kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১ ডিসেম্বর ২০২২ । ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ ।  ৬ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

ক্ষুব্ধ হয়ে ফুটবল টুর্নামেন্টের ট্রফি ভাঙলেন ইউএনও

লামা (বান্দরবান) প্রতিনিধি   

২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২২ ১৮:৫৮ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ক্ষুব্ধ হয়ে ফুটবল টুর্নামেন্টের ট্রফি ভাঙলেন ইউএনও

বান্দরবানের আলীকদমে ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলায় চ্যাম্পিয়ান ও রানার্সআপ দলের মধ্যে ট্রফি বিতরণ না করে খোলোয়াড় এবং দর্শকদের সামনে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মেহরুবা ইসলাম ট্রফি দুটি ভেঙে ফেলেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

শুক্রবার সন্ধ্যায় উপজেলার ২নং চৈক্ষং ইউনিয়নের রেপারপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে ফাইনাল খেলা শেষে প্রধান অতিথির বক্তব্য ও পুরস্কার বিতরণ করার সময় ইউএনও মেহরুবা ইসলাম ক্ষিপ্ত হয়ে ট্রফি দুটি ভাঙেন। এ ঘটনার একটি ভিডিও ইতিমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হলে ক্রীড়ামোদিসহ সর্বস্তরের সাধারণ মানুষ অসন্তোষ প্রকাশ করেন।

ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলার বিশেষ অতিথি ও আলীকদম উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মো. কফিল উদ্দিন জানান, স্থানীয় স্বাধীন যুবসমাজের উদ্যোগে উপজেলার ২নং চৈক্ষং ইউনিয়নের রেপার পাড়ার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে মাসব্যপী আন্তঃ ইউনিয়ন ফুটবল টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

শুক্রবার ছিল টুর্নামেন্টের ফাইনলা খেলা। আবাসিক জুনিয়র একাদশ বনাম রেপার পাড়া বাজার একাদশের মধ্যকার অনুষ্ঠিত ফাইনাল খেলা নির্ধারীত সময়ে ২-২ গোলে ড্র হয়। ট্রাইবেকারের মাধ্যমে আবাসিক জুনিয়র একাদশ ৩-১ গোলে রেপার পাড়া বাজার একাদশকে হারায়।

খেলা শেষে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মেহরুবা ইসলাম। বক্তব্যের এক পর্যায়ে ইউএনও উপস্থিত দর্শকদের বলেন, খেলায় হার-জিত থাকবে, এতে কারো মন খারাপের কারণ নেই। এ জয়-পরাজয়ের কথা আমাদের কত দিন মনে থাকবে?

এ সময় দর্শকদের কয়েকজন বলেন যতদিন ট্রফি থাকবে, এই ট্রফি দেখব, ততদিন মনে থাকবে। দর্শকদের এমন মন্তব্যের সাথে সাথেই ইউএনও মেহরুবা ইসলাম ক্ষিপ্ত হয়ে উপস্থিত খেলোয়াড় ও দর্শকদের সামনে চ্যাম্পিয়ান ও রানার্সআপ ট্রফি দুটি পর পর টেবিলে আঁছড়িয়ে ভেঙে ফেলেন।

উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান বলেন, এ ঘটনা অত্যন্ত নিন্দনীয়। অতীতে কখনো আলীকদমে এমন ঘটনা ঘটে নেই। বাংলাদেশের কোথাও ঘটেছে বলে আমার জানা নেই। তিনি এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেহেরুবা ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, খেলা শেষে পুরস্কার বিতরণের সময় হঠাৎ একজন এসে বললেন তিন গোল চার গোল তারা মানে না। তখন আমি বললাম, খেলা আবার হবে কিনা। তখন এটা নিয়ে পেছন থেকে খুব আওয়াজ শুরু হলো। কয়েকজন বললো তারা ট্রফি নেবে না, এ ট্রফি যতদিন থাকবে একটা আক্রোশ থাকবে। তারা বলল, ট্রফি ভেঙে ফেলা হোক। পরে আমি বললাম, তাহলে ঠিক আছে আপনারা মেডেলগুলো নিয়ে যান।

ইউএনও আরো বলেন, তারা সেগুলোও না নেওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়। ওরাই বলছে, ট্রফিটা ভেঙে ফেলা হোক। তাই ভেঙে ফেলা হয়েছে। ওখানে বহিরাগত কিছু ছেলে এসেছিল। স্থানীয় চেয়ারম্যানরা ও তাদেরকে চেনেন না বলে জানিয়েছেন।

এদিকে, এ ঘটনায় শনিবার বিকালে আলীকদমে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রতিবাদ সভায় আলীকদম উপজেলা চেয়ারম্যান মো. আবুল কালাম ইউএনও মেহরুবা ইসলামকে আলীকদম থেকে প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন।



সাতদিনের সেরা