kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৬ অক্টোবর ২০২২ । ২১ আশ্বিন ১৪২৯ ।  ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

মনপুরায় রাতের আঁধারে উজাড় হচ্ছে সংরক্ষিত বন, হুমকিতে জীববৈচিত্র্য

ভোলা প্রতিনিধি    

২৩ আগস্ট, ২০২২ ১৫:২৯ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



মনপুরায় রাতের আঁধারে উজাড় হচ্ছে সংরক্ষিত বন, হুমকিতে জীববৈচিত্র্য

ভোলা জেলার মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন দ্বীপ মনপুরা উপজেলা। এ উপজেলা ইতিমধ্যে পর্যটন এলাকা হিসেবে সারা দেশে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেছে। এখানে রয়েছে দৃষ্টিনন্দন ম্যানগ্রোভ বনসহ প্রাকৃতিক নানা দৃশ্য। যা যে কাউকে সহজে আকৃষ্ট করে নেয়।

বিজ্ঞাপন

এখানকার দৃষ্টিনন্দন ম্যানগ্রোভ বন যেমন যুগ যুগ ধরে ঝড়, বন্যা ও জলোচ্ছ্বাস থেকে এ দ্বীপের মানুষকে আগলে রেখেছে, তেমনি এ বনে রয়েছে মায়াবী হরিণসহ বিভিন্ন বন্য প্রাণীর অভয়ারণ্য। কিন্তু বর্তমানে এখানকার একটি অসাধু চক্র রাতের আঁধারে এ বন কেটে উজাড় করায় দিন দিন হুমকির মুখে পড়ছে এখানকার জীববৈচিত্র্য। ঝড় ও জলোচ্ছ্বাসে ক্ষতির শঙ্কাও বাড়ছে স্থানীয়দের মাঝে। তাই অতি দ্রুত বনদস্যুদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি এলাকাবাসীর।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পর্যটন এলাকা খ্যাত মনপুরা উপজেলার সংরক্ষিত বনের গাছ কেটে ফেলার কারণে দিন দিন হুমকির মুখে পড়ছে এখানকার প্রাকৃতিক পরিবেশ। হুমকির মধ্যে রয়েছে এ বনের বন্য প্রাণীরাও। মনপুরায় কয়েক বছর আগেও বনে হরিণের দেখা মিললেও বর্তমানে হরিণের আনাগোনা কমে গেছে। গাছ কেটে বন উজাড় বন্ধ না হলে অচিরেই বিলুপ্ত হয়ে যাবে হরিণসহ অন্যান্য বন্য প্রাণী।

মনপুরা বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, মনপুরা উপজেলায় তিনটি বিটে ৩০ হাজার একর জমিতে বনায়ন করা হয়েছে। এ বনে কেওড়া, বাইন, সুন্দরী, কাকরা, গেওয়া, করমচা, গোলপাতাসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ রয়েছে। এই বনে হরিণ, বন্য মহিষসহ বিভিন্ন প্রজাতির পশু ও পাখি রয়েছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে উপকূলবাসীকে রক্ষা করে আসছে এই বন।  

সম্প্রতি মনপুরার সাকুচিয়া এলাকায় বনের ভেতরে গিয়ে দেখা যায়, কেটে ফেলা গাছের অসংখ্য গোড়া পরে রয়েছে। দাঁড়িয়ে থাকা অনেক গাছ করাত দিয়ে কিছু কিছু অংশ কেটে রেখে গেছে বনদস্যুরা।   

স্থানীয়রা জানায়, মনপুরা ইউনিয়ন, আলমনগর, জংলার খাল, উত্তর সাকুচিয়ার লতার খাল, দক্ষিণ সাকুচিয়ার পচা কোড়ালিয়াসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে বনের গাছ কেটে ফেলছে একটি অসাধু চক্র। এলাকাবাসী গাছ কাটার বিষয়টি জানালেও ভয়ে প্রতিবাদ করার সাহস পাচ্ছে না। এতে বনে হরিণের আনাগোনা দিন দিন কমে যাচ্ছে। যার ফলে প্রকৃতি ও পরিবেশের ভারসাম্য দিন দিন বিনষ্ট হচ্ছে। এলাকাবাসী অভিযোগ করে বলে, মনপুরার সবুজ বেষ্টনী রক্ষায় বন বিভাগের কঠোর ভূমিকা না থাকায় অসাধু চক্রটি গাছ কেটে নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল্লাহ জুয়েলসহ একাধিক বাসিন্দা জানান, ম্যানগ্রোভ বনের সবুজ বেষ্টনী দিয়ে ঘেরা মনপুরা উপজেলায় লক্ষাধিক মানুষের বসবাস। ১৯৭০ সালের বন্যায় এ উপজেলার হাজার হাজার মানুষ মারা যায়। এর পর থেকেই এখানে গড়ে ওঠে দৃষ্টিনন্দন ম্যানগ্রোভ বন। এখানকার মানুষ সকালে চোখ মেলেই দেখতে পেত মায়াবী হরিণসহ বিভিন্ন বন্য প্রাণী। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে এ বনের ওপর লোলুপদৃষ্টি পড়ে বনদস্যুসহ স্থানীয় একটি চক্রের। তারা রাতে আঁধারে বনের মোটা মোট গাছ কেটে নিয়ে যাচ্ছে। আবার অনেক সময় গাছের গোড়া থেকে কিছু অংশ কেটে রেখে যাচ্ছে। এতে দিন দিন সৌন্দর্য হারানোর পাশাপাশি বিলুপ্ত হচ্ছে বন্য প্রাণী। আর হুমকির মুখে পড়ছে এখানকার বাসিন্দারা। এদের বিরুদ্ধে কঠোর কোনো ব্যবস্থা না নিলে অচিরেই এ বন ধ্বংস হয়ে যাবে।

ভোলা উপকূলীয় বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা এস এম কায়ছার জানান, গাছ কাটা প্রতিরোধে রেঞ্জকর্মীসহ বনকর্মীরা প্রতিনিয়ত টহল দিচ্ছেন। এ পর্যন্ত ১৯৫টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। আসামিও আটক আছে। এ ব্যাপারে কাউকে ছাড় দেওয়ার সুযোগ নেই। সকলকে এ ব্যাপারে সচেতন হওয়ার জন্যও অনুরোধ জানান এ কর্মকর্তা।



সাতদিনের সেরা