kalerkantho

শনিবার । ১ অক্টোবর ২০২২ । ১৬ আশ্বিন ১৪২৯ ।  ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়

ভিসির পিএসের রুম ভাঙচুর, নিয়োগ বোর্ড বন্ধের হুঁশিয়ারি

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি   

১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২২ ১৭:৫৮ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ভিসির পিএসের রুম ভাঙচুর, নিয়োগ বোর্ড বন্ধের হুঁশিয়ারি

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) দৈনিক মজুরির ভিত্তিতে কর্মরত কর্মচারীদের বিরুদ্ধে উপাচার্যের একান্ত সচিবের কার্যালয় ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বেলা আড়ইটার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় তাদের দ্বারা হেনস্তার অভিযোগ করেন কক্ষে অবস্থানরত উপাচার্যের একান্ত সচিব আইয়ুব আলী। এক পর্যায়ে তিনি পার্শ্ববর্তী রেজিস্ট্রারে কার্যালয়ে আশ্রয় নেন।

বিজ্ঞাপন

 

আইয়ুব আলীর অভিযোগ, দৈনিক মজুরিভিত্তিক কর্মচারীদের ১৫-২০ জন কার্যালয়ে আসেন। কর্মচারীরা তাদের ফাইলের বিষয়ে জিজ্ঞেস করলে তিনি বিষয়টি জানেন না বলে জানান। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে কর্মচারীরা কার্যালয়ে ভাঙচুর শুরু করেন। এ সময় কর্মচারীরা তার ওপর চড়াও হলে একজন তাকে জড়িয়ে ধরে রক্ষা করেন। পরে তিনি দুজনের সহায়তায় কক্ষ থেকে বের হয়ে পাশের রেজিস্ট্রারের কার্যালয়ে গিয়ে আশ্রয় নেন।  

উপাচার্য অফিসের অন্য কর্মচারীরা জানান, হঠাৎই কয়েকজন এসে অফিসে ঢোকে। তাদের জন্য আমরা অফিসের ভেতরে প্রবেশ করতে পারছিলাম না। তারা অফিসে ভাঙচুর করে ফাইলপত্র ও চেয়ার ছুড়তে থাকে। পরে পিএস আইয়ুব আলী কক্ষ থেকে বেরিয়ে যান।

ভুক্তভোগী আইয়ুব আলী বলেন, ‘অস্থায়ী চাকরিজীবী পরিষদের সভাপতি টিটো মিজান ও সাধারণ সম্পাদক রাসেল জোয়ার্দারের নেতৃত্বে ১৫-২০ জন অফিসে এসে এ ঘটনা ঘটায়। তাৎক্ষণিক ভিসি স্যার ও কর্মকর্তা সমিতিকে জানিয়েছি। আমি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই। ’

সরেজমিনে গিয়ে একান্ত সচিবের কার্যালয়ের টেবিলে গ্লাস ভাঙা অবস্থায় দেখা যায়। এ ছাড়া কক্ষের চেয়ার-টেবিল ও ফাইলপত্র এলোমেলোভাবে মেঝেতে পড়ে আছে। উপাচার্য অফিসের কর্মচারীরা জানান, ভাঙচুরের সময় দৈনিক মজুরিভিত্তিক কর্মচারীরা বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন। পরে তারা প্রশাসন ভবনের ফটকে এসে স্লোগানসহ বক্তব্য দেন। এ সময় পিএসের বিরুদ্ধে বিএনপি সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ করে তার পদত্যাগ দাবি করেন তারা। এ ছাড়া তাদের ফাইল চালু ও নিয়োগের বিষয়টি সমাধান না হওয়া পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো নিয়োগ বোর্ড হতে দেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দেন।

বিষয়টি নিয়ে তাৎক্ষণিক ক্ষোভ প্রকাশ করেন রেজিস্ট্রার এইচ এম আলী হাসান, কর্মকর্তা সমিতির সভাপতি এ টি এম এমদাদুল হক ও সাধারণ সম্পাদক ওয়ালিদ হাসান মুকুট। তারা এ ঘটনার যথাযথ বিচার দাবি করেন। অন্যথায় সমিতির সিদ্ধান্তে কঠোর পদক্ষেপের ঘোষণা দেন।

অস্থায়ী চাকরিজীবী পরিষদের সভাপতি টিটো মিজান বলেন, ‘আমরা অনেক দিন কাজ করলেও ফাইল আটকে থাকায় বেতন পাচ্ছি না। আমরা ফাইল কেন আটকে আছে এটি জানতে চেয়েছি। কারা ভাঙচুর ও হেনস্তা করেছে আমরা জানি না। ’ 

এ বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক শেখ আবদুস সালাম বলেন, ‘একটি অপশক্তি অফিসে হামলা চালিয়েছে। তারা শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট করতে চায়। বিষয়টিকে কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না। ’ 

দৈনিক মজুরির ভিত্তিতে কাজ শুরু করলেও পরে তারা চাকরি স্থায়ীকরণের দাবিতে বিভিন্ন সময় আন্দোলন করে আসছেন। এসব কর্মচারীর বেশির ভাগই শাখা ছাত্রলীগের সাবেক নেতাকর্মী।  



সাতদিনের সেরা