kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১ ডিসেম্বর ২০২২ । ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ ।  ৬ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

ককটেল বিস্ফোরণ, স্প্লিন্টারবিদ্ধ পুলিশ

৭ পাহারাদারকে বেঁধে স্বর্ণের দোকানে ডাকাতি!

আঞ্চলিক প্রতিনিধি, ময়মনসিংহ   

২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২২ ১৪:৩২ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



৭ পাহারাদারকে বেঁধে স্বর্ণের দোকানে ডাকাতি!

ময়মনসিংহের নান্দাইল পৌর বাজারে স্বর্ণের দোকানে ডাকাতি হয়েছে। গতকাল শুক্রবার রাত আড়াইটার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় ডাকাতদল বাজারের সাত পাহারাদারকে বেঁধে দুটি জুয়েলার্স ও একটি ফলের দোকানে ডাকাতি করে।  পুলিশের একটি টহলদল ঘটনাস্থলে এলে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে পালিয়ে যায় ডাকাতদল।

বিজ্ঞাপন

এ সময় কর্তব্যরত এসআই স্প্লিন্টারবিদ্ধ হন। আজ শনিবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে পুলিশের বিভিন্ন টিম।

স্থানীয় সূত্র, প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ জানায়, রাত আড়াইটার পর প্রায় ১৫ জনের একটি ডাকাতদল দেশীয় অস্ত্র নিয়ে বাজারে প্রবেশ করে। এ সময় ডাকাতদল দায়িত্বরত সাত পাহারাদারকে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে হাত-পা বেঁধে রাখে।  

পাহারাদার শহীদ মিয়া জানান, তাদের সাতজনকে ধরে আনে ডাকাতরা। তিনজন রামদা হাতে তাদের পাশে দাঁড়িয়ে থাকে। বাকিরা হাসপাতাল রোডের দিকে যায়।  

বাজারের মাহাদি হাসান ফল ভাণ্ডারের মালিক আঞ্জু মিয়া জানান, রাতে তিনি দোকানের ভেতরেই ছিলেন। একসময় বাইরে লাগানো দোকানের শাটারের তালা কাটার শব্দ পেয়ে দেখেন বাইরে অস্ত্র হাতে বেশ কয়েকজন। তাদের মধ্যে দুইজন শাটার খুলে তাকে ভয় দেখিয়ে দোকানের ক্যাশবাক্সে থাকা টাকা নিয়ে যায়। পরে তাকেও বেঁধে ওই চায়ের দোকানে নিয়ে যাওয়া হয়।  

তিনি আরো জানান, এর আগেই ডাকাতদল তার দোকানের পাশে মুক্তা জুয়েলার্স ও বিসমিল্লাহ জুয়েলার্সে ডাকাতি করে আসে।  

ভুক্তভোগী বিসমিল্লাহ জুয়েলার্সের মালিক রফিকুল ইসলাম জানান, তাঁর দোকানের সিন্দুক ভেঙে ১২ ভরি স্বর্ণালঙ্কার, ৫০ ভরি রুপা ও নগদ প্রায় চার লাখ টাকা নিয়ে গেছে। অপরদিকে মুক্তা জুয়েলার্সের মালিক আব্দুল মতিন মীর জানান, তাঁর চার ভরি স্বর্ণ ও কিছু নগদ টাকা নিয়ে গেছে।

রাতে টহল দলের দায়িত্বে ছিলেন নান্দাইল থানার উপপরিদর্শক পূর্ণ চিচাম। তিনি জানান, রাত তখন ৩টা ৯ হবে। পাশের একটি এলাকা থেকে টহল শেষে বাজারে প্রবেশ করে দেখতে পান তাঁর বহনকারী সিএনজির সামনে বেশ কয়েকজন রামদা হাতে নিয়ে এদিক-সেদিক ছোটাছুটি করছে। পরে তিনি সিএনজি থেকে নামতেই বেশ কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায় তারা। একপর্যায়ে তিনি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে চাইলে ডাকাতরা দৌড়ে পালিয়ে যায়। পরে হাত-পা বাঁধা পাহারাদারদের মুক্ত করেন তিনি।

এ ব্যাপারে ময়মনসিংহ গৌরীপুর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শেখ মোস্তাফিজুর রহমান জানান, পুরো ঘটনাটি সিসি টিভিতে দেখা গেছে। ডাকাতরা বড় পরিকল্পনা নিয়েই এসেছিল। কিন্তু পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে পালিয়ে যায়। আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেছি। ডাকাতদের ধরতে পুলিশের কয়েকটি টিম কাজ করছে।

নান্দাইল থানার ওসি মিজানুর রহমান আকন্দ বলেন, ডাকাতরা প্রায় ১৪ মিনিট ধরে ডাকাতি করেছে। এরপর পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে যায়। কী পরিমাণ স্বর্ণালঙ্কার লুট হয়েছে সেটা আমরা নিশ্চিত হতে পারিনি। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।



সাতদিনের সেরা