kalerkantho

মঙ্গলবার । ৪ অক্টোবর ২০২২ । ১৯ আশ্বিন ১৪২৯ ।  ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

একটি হুইলচেয়ারের আকুতি

এক পায়ে নিরন্তর ছুটে চলা সংগ্রামী রাসেলের

বিশ্বজিৎ পাল বাবু, ব্রাহ্মণবাড়িয়া   

১৮ আগস্ট, ২০২২ ২০:১৩ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



এক পায়ে নিরন্তর ছুটে চলা সংগ্রামী রাসেলের

রাসেল মিয়া

রাসেল যেখানে থাকেন সেখান থেকে কর্মস্থলের দূরত্ব এক কিলোমিটারের বেশি। এর মধ্যে বেশির ভাগ পথ হেঁটে আর বাকিটুকু তাকে নৌকায় চলতে হয়। একজন সাধারণ মানুষের জন্য এটা স্বাভাবিক হলেও রাসেলের জন্য অস্বাভাবিক। তিনি প্রতিবন্ধী, ডান পায়ের নিচের অংশ কেটে ফেলা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

একটি কাঠের ক্রাচের ওপর ভর করে এক পায়ে প্রতিদিন কষ্ট করে নিরন্তর ছুটে চলা তার।

শারীরিক অক্ষমতা নিয়েই রাসেলকে নামতে হয়েছে জীবনসংগ্রামে। পরিবারের আর্থিক অনটন মেটাতে দরজির কাজ করেন ২০ বছর বয়সী রাসেল। আর এ কাজটি করতে গিয়ে প্রতিদিন তাকে হাঁটতে হয় এক কিলোমিটারের বেশি পথ। গ্রামীণ মেঠোপথ হওয়ায় হেঁটে চলার বিকল্পও নেই।  

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার কৃষ্ণনগর ইউনিয়নের কিশোরপুর গ্রামের কৃষক হযরত আলীর ছেলে রাসেল মিয়া। তিন ভাই ও চার বোনের সংসারে রাসেল সবার বড়। দুই বোনের বিয়ে হয়ে গেছে। কৃষক বাবার পাশাপাশি রাসেলের দরজি কাজের আয় থেকে চলে তাদের সংসার।

রাসেল কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আর্থিক অনটনের কারণে দশম শ্রেণির পর আর পড়াশোনা করা হয়নি। সংসারের হাল ধরতে শুরু করি দরজির কাজ শেখা। এখন প্রতি মাসে প্রায় পাঁচ হাজার টাকা আয় হয়, যা দিয়ে সংসার চলে। ’

তিনি আরো বলেন, ‘আমি নিজের পায়ে দাঁড়াতে চাই। সে চিন্তা থেকেই কষ্ট হলেও কাজ করে যাচ্ছি। আমার আয় সংসারের কিছুটা হলেও কাজে লাগছে। তবে ভালো ক্রাচ কিংবা একটি হুইলচেয়ার পেলে হয়তো আমার চলাচলের একটু সুবিধা হতো। ’

রাসেলের মা হাফেজা বেগম বলেন, জন্ম থেকেই রাসেলের এক পায়ে সমস্যা। অনেক টাকা খরচ করেও ছেলেকে সুস্থ করা সম্ভব হয়নি। পড়ালেখার ইচ্ছা থাকলেও আর্থিক সমস্যার কারণে হয়নি।

কিশোরপুর গ্রামের শিক্ষক মো. হেলাল উদ্দিন বলেন, ‘অন্য সব প্রতিবন্ধীর মতো বসে নেই রাসেল। বেশ কয়েক বছর ধরেই সে দরজির কাজ করে। দরিদ্র ওই পরিবারটিতে রাসেলের আয় বেশ কাজে লাগছে। তবে কষ্ট লাগে প্রতিদিন তার ছুটে চলা দেখে। ’

গাজিরকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মো. স্বপন মিয়া বলেন, ‘রাসেলের এ অবস্থা দেখে বিষয়টি আমি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানিয়েছি। ’ রাসেল যেন স্বাচ্ছন্দ্যে চলাচল করতে পারেন, সে বিষয়ে সার্বিক সহযোগিতা করা হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেছেন।  
 



সাতদিনের সেরা