগরিয়াকান্দি ঘাটে পৌঁছানোর পর তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানায় রায়পুরা উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল মোমেনসহ উৎসুক জনতা।  

স্থানীয় এম আর মামুন বলেন, একটি স্পিডবোটে করে পুরো সময় জুড়ে সাঁতারু শহীদুল ইসলামের সঙ্গে ছিলাম। একটু পরপর হাত নেড়ে জানান দিচ্ছিলেন সুস্থ আছেন তিনি। তার মাঝে কোন ক্লান্তি লক্ষ্য করিনি। অনেক যুবক তার সঙ্গে সাঁতার কেটে অল্পতেই হাঁপিয়ে যেতে দেখেছি। কিন্ত শহীদুল বিরামহীন ভাবে সাঁতরে লক্ষ্য পৌঁছান।
সোহেল, রবিন, রাসেল নামে তিন যুবক জানান, আগেও তিনি সাঁতরে ১৫ কিলোমিটার পাড়ি দিয়েছেন। এবার সাড়ে ২২ কিলোমিটার। বৃদ্ধ শহীদুল ইসলাম রায়পুরার গর্ব। শহীদুলের সাঁতার দেখতে সকাল থেকেই নৌকা নিয়ে অপেক্ষা ছিলেন বলে জানান তাঁরা।

অনুভূতি জানতে চাইলে কেঁদে ফেলেন সাঁতারু শহীদুল ইসলাম। তিনি জানান, এর আগে সাঁতরে নরসিংদী গিয়েছিলেন। এ সময় দেড় লাখ টাকার পুরস্কার ঘোষণা দেন স্থানীয় কয়েকজন। পরে তাদের কেউ যোগাযোগ করেনি। যদি কেউ তাকে পুরস্কৃত করেন তাহলে প্রাপ্ত অর্থ মসজিদ নির্মাণে ব্যয় করা হবে বলে জানান তিনি।



সাতদিনের সেরা