kalerkantho

শনিবার । ১ অক্টোবর ২০২২ । ১৬ আশ্বিন ১৪২৯ ।  ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

‘জাতীয় সরকার ও দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদীয় ব্যবস্থা চায় বিএনপি’

অফিস রংপুর    

১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২২ ১৭:০৯ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



‘জাতীয় সরকার ও দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদীয় ব্যবস্থা চায় বিএনপি’

দেশে রাজনৈতিক পরিবর্তন আনতে ঐকমত্যের ভিত্তিতে এখন জাতীয় সরকার এবং দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ অপরিহার্য দাবি করে বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্যসচিব ও সাবেক সংসদ সদস্য শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেছেন, একদলীয় শাসনব্যবস্থার অধীনে দিনের ভোট রাতে কিংবা ফ্যাসিবাদী কায়দায় ব্যক্তি প্রয়োজনের ভোট আর কখনো যাতে দেশে না হয়, সে জন্য জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র গঠনের প্রয়োজন রয়েছে। একই সঙ্গে অবাধ-নিরপেক্ষ নির্বাচনোত্তর একটি জাতীয় সরকার এবং দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদীয় ব্যবস্থাও অপরিহার্য।

তিনি বলেন, দেশে আজ গণতন্ত্র, বাকস্বাধীনতা ও ভোটাধিকার নেই। দেশের এই সংকটময় পরিস্থিতিতে একটি অবাধ, সুষ্ঠ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য নির্বাচনকালীন নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের বিকল্প নেই।

বিজ্ঞাপন

আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে কোনো সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। গণতন্ত্র, বাকস্বাধীনতা ও ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠা করতে এখন ঐকব্যদ্ধ হওয়ার সময় এসেছে। সবার সম্মিলত আন্দোলন সংগ্রামের মাধ্যমে দেশে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

আজ শনিবার  (১৭ সেপ্টেম্বর) সকালে রংপুর পর্যটন মোটেলের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত ‘জবাবদিহিতামূলক রাষ্ট্র গঠনে অবাধ, নিরপেক্ষ, নির্বাচনোত্তর একটি জাতীয় সরকার এবং দ্বিকক্ষ সংসদ অপরিহার্য’ শীর্ষক মতবিনিময়সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সভায় দলটির অঙ্গসংগঠন ছাড়াও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিশিষ্ট নাগরিক ও সচেতন সমাজের প্রতিনিধিরা বক্তব্য দেন।

সভায় শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, ‘বাংলাদেশের রাজনীতিতে পরিবর্তন প্রয়োজন। এ কারণে তরুণরা রাষ্ট্র সংস্কারের পক্ষে আওয়াজ তুলেছে। এখান থেকে আমাদের উপলব্ধি করতে হবে। আজ রাষ্ট্রের এমন কোনো সেক্টর নেই, যেখানে রন্ধ্রে রন্ধ্রে দুর্নীতি-অনিয়ম ও বিশৃঙ্খলার চর্চা হয় না। রাষ্ট্রীয় সকল প্রতিষ্ঠানকে সম্পূর্ণ পরিকল্পিতভাবে অকেজো করে ফেলা হয়েছে। পরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করে ফেলা হয়েছে রাজনীতি, অর্থনীতি, বিচারব্যবস্থা, প্রশাসন, নির্বাচন ব্যবস্থা তথা গোটা রাষ্ট্রব্যবস্থাকে। মানবাধিকারের মূলনীতিগুলো আজ মৃতপ্রায়। ’

সাবেক এই সংসদ সদস্য বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ২০১৭ সালে ভিশন-২০৩০ তুলে ধরার সময় বলেছিলেন সংখ্যাগরিষ্ঠ শাসনের বদলে বহুত্ববাদের চর্চা ও সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। এটি করতে গেলে এখন প্রয়োজন একটি নির্দলীয়, নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন। যেই নির্বাচনোত্তর বহুত্ববাদের চর্চা ও সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠার জন্য গঠন করা হবে জাতীয় সরকার ও দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদীয় ব্যবস্থা। বিএনপি জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠার সেই লক্ষ্য নিয়ে আন্দোলন-সংগ্রাম করছে।

মতবিনিময়সভায় আলোচ্য বিষয়ের ওপর প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য ও বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (একাংশ) সভাপতি কাদের গনি চৌধুরী। এতে বলা হয়, বিদ্যমান সংসদীয় ব্যবস্থার পাশাপাশি বিশেষজ্ঞ, জ্ঞানের সমন্বয়ে রাষ্ট্র পরিচালনার লক্ষ্যে দেশের প্রথিতযশা শিক্ষাবিদ, পেশাজীবী, রাষ্ট্রবিজ্ঞানী, সমাজবিজ্ঞানী ও প্রশাসনিক অভিজ্ঞতাসমৃদ্ধ ব্যক্তিদের নিয়ে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট আইনসভা এখন সময়ের দাবি। পৃথিবীর উন্নত ও অনুসরণযোগ্য অধিকাংশ গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রেই দ্বিকক্ষবিশিষ্ট আইনসভার প্রচলন রয়েছে।

স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী পার করে এসে জনগণ আর রাজনৈতিক হানাহানি দেখতে চায়, ভবিষ্যৎমুখী এক নতুন ধারার সামাজিক চুক্তি এবং জাতীয় ঐক্যের ভিত্তিতে একটি উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ দেখতে চায় তারা। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি কার্যকরী গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে রাষ্ট্র রূপান্তরমূলক সেই বৃহৎ কর্মযজ্ঞ বাস্তবায়নে কঠিন দায়িত্ব হাতে নিয়েছে।

ব্যারিস্টার মীর হেলালের সঞ্চালনায় আরো বক্তব্য দেন সাবেক উপমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ফরহাদ হোসেন আজাদ, সাবেক সংসদ সদস্য শাম্মী আকতার, সুজন রংপুর জেলা সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আকবর হোসেন, অধ্যাপক জাকির হোসেন, শিক্ষাবিদ ড. ফেরদৌস রহমান, অ্যাডভোকেট আফতাব উদ্দিন, চিকিৎসক তাজুল ইসলাম, সাংবাদিক এ কে এম মঈনুল হক, গবেষক ড. রোকনুজ্জামান, অ্যাডভোকেট রেজেকা সুলতানা ফেন্সি, সাংবাদিক রেজাউল করিম মানিক প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রংপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম, সদস্যসচিব আনিছুর রহমান লাকু, মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক সামসুজ্জামান সামু, সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট মাহফুজ-উন-নবী ডনসহ রংপুর বিভাগের আট জেলা থেকে আগত বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ ছাড়াও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিশিষ্ট নাগরিক ও সচেতন সমাজের প্রতিনিধিরা।  



সাতদিনের সেরা