kalerkantho

মঙ্গলবার । ৪ অক্টোবর ২০২২ । ১৯ আশ্বিন ১৪২৯ ।  ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

ঝড়ের কবলে ৬ ফিশিং ট্রলার, ১৯ জেলে নিখোঁজ

শরণখোলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি   

১৯ আগস্ট, ২০২২ ২০:০৭ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ঝড়ের কবলে ৬ ফিশিং ট্রলার, ১৯ জেলে নিখোঁজ

বঙ্গোপসাগরে ঝড়ের কবলে পড়ে ৬টি ফিশিং ট্রলার ডুবি ও একটি ট্রলার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া খবর পাওয়া গেছে। শুক্রবার (১৯ আগস্ট) ভোররাত থেকে বিকেল সাড়ে ৪টার মধ্যে পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের কচিখালীসংলগ্ন সাগরের পক্ষীদিয়া, আমবাড়িয়া ও দুবলা চরসংলগ্ন ভেদাখালী এলাকায় এই দুর্ঘটনাগুলো ঘটে। একিট ট্রলারের ২০ জেলের মধ্যে এক জন উদ্ধার হয়েছে। বাকি ১৯ জেলে এখনো নিখোঁজ রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

এদিকে, উত্তাল ঢেউয়ে টিকতে না পেরে শুক্রবার ভোররাত থেকে সাগর ছেড়ে কূলে ফিরতে শুরু করে ফিশিং ট্রলারগুলো। গভীর সমুদ্রে ইলিশ আহরণে নিয়োজিত বহু ট্রলার এখনো ফিরতে পারেনি। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের দুবলার চরের অফিস খাল, ছোট বেদাখারী, বড় ভেদাখালী ও কচিখালী এলসাকার বনের বিভিন্ন নিরাপদ স্থানে পাঁচ শতাধিক ট্রলার আশ্রয়ে থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। এ ছাড়া সমুদ্র নিকটবর্তী কলাপাড়া উপজেলার নিদ্রা ছখিনা ও মহিপুর এলাকায় আশ্রয় নিয়েছে আরো কয়েক হাজার ট্রলার। ঝড়ের কবলে পড়ে বিভিন্ন এলাকার বহু ট্রলার ডুবে গেছে। বনবিভাগ এবং শরণখোলা ও পাথরঘাটা মৎস্যজীবি সংগঠন সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

বরগুনা ট্রলার মালিস সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী জানান, পিরোজপুরের পারেরহাট উপজেলার আনোয়ার আড়ৎদারের এফবি মায়ের দোয়া ট্রলারটি ১৩ জেলেসহ ডুবে যায়। এই ট্রলারের সকল জেলেকে অন্য একটি ট্রলারের জেলেরা উদ্ধার করেছেন। অপর ট্রলারটি হলো পাথরঘাটার মৎস্য ব্যবসায়ী মো. বাদশা হাওলাদারের এফবি হাওলার। এই ট্রলারের ১০ জেলেকেও উদ্ধার করা হয়েছে।

তিনি জানান, ঝড়ের কবলে পড়ে পাঁচটি ট্রলার ডুবির খবর শুনেছেন তিনি। এর মধ্যে দুটির নাম-ঠিকানা জানতে পেরেছেন। তবে ডুবে যাওয়া ট্রলারের সকল জেলে জীবিত উদ্ধার হয়েছে। সাগর থেকে ফেরার সময় সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের কচিখালীর কাছাকাছি সাগরের পক্ষীদিয়া এলাকায় দুর্ঘটনার শিকার হয় ট্রলারগুলো।

শরণখোলা মৎস্য আড়ৎদার সমবায় সমিতির সভাপতি আব্দুর রহিম হাওলাদাদর জানান, পূর্ব সুন্দরবনের ভেদাখালী খালে আশ্রয় নেওয়া শরণখোলার খোন্তাকাটা আনোয়ার ফরাজী ট্রলারের মাঝি আব্বাস মিয়া তাকে জানিয়েছেন, বিকেল ৩টার দিকে কচিখালীসংলগ্ন সাগরের আমবাড়িয়া এলাকায় চট্টগ্রামের একটি ট্রলার ২০ জেলেসহ ডুবে যায়। ট্রলারের একজনকে উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া জেলে অসুস্থ থাকায় তার নাম ও ঠিকানা তাৎক্ষণিক জানাতে পারেননি। সাগরে বহু ট্রলার ডুবছে বলে তিনি জানিয়েছেন।

পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের দুবলা জেলেল্লী টহল ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দিলিপ কুমার মজুমদার জানান, বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে সাগরে থেকে উঠে সুন্দরবনের ভেদাখালীর খালে ঢোকার সময় ঝড় ও ঢেউয়ের তোড়ে একটি ট্রলার গাছের সঙ্গে ধাক্কা লেগে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে ট্রলারের জেলেদের কোনো ক্ষতি হয়নি। বর্তমানে তাদের দুবলার অফিশের আশপাশে শতাধিক ট্রলার আশ্রয়ে রয়েছে।

শরণখোলার সমুদ্রগামী ফিশিং ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি মো. আবুল হোসেন হাতাশা প্রকাশ করে বলেন, দুর্যোগেই আমরা শেষ হয়ে গেলাম। দুটি দুর্যোগ কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে আবহাওয়া খারাপ হতে শুরু করে। শুক্রবার ভোর থেকেই প্রবল ঝড়ে ফুঁসে ওঠে সমুদ্র। পরপর দুটি দর্যোগ কাটিয়ে সাগরে গিয়ে একবার জাল ফেলামাত্রই ফের তৃতীয়বার দুর্যোগে পড়ে কূলে ফিরতে হলো জেলেদের। এক মাসে তিন দফা দর্যোগের কারণে সর্বশান্ত হয়ে গেছেন বলে হতাশা প্রকার করেন মৎস্য ব্যবসায়ীরা। ঢেউয়ের আঘাতে বেশ কয়েকটি ট্রলার ডুবির খবর তিনি শুনেছেন।

কোস্টগার্ড মোংলা পশ্চিম জোনের কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার মামুন বলেন, ট্রলার ডুবির খবর এখনো নিশ্চিত করে বলতে পারছি না। তবে, সাগরের পদ্মা এলাকায় একটি ফিশিং ট্রলারে ইঞ্জিন বিকল হয়ে নোঙর করে আছে বলে জেনেছি। সাগরে প্রচণ্ড ঢেউ থাকায় বাইর বের হওয়া যাচ্ছে না। আমাদের টহল দল প্রস্তুত রয়েছে। আবহাওয়া একটু ভালো হলেই উদ্ধার অভিযানে নামা হবে।



সাতদিনের সেরা