kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২২ । ১২ আশ্বিন ১৪২৯ ।  ৩০ সফর ১৪৪৪

ডিবি পুলিশ পরিচয়ে ছিনতাই, তিন দিনের অভিযানে আটক ৬

পাবনা প্রতিনিধি    

৯ সেপ্টেম্বর, ২০২২ ১৪:৫৯ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ডিবি পুলিশ পরিচয়ে ছিনতাই, তিন দিনের অভিযানে আটক ৬

পাবনার আমিনপুরে একটি চক্র ডিবি পুলিশের পরিচয়ে আট লাখ টাকা ছিনতাই করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ছিনতাইকারীদের কাছ থেকে ডিবি পুলিশের বিভিন্ন সরঞ্জামাদি উদ্ধার করা হয়।

পাবনার পুলিশ সুপার মো. আকবর আলী মুন্সী শুক্রবার (৯ আগস্ট) সকালে পাবনা ডিবি পুলিশ কার্যালয়ের সামনে সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানান।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, গত ২৫ আগস্ট সকাল ১১টায় আমিনপুর থানার মোবারকপুর গ্রামের শরিফুল ইসলাম জনতা ব্যাংকের কাশিনাথপুর শাখা থেকে আট লাখ টাকা তোলেন। এরপর ভ্যানে করে নান্দিয়ারা গ্রামের কবরস্থানের পাশে পাকা রাস্তায় পৌঁছানোর সাথে সাথে তার পথরোধ করে একটি সাদা মাইক্রোবাস। কয়েকজন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি মাইক্রো থেকে বের হয়ে ডিবি পুলিশ বলে নিজেদের পরিচয় দেন। তারপর তারা শরিফুল ইসলামকে প্রাণনাশের ভয় দেখিয়ে টেনে-হিঁচড়ে মাইক্রোবাসে তুলে নেন। এরপর চোখ বেঁধে তার কাছে থাকা নগদ আট লাখ টাকা ছিনিয়ে নেন। দুপুর ১টায় আমিনপুর থানার আলাদিপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে তাকে মাইক্রোবাস থেকে ফেলে দেন ছিনতাইকারীরা।  

এই অভিযোগের ভিত্তিতে আমিনপুর থানায় দস্যুতার একটি মামলার করা হয়। শরিফুল ইসলাম আমিনপুর থানার মোবারকপুর গ্রামের হাবিবুর রহমানের ছেলে।   

পাবনার পুলিশ সুপার কালের কণ্ঠকে জানান, ছিনতাইচক্রকে ধরতে দুটি টিম যৌথভাবে তিন দিনব্যাপী শ্বাসরুদ্ধকর অভিযান চালিয়েছে। ভোলা জেলার চরফ্যাশন, ঢাকা, গাজীপুর এবং সিরাজগঞ্জ জেলার বিভিন্ন স্থানে চলে এই অভিযান।  

অভিযান শেষে আধুনিক তথ্য-প্রযুক্তির ব্যবহারে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অপরাধ) মো. মাসুদ আলমের নেতৃত্বে এসআই (নিরস্ত্র) অসিত কুমার বসাকসহ পাবনা ডিবির একটি চৌকষ দল এবং আমিনপুরের ওসি রওশন আলী ও পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. এমরান মাহমুদ তুহিনের নেতৃত্বে একটি দল ওই ছিনতাইচক্রের ছয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করে।  

আটককৃত আসামিরা হলেন- সিরাজগঞ্জ জেলার উল্লাপাড়া থানার দহাকালা গ্রামের মৃত মোক্তার হোসেনের ছেলে মো. মাসুদ করিম (৪৭), সিরাজগঞ্জ জেলার উল্লাপাড়া থানার বড় পাঙ্গাসী মধ্যেপাড়া গ্রামের মৃত সাবের প্রামানিকের ছেলে মো. আরিফুল ইসলাম ওরফে আরিফ (৩২), সিরাজগঞ্জ জেলার উল্লাপাড়া থানার উল্লাপাড়া পশ্চিমপাড়া গ্রামের নান্নু মিয়ার ছেলে মো. আরিফ (৩৩), সিরাজগঞ্জ জেলার শাহজাদপুর থানার চর আঙ্গারু গ্রামের মো. আব্দুর শুকুর মিয়ার ছেলে মো. শরিফুল ইসলাম (৩৮), সিরাজগঞ্জ জেলার উল্লাপাড়া থানার বড় পাঙ্গাসী প্রামানিক পাড়ার মো. আব্দুল কাদের প্রামানিকের ছেলে মো. মাসুদ রানা (২৯) ও উদ্ধারকৃত মাইক্রোবাসের চালক ভোলা জেলার দুলারহাট থানার নুরাবাদ গ্রামের মৃত আহমেদেও ছেলে আলমগীর হোসেন ওরফে 'ড্রাইভার হোসেন'। এই চক্রের মূল হোতা মো. মাসুদ করিম বলে জানায় পুলিশ।

সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, যারা বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে মোটা অংকের টাকা তোলেন, লোক লাগিয়ে তাদের অনুসরণ করতে থাকে চক্রটি। তারপর সুযোগ বুঝে নির্দিষ্ট স্থানে পথ আটকিয়ে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে হাতকড়া লাগিয়ে ফেলে। পরবর্তিতে তাদেরকে জোরপূর্বক মাইক্রোবাসে তুলে, চোখ বেঁধে, সর্বস্ব ছিনিয়ে নেয় এবং নির্জন স্থানে ফেলে যায়।

অভিযানে আটকদের কাছ থেকে একটি ডিবির জ্যাকেট, এক জোড়া হাতকড়া, একটি ওয়াকিটকি সেট, সিগনাল লাইট, ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত সাদা মাইক্রোবাস, সাতটি মোবাইল ফোন ও ১০টি সিমকার্ড উদ্ধার করা হয়েছে।  

আগে থেকেই নানা অপরাধে জড়িত ছিলেন তারা। চক্রের হোতা মো. মাসুদ করিমের বিরুদ্ধে বিভিন্ন জেলায় অপহরণ, ছিনতাই, ডাকাতি, অস্ত্র ও মাদকসহ মোট ১০টি মামলা রয়েছে। আসামি মো. আরিফের বিরুদ্ধে একই অভিযোগে মামলা আছে মোট আটটি। আসামি মো. আরিফুল ইসলাম ওরফে আরিফের বিরুদ্ধে বিভিন্ন জেলায় অপহরণ, ছিনতাই, ডাকাতি, অস্ত্র ও মাদকসহ মোট ছয়টি মামলা রয়েছে।  

আসামি আলমগীর হোসেনের (মাইক্রোবাস চালক) বিরুদ্ধে ছিনতাই ও মাদক সংক্রান্ত মোট চারটি মামলা রয়েছে। মো. মাসুদ, মো. আরিফ ও আলমগীর হোসেনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা আছে।



সাতদিনের সেরা