kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৬ অক্টোবর ২০২২ । ২১ আশ্বিন ১৪২৯ ।  ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের আলীনগর

জমি উদ্ধারে কঠোর অবস্থানে প্রশাসন, দখল ছাড়ছে মানুষ

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম ও সীতাকুণ্ড প্রতিনিধি   

২৭ আগস্ট, ২০২২ ০২:৫৭ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



জমি উদ্ধারে কঠোর অবস্থানে প্রশাসন, দখল ছাড়ছে মানুষ

পুলিশের অভিযান শুরুর পর সীতাকুণ্ডের আলীনগর পাহাড় ছাড়তে শুরু করেছে লোকজন। গতকাল তোলা। ছবি : কালের কণ্ঠ

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের আলীনগর পাহাড়ি এলাকায় অবৈধভাবে বসবাসকারীদের উচ্ছেদ করে তিন হাজার ১০০ একর খাসজমি উদ্ধারে কঠোর অবস্থানে প্রশাসন। আগামী ৩০ আগস্টের মধ্যে অবৈধ স্থাপনা থেকে না সরলে বড় ধরনের অভিযানের মাধ্যমে এসব জমি উদ্ধার করা হবে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।

২১ আগস্ট স্থানীয় সংসদ সদস্যসহ জেলা ও পুলিশ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ওই এলাকা পরিদর্শন করে সেখানে অবৈধ বসবাসকারীদের ৩০ আগস্টের মধ্যে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেন। তার আগে-পরে আলীনগর পাহাড় ও সমতল এলাকায় কয়েক শ অবৈধ বসতিতে বিদ্যুৎ ও পানি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়।

বিজ্ঞাপন

এর প্রতিবাদে ২৩ আগস্ট ফৌজদারহাট এলাকায় দুপুর ১২টা থেকে সোয়া ৫টা পর্যন্ত ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের অবরোধ করে বিক্ষোভ করে এলাকার বাসিন্দারা।

এদিকে ওই ঘটনার পর গত তিন দিনে পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাতটি পৃথক মামলা করা হয়েছে। এর মধ্যে পুলিশ বাদী হয়ে ছয়টি এবং উপজেলা প্রশাসন বাদী হয়ে একটি মামলা করে। প্রতিটি মামলায় এজাহারভুক্ত ৪৫ জনসহ আসামির সংখ্যা ১৯৫। প্রশাসনের আদেশ-নির্দেশ অবৈধ বসবাসকারীদের অনেকে মানছে না বলেও অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে দুই পক্ষের পাল্টা অবস্থানে অপ্রীতিকর পরিস্থিতির আশঙ্কা করছে অনেকে। আবার কিছু পরিবার প্রশাসনের নির্দেশ মেনে আলীনগর থেকে স্বেচ্ছায় চলে যাচ্ছে।

জানতে চাইলে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মমিনুর রহমান গতকাল শুক্রবার রাতে কালের কণ্ঠকে বলেন, সরকার কঠোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। সেখানে কোনো অবৈধ বসবাসকারীদের থাকতে দেওয়া হবে না। ওই এলাকার আশপাশে সরকারি অনেক গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা আছে। তাই এসব প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তার স্বার্থে ওই এলাকায় সন্ত্রাসীদের আস্তানা (আলীনগর পাহাড়) থাকতে পারবে না। খাসের তিন হাজার ১০০ একর জায়গা উদ্ধার করে সেখানে সরকারের উন্নয়ন মহাপরিকল্পনা রয়েছে। এসব কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে। তিনি আরো বলেন, গত ছয় দিনে সেখান থেকে আড়াই শ পরিবার স্বেচ্ছায় চলে গেছে। এখনো অবৈধভাবে পাঁচ-ছয় হাজার পরিবার বসবাস করছে। আগামী ৩০ আগস্টের মধ্যে সেখানে কোনো অবৈধ বসতি থাকতে পারবে না।

এদিকে গতকালও স্বেচ্ছায় কিছু পরিবার চলে যেতে দেখা যায়। তাদের মধ্যে একজন জনৈক আলী আকবর। তিনি বলেন, ‘আমার পরিবারের সদস্য চারজন। আমরা ১১-১২ বছর ধরে আলীনগরে বসবাস করে আসছি। এখানে উচ্ছেদ অভিযান চলছে। সরকারের দেওয়া সময়ের মধ্যে আমরা চলে যাচ্ছি। আমরা গিয়ে কোথায় থাকব জানি না। সরকার থেকে কোনো পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করলে ভালো হয়। ’

সীতাকুণ্ড থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সুমন বণিক কালের কণ্ঠকে বলেন, এরই মধ্যে দায়ের করা মামলার আসামিদের গ্রেপ্তারের অভিযান চলছে। আসামিরা পাহাড়ি এলাকা জঙ্গলে অবস্থান করছে। আজকেও (গতকাল) ১০টি পরিবার চলে গেছে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২৩ আগস্ট রাত থেকে ২৫ আগস্ট পর্যন্ত দায়ের করা সাতটি মামলার মধ্যে প্রধান আসামি মোহাম্মদ ফারুক। তিনি পলাতক। তবে এর আগে ওই এলাকায় বিভিন্ন অপরাধের ঘটনায় গ্রেপ্তার হয়ে ফারুকের বড় ভাই ইয়াছিন কারাগারে আছেন। ছয়জন গ্রেপ্তার হলেও এরই মধ্যে পাঁচজন জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। তবে সর্বশেষ সাতটি মামলায় আসামিরা ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছে বলে স্থানীয়রা জানায়।



সাতদিনের সেরা