kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৬ অক্টোবর ২০২২ । ২১ আশ্বিন ১৪২৯ ।  ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

প্রবাসে পড়ে আছে দুলালের লাশ, একনজর দেখতে চান মা-বাবা

নকলা (শেরপুর) প্রতিনিধি   

১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২২ ১৮:৫৫ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



প্রবাসে পড়ে আছে দুলালের লাশ, একনজর দেখতে চান মা-বাবা

সৌদি প্রবাসী নিহত দুলাল মিয়া

‘আইন্নেরা আমার পোলাডার সঙ্গে একবার কতা কউয়াইয়া দেইন, তার মুখটা আমারে একবার দেহাইন, আমি আর সইবার পাইতাছি না। আমার বাবা সৌদি গেছে। গত মাসেও টেহা পাডাইছে। বাবাডার সাথে প্রত্যিদিন কতা না কইলে আমার রাইতে ঘুম অয় না।

বিজ্ঞাপন

শেরপুরের নকলা উপজেলার উরফা ইউনিয়নের মৃত দুলাল উদ্দিনের মা দীর্ঘ দুই মাস ধরে কেঁদে কেঁদে বুক ভাসাচ্ছেন। তিনি বলেন, ‘কয়েক দিন অয়া গেল আমার বাবা ফোন দেয় না। অহন সবাই কয় আমার কলিজার বাবাডা নাকি মইরা গেছে! আমার বাবা মরে নাই। যদি মইরা যাইত তাইলে বাবার লাশ বাড়িত আনতে এত দেরি নাগে ক্যা? আইন্নেরা সবাই আমার নগে মিচা কতা কইতাছুইন ক্যা? আমারে কান্দাইয়া আন্নেগরে নাভ কী?’ যেকোনো মানুষ দেখলে এভাবেই আহাজারি শুরু করেন শেরপুরের নকলা উপজেলার সৌদিপ্রবাসী এক ছেলেহারা বৃদ্ধা মা কদভানু।  

তিনি উপজেলার উরফা ইউনিয়নের মোজাকান্দা গ্রামের মো. অহেদ আলীর স্ত্রী এবং সৌদিপ্রবাসী মৃত দুলাল উদ্দিনের মা।

উরফা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নুরে আলম তালুকদার ভুট্টো জানান, দুলাল উদ্দিন (২৯) তিন বছর পূর্বে পরিবারের সচ্ছলতার উদ্দেশ্যে সৌদি আরবে পাড়ি জমান। সেখানে নির্মাণকাজ করতেন তিনি।

গত ২০ জুলাই মারা যান দুলাল। তার জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর- ৫০৫২০৪৯৩৩৪।

মারা যাওয়ার পর দীর্ঘদিন গত হলেও অজ্ঞাত কারণে তার মরদেহ বাংলাদেশে আসছে না। ছেলের লাশের অপেক্ষায় দিনরাত কেঁদে কেঁদে কাটাতে হচ্ছে বৃদ্ধ মা-বাবাসহ স্বজনদের। সৌদি থেকে মৃত দুলাল উদ্দিনের মরদেহ বাংলাদেশে আনতে তার বড় ভাই মো. আবুল হোসেন জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিস জামালপুরের সহকারী পরিচালকের মাধ্যমে ওয়েজ অনার্স কল্যাণ বোর্ডের মহাপরিচালক বরাবর আবেদন করেছেন বলে জানা গেছে। এতেও কোনো আশার আলো না দেখে হতাশ হয়ে পড়ছে তার পরিবার-পরিজন।

আবুল হোসেন বলেন, ‘ভাইয়ের মুখটা বৃদ্ধ মা-বাবাকে শেষবারের মতো দেখাতে পারলে আমরা শান্তি পেতাম। ’ তাই দায়িত্বশীলদের সুদৃষ্টি জরুরি বলে তিনি মনে করছেন। তা না হলে বৃদ্ধ মা-বাবা কেঁদে কেঁদে পরপারে চলে যেতে পারেন বলে তিনি আশঙ্কা করছেন। তিনি আরো জানান, তার ভাইয়ের মৃত্যুর সংবাদ শোনার পর থেকে মা-বাবার কোনো খাওয়াদাওয়া নেই, তারা পাগলপ্রায়। এমতাবস্থায় ঊর্ধ্বতন সংশ্লিষ্টদের সুদৃষ্টি কামনা করছে নিহতের পরিবারসহ সুধীজনরা।



সাতদিনের সেরা