kalerkantho

শুক্রবার । ৭ অক্টোবর ২০২২ । ২২ আশ্বিন ১৪২৯ ।  ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

ট্রেনে মারধর ও হেনস্তার অভিযোগ

রেলপথ অবরোধ চবির ভর্তীচ্ছু শিক্ষার্থীদের, তিন টিটিই বরখাস্ত

অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে হবে বিভাগীয় তদন্ত

কুমিল্লা প্রতিনিধি   

১৭ আগস্ট, ২০২২ ১১:৩১ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



রেলপথ অবরোধ চবির ভর্তীচ্ছু শিক্ষার্থীদের, তিন টিটিই বরখাস্ত

শিক্ষার্থীদের মারধর ও হেনস্তার অভিযোগে কুমিল্লার লাকসাম রেলওয়ে জংশনে রেলপথ অবরোধ করে বিরতিহীন সোনার বাংলা এক্সপ্রেস ট্রেন আটকে রাখেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) ভর্তীচ্ছু শিক্ষার্থীরা। চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী বিরতিহীন ট্রেনটি গতকাল  মঙ্গলবার (১৬ আগস্ট) সন্ধ্যা ৬টা ৫৭ মিনিটে লাকসাম জংশনে এলে রেলপথে শুয়ে ট্রেনটিকে আটকে দেন, তারা। পরে শিক্ষার্থীদের দাবি মেনে নেওয়া হলে প্রায় আড়াই ঘণ্টা পর রাত সোয়া ৯টার দিকে তারা অবরোধ তুলে নেন। এরপর ট্রেনটি লাকসাম থেকে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে যায়।

বিজ্ঞাপন

মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন রেলওয়ের চট্টগ্রাম বিভাগীয় ব্যবস্থাপক (ডিআরএম) আবুল কালাম চৌধুরী।

এদিকে এ ঘটনায় ওই ট্রেনে ভ্রাম্যমাণ ট্রেন টিকিট পরীক্ষক (টিটিই) ও লাকসাম রেলওয়ে জংশনে কর্মরত ভারপ্রাপ্ত জুনিয়র রেলওয়ে পরিদর্শক (জেআরআই) আমিনুল ইসলামসহ তিন টিটিইকে বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত করা হবে বলে জানানো হয়।

জানা গেছে, মঙ্গলবার বিকেলে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যায় ভর্তীচ্ছু শিক্ষার্থীরা ভর্তি পরীক্ষা শেষে বিরতিহীন সোনার বাংলা ট্রেনে ওঠেন। এ সময় তারা ট্রেনের টিকিট কাটার সময় পাননি। পরে তারা বিনা টিকিটে ট্রেনে উঠে পড়েন। একপর্যায়ে টিটিই আমিনুল ইসলাম (ভারপ্রাপ্ত জেআরআই) টিকিট চেকিংকালে বিনা টিকিটের ছাত্রদের কাছ থেকে ৪০৫ টাকার স্থলে ৮১০ টাকা দাবি করেন। এ নিয়ে ছাত্রদের সঙ্গে টিটিইর বাগবিতণ্ডা হয়। পরে দুই ছাত্রকে মারধরও করেন টিটিই আমিনুল ইসলাম। সোনার বাংলা এক্সপ্রেস ট্রেনটি স্টপেজ না থাকলেও সন্ধ্যা ৬টা ৫৭ মিনিটে লাকসাম জংশন স্টেশনে যাত্রাবিরতি করে। এ সময় টিটি আমিনুল ১০-১২ জন ছাত্রকে ধাক্কা দিতে দিতে প্ল্যাটফর্মে নামান। এ ঘটনায় ছাত্ররা বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। একপর্যায়ে শতাধিক ছাত্র ট্রেনের সামনে শুয়ে পড়ে অবরোধ সৃষ্টি করেন।

পরে লাকসাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহফুজা মতিন, রেলওয়ে চট্টগ্রামের ডিআরএম আবুল কালাম চৌধুরী, কুমিল্লার সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (লাকসাম সার্কেল) মুহিতুল ইসলাম, লাকসাম থানার ওসি মেজবাহ উদ্দিন, লাকসাম রেলওয়ে থানার ওসি জসীম উদ্দীন খন্দকারসহ কর্মকর্তারা দুই দফা বৈঠক করেন। পরে অভিযুক্তদের বিচারের আশ্বাসে এবং টিটিই (ভারপ্রাপ্ত জেআরআই) হাতজোড় করে ক্ষমা প্রার্থনা করলে ছাত্ররা অবরোধ তুলে নেন। পরে রাত ৯টা ১৫ মিনিটে ট্রেনটি ঢাকার উদ্দেশে লাকসাম রেলওয়ে জংশন স্টেশন ত্যাগ করে।

লাকসাম রেলওয়ে জংশনে কর্মরত অন্তত তিনজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, জেআরআই আমিনুল ইসলাম শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বাগবিতণ্ডার বিষয়টি রেলওয়ে কন্ট্রোলরুমে জানান। এরপর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা ছাড়াই আমিনুল ইসলাম বিরতিহীন চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী সোনার বাংলা ট্রেনটিকে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা ৫৭ মিনিটে লাকসাম রেলওয়ে জংশনের এক নম্বর প্ল্যাটফর্মে থামান। পরে শিক্ষার্থীরা ট্রেনটির সামনের রেলপথ অবরোধ করে রাখেন। এতে প্রায় আড়াই ঘণ্টা ট্রেনটি আটকে থাকে।
রাত ৯টার দিকে জেআরআই আমিনুল ইসলাম হাতজোড় করে শিক্ষার্থীদের কাছে ক্ষমা চান। এ সময় তিনি বলেন, আমি পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে আপনাদের সঙ্গে যে  অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে, সে জন্য দুঃখ প্রকাশ করছি। এ ঘটনার জন্য আমি ক্ষমা চাই। আমি ভবিষ্যতে পেশাগত দায়িত্ব পালনে আরো সতর্ক থাকব।

সাইফুল আলম নামে এক শিক্ষার্থী বলেন, জেআরআই আমিনুল ইসলাম আমাদের সঙ্গে অনেক বাজে ব্যবহার করেন।   তিনি শিক্ষার্থীদের গায়ে হাত তোলেন। একপর্যায়ে আমাদের একজনকে টেনেহিঁচড়ে ট্রেন থেকে নামিয়ে লাকসাম রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর অফিসে নিয়ে আটকে রাখেন। এতে বিক্ষুব্ধ হয়ে শিক্ষার্থীরা অবরোধ করে ট্রেনটি আটকে দেন ও রেলপথে শুয়ে পড়েন। এ ছাড়া জেআরআই আমিনুল ইসলামের বিচার ও শাস্তি দাবি করেন তারা। পরে দাবি মেনে নেওয়ায় অবরোধ তুলে নেওয়া হয়।

জানা গেছে, মঙ্গলবার রাতে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম ফেরার পথে বিষয়টি জানতে পেরে লাকসামে যাত্রাবিরতি করেন রেলওয়ে চট্টগ্রাম বিভাগীয় ব্যবস্থাপক (ডিআরএম) আবুল কালাম চৌধুরী। পরে তিনিসহ ঘটনার সমাধানে কাজ করেন।

আবুল কালাম চৌধুরী জানান, শিক্ষার্থীদের মারধরের ঘটনায় লাকসাম রেলওয়ে জংশনের ভারপ্রাপ্ত জেআরআই আমিনুল ইসলামসহ তিন টিটিইকে বরখাস্ত করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত করা হবে। আমরা পুরো ঘটনাটি তদন্ত করছি। ট্রেনটি লাকসামে থামার কথা না। এই কাজে যিনি যতটুকু জড়িত, তিনি ততটুকু শাস্তি পাবেন।

তিনি আরো জানান, সোনার বাংলা ট্রেনটি মঙ্গলবার সাপ্তাহিক বন্ধ থাকে। তবে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা দিতে সারা দেশ থেকেই শিক্ষার্থীরা আসায় বিশেষ ব্যবস্থায় ট্রেনটি চালু করা হয়। এর পরও এভাবে শিক্ষার্থীদের হেনস্তা করা দুঃখজনক ঘটনা।



সাতদিনের সেরা