kalerkantho

রবিবার । ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২ । ১০ আশ্বিন ১৪২৯ ।  ২৮ সফর ১৪৪৪

স্কুলড্রেস না পরায় মারধর, অভিমানে শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা

নরসিংদী প্রতিনিধি   

১ সেপ্টেম্বর, ২০২২ ২১:৪৯ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



স্কুলড্রেস না পরায় মারধর, অভিমানে শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা

নরসিংদীর শিবপুরে স্কুলড্রেস না পরে আসায় শিক্ষকের অপমান ও মারধর সহ্য করতে না পেরে ইঁদুর মারার ওষুধ খেয়ে আত্মহত্যা করেছে প্রভা আক্তার (১৩) নামের এক শিক্ষার্থী। নিহত প্রভা আক্তার শিবপুর উপজেলার বাঘাব ইউনিয়নের জয়মঙ্গল গ্রামের প্রবাসী ভুট্টো মিয়ার মেয়ে। সে শিবপুর সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।

আজ বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে শিবপুর সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের একটি শ্রেণিকক্ষে তাকে অপমান ও মারধরের ঘটনা ঘটে।

বিজ্ঞাপন

এই ঘটনায় যে শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে তার নাম নার্গিস সুলতানা ওরফে কণিকা। তিনি গত ১০-১২ বছর ধরে বিদ্যালয়টিতে সমাজবিজ্ঞান বিষয়ে শিক্ষকতা করছেন।

এদিকে ইঁদুরের ওষুধ কিনে খাওয়ার পরপরই প্রভা আক্তার নিজেই শিবপুর থানায় গিয়ে ডিউটি অফিসার এইচ আই জিয়াকে বলে, ‘ক্লাসে ম্যাডাম মেরেছে তাই ইঁদুর মারার ওষুধ কিনে খেয়েছি। ’ পরে সেখানেই সে নেতিয়ে পড়লে থানা পুলিশ ঘটনাটি স্কুল কর্তৃপক্ষকে জানায়। পরে বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষকসহ অন্য শিক্ষকরা তাকে থানা থেকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর নরসিংদী সদর হাসপাতালে রেফার করা হয়। সেখানে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

বিদ্যালয়টির শিক্ষক ও নিহত শিক্ষার্থীর সহপাঠীরা বলছে, প্রভা আজ বিদ্যালয়ে স্কুলড্রেসের সঙ্গে ট্রাউজার পরে এসেছিল। দুপুর ৩টার দিকে ওই ক্লাসে পড়াতে আসেন নার্গিস সুলতানা ওরফে কণিকা ম্যাডাম। এ সময় প্রভার ট্রাউজার পরে আসার বিষয়টি তার নজরে আসে। পরে তিনি প্রভাকে ক্লাসে দাঁড় করিয়ে বিভিন্নভাবে অপমান করেন। একপর্যায়ে ওকে বেত দিয়ে কয়েকটি আঘাত করেন এবং থাপ্পড় দেন। ক্লাসভর্তি ছেলে-মেয়ের সামনে এই অপমান সহ্য করতে পারেনি প্রভা। ওই সময়ই ক্লাস থেকে বেরিয়ে বিদ্যালয়ের বাইরে চলে যায় সে।

ডিউটি অফিসার এইচ আই জিয়া ওই শিক্ষার্থীর বরাত দিয়ে বলেন, ‘বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ থেকে বের হয়ে প্রভা শিবপুর বাজারের একটি দোকান থেকে ইঁদুর মারার ওষুধ কেনে। পরে এটি খেয়ে সে শিবপুর থানায় চলে আসে। এসে আমার কাছে বলে, ক্লাসে কণিকা ম্যাডাম মেরেছে তাই ইঁদুর মারার ওষুধ কিনে খেয়েছি। এর পরই সে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। পরে থানা থেকে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো হলে প্রধান শিক্ষক নূর উদ্দিন মোহাম্মদ আলমগীরসহ একদল শিক্ষক তাকে থানা থেকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। ’

বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বলছে, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার পর সেখানকার জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেন। এ সময় তাকে অতিরিক্ত পানি পান করিয়ে বমি করানো হয়।

খবর পেয়ে প্রভার মা ও পরিবারের অন্য সদস্যরা হাসপাতালটিতে আসেন। অনেকটা সময় চেষ্টার পরেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে নরসিংদী সদর হাসপাতালে রেফার করা হয়। পরে ৬টার দিকে তাকে নরসিংদী সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নরসিংদী সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) লোপা চৌধুরী বলেন, ‘শিবপুর থেকে প্রভা নামের ওই স্কুলছাত্রীকে মৃত অবস্থায় আমাদের হাসপাতালে আনা হয়েছিল। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট থানাকে ঘটনা জানানো হয়েছে এবং তার লাশ এই হাসপাতালেরই মর্গে পাঠানো হচ্ছে। ’

বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক নূর উদ্দিন মোহাম্মদ আলমগীর বলেন, ‘নার্গিস সুলতানা কণিকা নামের ওই শিক্ষককে আগেও সতর্ক করা হয়েছিল ছাত্র-ছাত্রীদের মারধর না করার বিষয়ে। কিন্তু তিনি এর পরও সচেতন হননি। ক্লাসে কী এমন ঘটনা ঘটেছিল, যাতে ছাত্রী ক্লাস থেকে বেরিয়ে ইঁদুরের ওষুধ খেয়ে আত্মহত্যা করে ফেলতে পারে! বিষয়টি আমরা তদন্ত করে দেখছি। শিক্ষার্থীর এমন মৃত্যু আমরা বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা মেনে নিতে পারছি না। ’

অভিযুক্ত শিক্ষক নার্গিস সুলতানা ওরফে কণিকার বক্তব্য জানতে তার ব্যবহৃত মুঠোফোনে একাধিকবার কল দিলেও তিনি ফোন না ধরায় এই বিষয়ে তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে শিবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সালাউদ্দিন মিয়া বলেন, ‘ওই শিক্ষার্থী থানায় এসে যখন ডিউটি অফিসারকে ঘটনা বলছিল, জানতে পেরে আমি এগিয়ে এসে তার বক্তব্য লিখে রেখেছি। এ ঘটনায় অভিযুক্ত ওই শিক্ষককে আটকের চেষ্টা চলছে। মৃত শিক্ষার্থীর পরিবারের অভিযোগের প্রেক্ষিতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ’ 



সাতদিনের সেরা