kalerkantho

সোমবার । ২৮ নভেম্বর ২০২২ । ১৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ ।  ৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

সীমান্তে বিদ্রোহী দমনে এবার বিমান হামলা

জাকারিয়া আলফাজ, তমব্রু সীমান্ত থেকে    

২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২২ ২০:৩৬ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সীমান্তে বিদ্রোহী দমনে এবার বিমান হামলা

ফাইল ছবি

মিয়ানমারের আরাকান রাজ্যে স্বশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মিকে রুখতে এবার হেলিকপ্টার ও বিমান থেকে বোমা নিক্ষেপ করেছে মিয়ানমার বাহিনী। গতকাল শুক্রবার দিবাগত রাত নয়টা থেকে প্রায় দেড়টা পর্যন্ত ৪০ ও ৪১ নম্বর সীমান্ত পিলার এলাকায় এবং উখিয়ার আনজুমান পাড়া সংলগ্ন মিয়াানমারে অভ্যন্তরে যুদ্ধ বিমানের উপর্যুপরি বোমা নিক্ষেপ চলে। তমব্রু এবং উখিয়ার আনজুমান পাড়ার বাসিন্দারা রাতে এসব দৃশ্য অনেকে সরাসরি দেখেছেন। গভীর রাতে বিমান ও গোলার বিকট শব্দে স্থানীয়দের মাঝে নতুন করে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।

বিজ্ঞাপন

তবে মিয়ানমারের ওপারে বিমান থেকে গোলা নিক্ষেপের ঘটনা ঘটলেও বাংলাদেশের সীমারেখার ভেতরে কোন গুলি পড়েছে বলে জানা যায়নি।

তবে রাতে বিমান হামলার পর শনিবার (সেপ্টেম্বর) দিনে আর কোনো গোলাগুলির শব্দ শোনা যায়নি তমব্রু সীমান্তে। রাতের বিমান হামলায় মাত্রাতিরিক্ত শব্দ দূষণে শিশুদের ঘুম ভেঙে যায়, বৃদ্ধরা আতঙ্কে ঘুমাতে পারেনি সারারাত। এ ছাড়া স্থানীয় স্কুল শিক্ষার্থী বিশেষ করে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের পড়ালেখা ও প্রস্তুতিতে ব্যাঘাত ঘটেছে বলে অভিভাবকরা জানান।  

শনিবার সকাল থেকে সীমান্তে আর কোন গোলাগুলির শব্দ না শোনায় তমব্রু এলাকার সার্বিক পরিস্থিতি অনেকটা স্বাভাবিক ছিল। স্থানীয়রা বলছে 'কোন মুহুর্তে যে গোলাগুলি শুরু হয় তা বলা যায় না'।

তমব্রু উত্তর পাড়ার বাসিন্দা আবদুল জব্বার বলেন, 'রাতে বিমানের আওয়াজ শুনেছি। দীর্ঘ সময় ধরে বিমান থেকে বোমা ও গুলি নিক্ষেপ করা হয়েছে বিকট শব্দে। এভাবে প্রায় তিন-চার ঘণ্টা চলছিল। আমরা ধারণা করেছি, সম্ভবত আরাকান আর্মির দখলে নেওয়া অঞ্চলগুলোতে সরকারি বাহিনী এলোপাতাড়ি বিমান হামলা চালাচ্ছে। ' 

তমব্রু বাইশফাঁড়ি এলাকার বাসিন্দা শামসুল আলম জানান, 'আমাদের এলাকা থেকে এশার নামাজের পরপরই বিমানের শব্দ শুনি। ঘর থেকে বের হয়ে দেখি, শুধু আওয়াজ শোনা যায়, আর মুহুর্তে বোমা নিক্ষেপ করা হচ্ছে। তবে এগুলো কাঁটাতারের সীমান্ত থেকে আরও পূর্ব দিকে মিয়ানমার ফকিরা বাজারের দিকে হতে পারে। '

এ দিকে গত শুক্রবার দিবাগত রাতে উখিয়া উপজেলার পালংখালী ইউনিয়নের আনজুমান পাড়া সীমান্ত থেকেও বিমান হামলার শব্দ শুনেছে স্থানীয়রা। রাত সাড়ে নয়টা থেকে বারোটা পর্যন্ত মিয়ানমার যুদ্ধ বিমানের বোমা নিক্ষেপের দৃশ্য স্থানীয়রা সীমান্ত এলাকায় দাঁড়িয়ে দেখেছেন। এ সময় বিমান থেকে বোমা নিক্ষেপের বিকট শব্দে স্থানীয়রা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন।  

পালংখালী আনজুমান পাড়ার বাসিন্দা আনোয়ার ইসলাম বলেন, 'রাত সাড়ে নয়টার দিকে প্রথম বিমানের আওয়াজ কানে আসে। কিছুক্ষণ পর বোমার বিকট শব্দ শুনেছি। এরপর বাড়ি থেকে বের হয়ে মিয়ানমার সীমান্তের দিকে তাকিয়ে দেখি, আকাশ থেকে বোমা নিক্ষেপের পর পরই বিকট শব্দে আগুন এবং ধোয়া দেখা যায়।  

নাইক্ষ্যংছড়ির তমব্রু 'নো ম্যানস ল্যান্ডে' বসবাসকারী রোহিঙ্গা আমিন উল্লাহ জানান, 'আমাদের ক্যাম্প থেকে খুব নিকটে বিমান থেকে বোমা ফেলার দৃশ্য দেখেছি। মিয়ানমারের সীমান্তের বেশ কয়েকটি সেনা ঘাঁটি দখল করে নিয়েছে আরাকান আর্মি। খুব সম্ভবত মিয়ানমার সেনাবাহিনীর হাতছাড়া হওয়া সে সব ঘাঁটি টার্গেট করে বিমান হামলা করা হয়েছে। '



সাতদিনের সেরা