kalerkantho

শনিবার । ১ অক্টোবর ২০২২ । ১৬ আশ্বিন ১৪২৯ ।  ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

যৌতুকের জন্য স্ত্রীকে হত্যা : স্বামী-ননদসহ ৩ জনের মৃত্যুদণ্ডের রায়

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি   

১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২২ ১৬:৫১ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



যৌতুকের জন্য স্ত্রীকে হত্যা : স্বামী-ননদসহ ৩ জনের মৃত্যুদণ্ডের রায়

যৌতুকের জন‌্য স্ত্রীকে হত‌্যার দায়ে কিশোরগঞ্জে স্বামী, ননদসহ তিনজনকে মত‌্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন একটি আদালত। বৃহস্পতিবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে কিশোরগঞ্জের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব‌্যুনাল-১ এর বিচারক মোহাম্মদ হাবিবুল্লাহ আসামিদের উপস্থিতিতে এ রায় দেন। রায়ে অন‌্য তিন আসামিকে খালাস দেওয়া হয়।  

মৃত‌্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার গুজাদিয়া ইউনিয়নের পাথারিয়াপাড়া গ্রামের ইমান আলীর ছেলে এবং নিহত হেনা আক্তারের স্বামী খোকন মিয়া (৩৯), একই গ্রামের সবুজ মিয়ার স্ত্রী ও ননদ জরিনা খাতুন (৪১) এবং তাদের নিকটাত্মীয় মৃত হবি মিয়ার ছেলে জালাল মিয়া (৪৫)।

বিজ্ঞাপন

২০১৫ সালের ৪ অক্টোবর রাতে যৌতুকের জন‌্য শ্বাসরোধ করে হত‌্যা করা হয় খৈলাকুড়ি গ্রামের কুদ্দুছ মিয়ার মেয়ে হেনা আক্তারকে। তিনি মৃত‌্যদণ্ডপ্রাপ্ত খোকন মিয়ার স্ত্রী।  

মামলার বিবরণে বলা হয়, ঘটনার প্রায় ১১ বছর আগে একই গ্রামের খোকন মিয়ার সঙ্গে বিয়ে হয় হেনা আক্তারের। দাম্পত‌্য জীবনে তাদের ঘরে দুটি মেয়ে সন্তানের জন্ম হয়। কিন্তু স্বামী খোকন মিয়াসহ শ্বাশুরবাড়ির লোকজন বিভিন্ন সময় হেনাকে যৌতুকের জন‌্য চাপ দেন। এই চাপে অতিষ্ঠ হয়ে কয়েকবার পরিবারের কাছ থেকে টাকা এনে স্বামীকে দেন হেনা। এমনকি বাবার কাছ টাকা এনে স্বামীকে একটি ঘরও তৈরি করে দেন তিনি। কিছুদিন সব ঠিকঠাক থাকলেও পরে আবার ব‌্যবসার জন‌্য এক লাখ টাকার জন‌্য স্ত্রী হেনাকে চাপ দিতে থাকেন  খোকন। কিন্তু এ টাকা দিতে অস্বীকার করলে শ্বশুরবাড়ির লোকজন তার ওপর অত‌্যাচার-নির্যাতন শুরু করেন।

এরই জেরে ২০১৫ সালের ৪ অক্টোবর রাত ২টার দিকে স্ত্রী হেনা ঘুম থেকে তুলে টাকা দাবি করেন স্বামীসহ শ্বশুরবাড়ির লোকজন। এসময় তাদের মধ‌্যে ঝগড়া হয়। একপর্যায়ে স্বামীসহ ছয়জন হেনাকে মাটিতে ফেলে শ্বাসরোধ করে হত‌্যা করে পালিয়ে যান। খবর পেয়ে পুলিশ পরদিন সকালে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন‌্য পাঠায়।
  
এ ঘটনায় নিহত হেনার ভাই সাইকুল ইসলাম বাদী হয়ে স্বামী খোকন, শাশুড়ি কমলা ও ননদ জরিনা খাতুসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে করিমগঞ্জ থানায় একটি হত‌্যা মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে সবার বিরুদ্ধে আদালাতে চার্জশিট দাখিল করেন তদন্ত কর্মকর্তা থানার উপ-পরিদর্শক এসএম জহিরুল ইসলাম।  

দীর্ঘ শুনানি শেষে বেলা ১১টায় আসামিদের উপস্থিতিতে রায় ঘোষণা করেন বিচারক। রায়ে অন‌্য তিন আসামিকে খালাস দেওয়া হয়।  

কিশোরগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব‌্যুনাল-১ এর স্পেশাল পিপি তিনজনের মত‌্যুদণ্ডের রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।  



সাতদিনের সেরা