kalerkantho

মঙ্গলবার । ৪ অক্টোবর ২০২২ । ১৯ আশ্বিন ১৪২৯ ।  ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

ধর্ষণচেষ্টার মামলায় চার্জশিটে নিরপরাধ ব্যক্তির নাম, তদন্ত নিয়ে প্রশ্ন

বিষয়টি খোঁজখবর নিয়ে খতিয়ে দেখছি। নাম পরিবর্তনের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। জিয়াউল ইসলাম, পরিদর্শক (তদন্ত), আশুলিয়া থানা

জাহিদ হাসান সাকিল, সাভার   

২০ আগস্ট, ২০২২ ০৯:২১ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ধর্ষণচেষ্টার মামলায় চার্জশিটে নিরপরাধ ব্যক্তির নাম, তদন্ত নিয়ে প্রশ্ন

আশুলিয়ায় শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার মামলায় প্রকৃত আসামির পরিবর্তে নিরপরাধ এক ব্যক্তির নামে অভিযোগপত্র দায়ের করা হয়েছে। ঘটনার দায় নিয়ে একে অন্যকে দোষারোপ করছেন দুই পুলিশ কর্মকর্তা। মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, গত ১ আগস্ট আশুলিয়ার ঘোষবাগে চার বছরের শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে একই গ্রামের মহসিন (৫৫) নামের এক ব্যক্তিকে আসামি করে মামলা করেন ভুক্তভোগী শিশুর মা। চার্জশিটেও ছিল এই নাম।

বিজ্ঞাপন

পরে জানা যায়, মহসিন ঘটনার দিন ঢাকায় ছিলেন। প্রকৃত আসামির নাম হবে সিরাজ।

মামলার বাদী ওই নারীর বাড়ি গাইবান্ধায়। তিনি ঘোষবাগে ভাড়া বাসায় থাকেন। এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ৩০ জুলাই বাড়ির পাশের জঙ্গলে শিশুটিকে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়। এ সময় তার চিৎকার শুনে আশপাশের মানুষ এগিয়ে এলে পালিয়ে যায় অপরাধী। স্থানীয়রা পালিয়ে যাওয়ার সময় তাকে দেখতে পান।

ওই নারী বলেন, ‘আমি স্থানীয় কয়েকজনের কাছে অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম জানতে চাইলে তার নাম মহসিন বলে জানায়। ফলে সেই নামেই অভিযোগ করেছি। পরে শুনলাম, যিনি ধর্ষণের চেষ্টা করেছেন তিনি শফিকুল ইসলাম সিরাজ। আমি তো ভাড়াটিয়া। আমাকে যে নাম বলেছে স্থানীয়রা, আমি সেই নামেই অভিযোগ করেছি। পুলিশ তো তদন্তে গিয়েছিল। পুলিশ তো প্রকৃত আসামির নাম-ঠিকানা সংগ্রহ করেছে। তারপর মামলা নিয়েছে। পুলিশ তাহলে কী তদন্ত করল?’

ওই নারী বলেন, ‘মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে জানানো হয়, সিরাজ গ্রেপ্তার হলে তার স্বীকারোক্তি নিয়ে নাম সংশোধন করা হবে। ’

আসামির তালিকায় থাকা মহসিন মুঠোফোনে জানান, ঘটনার দিন তিনি ঢাকায় ছিলেন। মহসিন বলেন, ‘শুনেছি, শিশু ধর্ষণের চেষ্টা করেছে সিরাজ। কিন্তু অভিযোগে আমার নাম দিয়েছে। পরিচিত অনেকে ফোন দিয়েছে। খুবই হয়রানির মধ্যে পড়েছি। পরে বাদীর কাছে লোক পাঠাই। বাদী বলেছে, তিনি আসামিকে চেনেন, নাম জানেন না। ভুলে নাম উঠছে। আমি বাদীকে বলেছি, পুলিশের কাছে দরখাস্ত করে নাম বদলানোর জন্য। বাদী বলেছে, দরখাস্ত দিয়ে নাম সংশোধন করবেন। তবে তদন্তের ক্ষেত্রে পুলিশকে আরো আন্তরিক হওয়া দরকার। ’

এ বিষয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও আশুলিয়া থানার উপপরিদর্শক মাসুদ আল মামুন বলেন, ‘আমি মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা হলেও প্রথমে ঘটনাস্থল পরিদর্শনসহ প্রাথমিক তদন্ত করেছেন উপপরিদর্শক নুরুল ইসলাম। জানতে পেরেছি, আসামির নাম ভুল। আদালতে আবেদন করে নাম পরিবর্তন করে প্রকৃত আসামির নাম দেওয়া হবে। ’

মুঠোফোনে এ বিষয়ে নুরুল ইসলাম বলেন, ‘এই ঘটনার প্রাথমিক তদন্তে আমি গিয়েছিলাম। ওই নারী ভুল করতেই পারেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা তা ঠিক করে নেবেন। আপনি মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলেন। ’ আবার প্রশ্ন করতে চাইলে তিনি দেখা করে কথা বলবেন বলে লাইন কেটে দেন।

আশুলিয়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) জিয়াউল ইসলাম বলেন, ‘বিষয়টি খোঁজখবর নিয়ে খতিয়ে দেখছি। নাম পরিবর্তনের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ’



সাতদিনের সেরা