kalerkantho

বুধবার । ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২২ । ১৩ আশ্বিন ১৪২৯ ।  ১ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

তিতাসে প্রকাশ্যে তরুণকে হত্যা

প্রেমের সম্পর্কে বাধা দেওয়ায় সিয়ামকে হত্যার ছক!

কুমিল্লা প্রতিনিধি   

২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২২ ২১:২৭ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



প্রেমের সম্পর্কে বাধা দেওয়ায় সিয়ামকে হত্যার ছক!

সিয়াম আল হেলাল সরকার (১৭)

চাচাতো বোনের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল দাখিল পরীক্ষার্থী এক তরুণের। সেই সম্পর্কে বাধা হয়ে দাঁড়ান কুমিল্লার তিতাসে দাখিল পরীক্ষার কেন্দ্রের সামনে প্রকাশ্যে খুন হওয়া তরুণ সিয়াম আল হেলাল সরকার (১৭)। এ ঘটনায় ক্ষিপ্ত হয়ে ওই দাখিল পরীক্ষার্থী সিয়ারমে হত্যার ছক কষেন। আরো সাত বন্ধুকে নিয়ে ভাড়া নেন পরীক্ষার্থী কেন্দ্রের পাশে একটি বাসা।

বিজ্ঞাপন

এরপর সুযোগ মতো সিয়ামকে পেয়ে ছুরিকাঘাত করে পাঠিয়ে দেন না ফেরার দেশে।

পুলিশ বলছে, এমন ঘটনার জেরেই বৃহস্পতিবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুর দেড়টার দিকে তিতাস উপজেলার গাজীপুর আজিজিয়া সিনিয়র দাখিল মাদরাসা পরীক্ষা কেন্দ্রের সামনে খুন করা হয়েছিল সিয়ামকে। সিয়াম উপজেলার মজিদপুর ইউনিয়নের চরমোহনপুর এলাকার হেলাল উদ্দিন ওরফে বাক্কা মিয়ার ছেলে। সিয়াম মুন্সিগঞ্জ পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থী ছিল।

এদিকে, বৃহস্পতিবার রাত ১২টার দিকে সিয়ামকে হত্যার ঘটনায় আটজনের নামে থানায় হত্যা মামলা করেছেন তার বাবা হেলাল উদ্দিন। হত্যার ঘটনার পরপরই আটজন পালিয়ে যাওয়ার সময় তাদেরকে পাশের মেঘনা উপজেলা থেকে আটক করে পুলিশ। পরে হত্যা মামলায় তাদেরকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে শুক্রবার দুপুরে তাদেরকে কুমিল্লার আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করা হয়। মামলার আসামিরা সকলের পাশের মেঘনা উপজেলার ব্রাহ্মণচর নয়াগাঁও আলিম মাদরাসার এ বছরের দাখিল পরীক্ষার্থী। তাঁদের দাখিল পরীক্ষা কেন্দ্র ছিল তিতাসের গাজীপুর আজিজিয়া সিনিয়র দাখিল মাদরাসায়।

শুক্রবার বিকেলে তিতাস থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুধীন চন্দ্র দাস জানিয়েছেন, গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা অকপটে হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেছে। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছোরা ঘটনাস্থলের আশপাশ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। শুক্রবার সকালে সিয়ামের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে থানায় মামলায় ৮ আসামির মধ্যে ৬ জনের বয়স ১৯ বছর বলে উল্লেখ করা হয়েছে। বাকি দুইজনের বয়স ১৭ বছর। এরা হলেন মেঘনা উপজেলার ব্রাহ্মণচর নোয়াগাঁও গ্রামের সাকিব হোসেন (১৯), একই গ্রামের নাজমুল হাসান (১৯), জোনায়েদ ইসলাম শুভ (১৭), সাইমুন মিয়া (১৯), মাসুম বিল্লাহ রনি (১৯), একই উপজেলার বালুচর গ্রামের ওমর ফারুক (১৯), জুনায়েদ আহমেদ সৌরভ (১৯) ও করিমাবাদ গ্রামের মুকুল আহমেদ রাব্বি (১৭)।

হত্যাকাণ্ডের কারণ হিসেবে তিতাস থানার ওসি সুধীন চন্দ্র দাস জানান, প্রাথমিত তদন্তে জানতে পেরেছি নিহত সিয়ামের এক চাচাতো বোনকে আসামি নাজমুল হাসানের (১৯) প্রেমের সম্পর্ক ছিলো। এনিয়ে সিয়ামের সঙ্গে গত প্রায় ২০ দিন আগে নাজমুলের ঝগড়া হয়। তাঁদের মধ্যে মুঠোফোনেও কথা-কাটাকাটি হয়। এরই মধ্যে ১৩ সেপ্টেম্বর দাখিল পরীক্ষা উপলক্ষে নাজমুলসহ তাঁর আট বন্ধু গাজীপুর এলাকায় নাছির উদ্দিনের বাড়ি ভাড়া নেন। তাঁরা পরীক্ষা উপলক্ষে ওই বাড়িতে থাকেন। ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে দাখিল পরীক্ষা শুরু হয়। বৃহস্পতিবার পরীক্ষা শেষ হলে চাচাতো ভাইকে আনতে যাওয়া সিয়ামকে দেখে ওই ৮ বন্ধু মাদ্রাসার সামনের সড়কে অবস্থান নেন।

এ সময়ে নাজমুলকে দেখতে পেয়ে সিয়াম বলেন, ‘তুই আমার বোনকে এখনো ডিস্টার্ব করছিস কেন?’ এ নিয়ে তাঁদের মধ্যে প্রথমে হাতাহাতি হয়। তখন সিয়াম নাজমুলকে চড় দেন। একপর্যায়ে নাজমুলের অপর সহপাঠীরা এসে সিয়ামকে আটকিয়ে সড়কের পাশের একটি চায়ের দোকানে নিয়ে যান। এরপর নাজমুলের এক সহপাঠী ভাড়া বাসায় গিয়ে ছুরি এনে সিয়ামের তলপেটে দুটি আঘাত করেন। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পর সিয়াম মারা যান।

নিহত সিয়ামের বাবা হেলাল উদ্দিন ওরফে বাক্কা মিয়া বলেন, ৮ জনই এলাকায় বখাটে ও কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য হিসেবে পরিচিত। তারা আমার ছেলেকে হত্যার জন্যই কেন্দ্রের পাশে বাসা ভাড়া নিয়েছিল। এরপর পরিকল্পিতভাবে আমার ছেলেকে খুন করেছে। আমি খুনিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।



সাতদিনের সেরা