kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২২ । ১২ আশ্বিন ১৪২৯ ।  ৩০ সফর ১৪৪৪

বাল্যবিয়েতে বাধা দেওয়ায় তিনজনকে পিটিয়ে জখম

আঞ্চলিক প্রতিনিধি, মানিকগঞ্জ   

১৯ আগস্ট, ২০২২ ২৩:৪৭ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বাল্যবিয়েতে বাধা দেওয়ায় তিনজনকে পিটিয়ে জখম

মানিকগঞ্জের শিবালয়ে বাল্যবিয়েতে বাধা দেওয়ায় প্রতিপক্ষের হামলায় আহত আতোয়ার রহমান।- ছবি কালের কণ্ঠ

মানিকগঞ্জের শিবালয়ে বাল্যবিয়েতে বাধা দেওয়ায় প্রতিপক্ষের হামলায় আতোয়ার রহমান (৩৫), সিরাজ শিকদার (৪৫), নাজিমুদ্দিুন শিকদার (৬০) নামের তিন ব্যক্তিকে পিটিয়ে গুরত্বর জখম করা হয়েছে । ভুক্তভোগীরা শিবালয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধিন রয়েছেন।  

গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধারাতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে এ ঘটনা ঘটে। এ বিষয়ে উপজেলার উথুলী ইউনিয়নের গহেরপুর এলাকার দেলোয়ার হোসেন খান, তার দুই ছেলে রাতুল, ও হৃদয় এবং স্ত্রী রেহেনাকে অভিযুক্ত করে ভুক্তভোগীরা শিবালয় থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন।

বিজ্ঞাপন

 

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলার গহেরপুর এলাকার বিকাশ দে-এর ছেলে দশম শ্রেণির ছাত্র সোহাগ দে (১৫) এবং ওই এলাকার বিষু রাজবংশীর মেয়ে নবম শ্রেণির ছাত্রী তুলি রাজ বংশীর (১৩) বিয়ের কথা চলছিল। ওই দুই কিশোর-কিশোরীর মাঝে প্রেমের সর্ম্পকও ছিল।  

এ নিয়ে মেয়ে পক্ষ ছেলে পক্ষকে বিয়ের চাপ দিয়ে আসছিল। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় চেয়ারম্যান ও এলাকার গণ্যমান্যরা কয়েক দফায় মীমাংসার জন্য বসেও সমাধান করতে পারছিল না। পরে ঘটনাটি শিবালয় উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভুমি) মো. আনিসুর রহমান অবগত হবার পর তিনি উভয় পক্ষকে ডেকে সর্তক করে দেন বিয়ে না দেওয়ার জন্য।  

এসময় মেয়েটিকে বিয়ে দেওয়ার জন্য প্রতিবেশী দেলোয়ার খান পক্ষ নেন। অপর দিকে বাল্যবিয়ে না দেওয়ার জন্য চ্যানেল আইয়ের সহকারী প্রোগ্রামার আতোয়ার রহমানের সাথে দেলোয়ার  তর্কে জড়িয়ে পরেন। ওই দিন বৃহস্পতিবার সন্ধার দিকে অর্তকিত ভাবে আতোয়ারের উপর হামলা করেন দেলোয়ার ও তার দুই ছেলে।  

ভুক্তভোগী আতোয়ার রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, আমি শুরু থেকেই এ বাল্যবিয়ের বিষয়ে বিরোধিতা করে আসছিলাম। এসিল্যান্ড এ বিয়ে বন্ধ করতে বলায় তারা আমার উপর ক্ষেপে যান। এসময় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সামনে দেলোয়ার,তার দুই ছেলে ও স্ত্রী আমার উপর অর্তকিত হামলা করেন। এসময় আমার চাচাত ভাই ও চাচা এগিয়ে আসলে তাদেরকেও চরম ভাবে পিটানো হয়। এ বিষয়ে আমরা থানায় একটি অভিযোগ করেছি। আমি এ ঘটনার বিচার চাই।  

উথলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্বাস আলী বলেন, বিষয়টি খুবই দুঃখজনক। আমি এ বিয়ের ব্যাপারে আগেই নিষেধ করেছিলাম। তারা ক্ষিপ্ত হয়ে যে মারামারি ঘটনা ঘটিয়েছে তা ন্যক্কারজনক।

অভিযুক্ত দেলোয়ার, মারামারির ঘটনার কথা স্বীকার করে বলেন, আমি নাকি ওই মেয়ের বিয়ে দেওয়ার জন্য দশ হাজার টাকা ঘুষ নিয়েছিলাম বলে আতোয়ার সবার কাছে বলে। এ কারণে আমার ছেলে ক্ষিপ্ত হয়ে তাদেরকে চড়-থাপ্পড় দিয়েছিল। তারাও আমাদের আঘাত করেছিল।

এ বিষয়ে শিবালয় থানার ওসি.মো.শাহিন বলেন, এ বিষয়ে ভুক্তভোগী থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।



সাতদিনের সেরা