kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৬ অক্টোবর ২০২২ । ২১ আশ্বিন ১৪২৯ ।  ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

গ্রেপ্তারের ভয়ে গ্রাম ও হাট-বাজার পুরুষশূন্য

আঞ্চলিক প্রতিনিধি. মাদারীপুর   

১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২২ ১৮:৪৮ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



গ্রেপ্তারের ভয়ে গ্রাম ও হাট-বাজার পুরুষশূন্য

ক্রেতাশূন্য ঐতিহ্যবাহী সমিতির হাট। ছবি- কালের কণ্ঠ।

মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার পূর্ব এনায়েতনগর ইউনিয়নে গ্রাম্য দলাদলি, আধিপত্য বিস্তার, ইউপি নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতার জের, বংশীয় শক্তি প্রদর্শনসহ সর্বশেষ অটোচালকদের মধ্যে হামলা ও মামলার ঘটনায় গ্রেপ্তারের ভয়ে ওই গ্রাম ও হাট-বাজারগুলো পুরুষশূন্য হয়ে পড়েছে। এ ছাড়াও গ্রেপ্তার ও হামলার ভয়ে ওই গ্রামের ঐতিহ্যবাহী সমিতির হাট ক্রেতাশূন্য হয়ে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে চলে যাচ্ছে। এতে চরম বিপাকে পড়েছেন হাটের ব্যবসায়ীরা।

অন্যদিকে যেহেতু এনায়েতনগর ইউনিয়নের সমিতির হাটের পরিচালনা কমিটি নিয়ে কোনো দ্বন্দ্ব নেই তাই হাটে ব্যবসার পরিবেশ ফিরিয়ে আনার জন্য হাট পরিচালনা কমিটির মাধ্যমে দলাদলিতে সম্পৃক্ত থাকা গ্রামবাসীকে এই হাটকে দলাদলির বাইরে রাখার আহ্বান জানিয়েছে কমিটি।

বিজ্ঞাপন

এতে তারা যখন সম্মতি প্রকাশ করে তখনই নেপথ্যে থাকা কুচক্রীমহল ষড়যন্ত্র করে বাজার কমিটির সভাপতি মুয়ীনুল ইসলাম সরদারসহ কয়েকজন ব্যবসায়ীকে মামলায় জড়িয়ে দেয়। বাজারের ব্যাবসায়িক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে এবং শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে ব্যবসায়ীরা মামলায় জড়িয়ে পড়ার ঘটনায় বাজারের ব্যবসায়ীদের মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

ব্যবসায়ীরা বুধবার সমিতির হাট বাজারে এক প্রতিবাদ সভার মাধ্যমে ব্যবসায়ীদের মামলামুক্ত করা ও সমিতির হাটে ব্যাবসায়িক পরিবেশ সৃষ্টির দাবি জানান।

সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের ১৫ জুন ইউপি নির্বাচনে মেম্বার প্রার্থী নিয়ে চরম দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয় এলাকার প্রভাবশালী বেপারী ও হাওলাদার বংশের লোকজনের মধ্যে। এ নিয়ে কয়েক দফা হামলা-মামলা ও সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে। যার প্রভাব পড়ে ওই অঞ্চলের একমাত্র হাট সমিতির হাট বাজারে। কিন্তু অটোচালকদের মধ্যে নতুন করে সংঘর্ষের ঘটনা এলাকার মারামারিতে এক প্রকার ঘি ঢেলে দেয়।

যার নেতিবাচক প্রভাব পড়ে বাজারের ওপর। কোনো উপায় না পেয়ে ব্যবসায়ীরা হাটকে দলাদলির ঊর্ধ্বে রাখার আহ্বানে গত ২ সেপ্টেম্বর সকল পক্ষকে নিয়ে সমঝোতা ও মীমাংসা সভা করেন। সভা যখন ফলপ্রসূ হওয়ার পথে তখন কিছু গ্রামবাসীর উগ্র কথার কারণে ফের উত্তেজনা দেখা দেয়।

এ সময় বাজারের মধ্যে মারামারি না করার দাবি জানিয়ে ব্যবসায়ীরা নিজেদের জানমালের নিরাপত্তায় রুখে দাঁড়ান এবং মামামারি থামানোর জন্য দুই পক্ষের মাঝে এক প্রকার ঢাল হিসেবে দাঁড়িয়ে থাকেন। কিন্তু বাজার নিয়ে নেপথ্যের ষড়যন্ত্রকারীরা সেই দাঁড়িয়ে থাকার দৃশ্যকে হামলার দৃশ্যপট বানিয়ে বাজার কমিটির সভাপতি মুয়ীনুল ইসলামসহ কয়েকজন ব্যবসায়ীকে মামলায় জড়িয়ে দেয়।

একই সাথে বাজার কমিটির সভাপতি মুয়ীনুল ইসলাম যুক্তরাষ্ট্র স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি নুরুজ্জামান সরদারের আপন ভাই হওয়া সত্ত্বেও এবং গ্রামের এক প্রকার প্রতিষ্ঠিত আওয়ামী লীগ পরিবারের লোক হওয়ার পরও তাকে জামায়াত নেতা উপাধি দিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করা হয়। এতে বিষয়টি নিয়ে বাজারের ব্যবসায়ীদের মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

এ ব্যাপারে বাজার কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও পূর্ব এনায়েতনগর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোবারক বিশ্বাস, বাজারের ব্যবসায়ী আ. লতিফ, আ. জলিল, মাওলানা মহসিন উদ্দিনসহ ১৫-২০ ব্যবসায়ী আক্ষেপ করে বলেন, বাজারের ব্যবসার পরিবেশ সৃষ্টি করতে ব্যবসায়ীদের স্বার্থে দলাদলি নিরসন করতে গিয়ে মধ্যপন্থী হিসেবে ছিল বাজার কমিটি। কিন্তু বাজার কমিটির সদস্যদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেওয়া ও সামাজিকভাবে হেয় করার ষড়যন্ত্রের কারণে আজ ঐতিহ্যবাহী সমিতির হাট বাজারটি ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে গিয়ে দাঁড়িয়েছে।

তারা আরো বলেন, করোনাকালীন ধকল কাটতে না কাটতেই এখন এই পরিবেশে ব্যবসায়ীরা নতুন সমস্যার কবলে পড়েছেন। অনেকে ব্যাংক লোন ও বিভিন্ন এনজিও থেকে লোন নিয়ে ব্যবসা করছেন। তারা এখন এই সমস্যার করণে পথে বসার উপক্রম হয়েছে। তাই আমরা ব্যবসায়ীদের হামলা-মামলা থেকে রক্ষা করে ব্যাবসায়িক পরিবেশ সৃষ্টির দাবি জানাই।

এ ব্যাপারে কালকিনি থানার অফিসার ইনচার্জ মো. শামীম হোসেন বলেন, ‘ওইখানে যারা দোষী পুলিশ তাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় নিয়ে আসবে। যারা দোষী না তাদের কোনো প্রকার ভয় পাওয়ার কারণ নেই। তারা হাটবাজারে আসবে-যাবে, স্বাভাবিক জীবন যাপন করবে, এতে কোনো বাধা নাই। ’



সাতদিনের সেরা