kalerkantho

রবিবার । ২ অক্টোবর ২০২২ । ১৭ আশ্বিন ১৪২৯ ।  ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

শ্রীমঙ্গলে টিলাধস

মাটিচাপায় চার নারী চা শ্রমিকের মৃত্যু

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি   

২০ আগস্ট, ২০২২ ০১:৫৬ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



মাটিচাপায় চার নারী চা শ্রমিকের মৃত্যু

টিলাধস : মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার লাখাইছড়া চা-বাগানের উড়িষ্যা টিলা। গতকাল এখানেই টিলা ধসে চার শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। ছবি : কালের কণ্ঠ

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে টিলা ধসে একই পরিবারের দুজনসহ চার নারী চা শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। আহত একজন।

গতকাল শুক্রবার উপজেলার কালীঘাট ইউনিয়নে ফিনলে চা কম্পানির লাখাইছড়া চা-বাগানে এ দুর্ঘটনা ঘটে। মাটির ঘর লেপার জন্য বাগানের ভেতর উড়িষ্যা টিলার সুড়ঙ্গ থেকে এক ধরনের সাদা মাটি নেওয়ার সময় এই ধস নামে।

বিজ্ঞাপন

 

এ সময় জীবনমানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ মজুরির দাবিতে চা শ্রমিকদের কর্মবিরতি চলছিল।

মৃত চারজন হলেন লাখাইছড়া স্কুল লাইনের সুনীল ভূমিজের স্ত্রী সকুন্তলা ভূমিজ (৪০), স্বপন ভূমিজের স্ত্রী হিরা ভূমিজ (৩০), অরুণ মাহালির স্ত্রী রাধা মাহালি (২৫) ও রিপন ভূমিজের স্ত্রী পুনি ভূমিজ (২৫)। হিরা ও পুনি একে অপরের জা।

আহত অঞ্জনা ভূমিজ (১৫) ওই বাগানের কমল ভূমিজের মেয়ে।   সে এখন শঙ্কামুক্ত।   কালের কণ্ঠকে লাখাইছড়া চা-বাগানের তপন বৈদ্যের দেওয়া তথ্য মতে, গতকাল সকাল সাড়ে ১১টার দিকে ঘর লেপার জন্য ওই পাঁচজন চা-বাগানের একটি টিলায় মাটি আনতে যান। টিলার নিচ থেকে মাটি কাটায় কিছুটা সুড়ঙ্গের মতো হয়েছিল। বৃষ্টির কারণে তা নরম হয়ে যায়। সুড়ঙ্গের ভেতর থেকে সাদা মাটি নেওয়ার এক পর্যায়ে টিলাধসে চারজন চাপা পড়েন। অঞ্জনা মাটির নিচে চাপা পড়লেও মাথা বাইরে থাকায় প্রাণে রক্ষা পান। পরে তিনি মাটির নিচ থেকে বেরিয়ে ছুটি গিয়ে সবাইকে খবর দেন।

বাগানের কয়েক শ মানুষ ঘটনাস্থলে গিয়ে মাটি খুঁড়ে তাঁদের উদ্ধারের চেষ্টা চালায়। পরে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা এসে যোগ দেন। তাঁদের সম্মিলিত চেষ্টায় মাটির নিচ থেকে  চারজনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়।

ফিনলে টি কম্পানির কালীঘাট চা-বাগানের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) সাদেক আহমেদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ঘর লেপার জন্য চা-বাগানের ভেতর একটি টিলায় মাটি আনতে গিয়েছিলেন তাঁরা। এ সময় টিলার মাটি নরম থাকায় টিলা ধসে পড়ে। ’

বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের সহসভাপতি পংকজ কন্দ জানান, একই পরিবারের দুজনসহ চারজনের মৃত্যু হয়েছে। হিরা ও পুনি একই পরিবারের। নিহত ওই চার নারীর মধ্যে একজন লাখাইছড়া চা-বাগান পঞ্চায়েত কমিটির সাধারণ সম্পাদক অরুণ মাহালির স্ত্রী রাধা মাহালি।

দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন জাতীয় সংসদের সাবেক চিফ হুইপ, শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জ নির্বাচনী এলাকার সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুস শহীদ, শ্রীমঙ্গল উপজেলা চেয়ারম্যান ভানুলাল রায়, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আলী রাজিব মাহমুদ মিঠুন, ফিনলে টি কম্পানির প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা তাহসিন আহমদ চৌধুরী, শ্রীমঙ্গল থানার ওসি মো. শামীম অর রশিদ তালুকদার, লাখাইছড়া চা-বাগানের জি এম সালাউদ্দিন আহমদ, কালীঘাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রাণেশ গোয়ালা প্রমুখ।

মৃত ব্যক্তিদের সৎকারে সংসদ সদস্য আব্দুস শহীদের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক ২০ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়। সরকারের পক্ষ থেকে মৃত চারজনের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার ব্যবস্থা করবেন বলে তিনি জানান।

শ্রীমঙ্গল ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের লিডার আব্দুল কাদির বলেন, ‘চা শ্রমিকদের বসতঘর সংস্কারে মাটি সংগ্রহ করতে গিয়েছিলেন তাঁরা। টিলা অনেক উঁচু হওয়ায় ও মাটি নরম থাকায় ধসে পড়ে। আমরা তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠিয়েছি। ’

শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. রেদওয়ান আহসান উল্লাহ কালের কণ্ঠকে জানান, হাসপাতালে আনার আগেই চার নারীর মৃত্যু হয়েছে। লাশ হাসপাতালে আছে।

মৌলভীবাজারের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (শ্রীমঙ্গল সার্কেল) শহিদুল হক মুন্সী ও ওসি শামীম অর রশিদ তালকুদার জানান, তাঁরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। মরদেহ ময়নাতদন্ত ছাড়াই নিহতদের পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।

শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আলী রাজিব মাহমুদ বলেন, নিহত চা শ্রমিকদের পরিবারকে প্রয়োজনীয় সহায়তার ব্যবস্থা করা হবে।

তিনি বলেন, ‘ওই টিলার ওপর এখনো ১০-১২টি পরিবার বসবাস করছে। তাদের সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বাগান কর্তৃপক্ষকে। টিলার চারপাশে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছি সংশিষ্ট ব্যক্তিদের। ’



সাতদিনের সেরা