kalerkantho

শুক্রবার । ৭ অক্টোবর ২০২২ । ২২ আশ্বিন ১৪২৯ ।  ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

দেওয়ানগঞ্জে নদী খাচ্ছে ফসলি জমি, প্রতিরোধের উদ্যোগ নেই

দেওয়ানগঞ্জ (জামালপুর) প্রতিনিধি    

১৭ আগস্ট, ২০২২ ০৯:৫৭ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



দেওয়ানগঞ্জে নদী খাচ্ছে ফসলি জমি, প্রতিরোধের উদ্যোগ নেই

জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জে নদীভাঙনে বেদিশা হয়ে পড়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক। উপজেলার  বাহাদুরাবাদ, চিকাজানী চুকাই বাড়ী, চরআম খাওয়া, হাতিভাঙ্গা ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে নদীভাঙন অব্যাহত আছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে প্রতিকারের নূন্যতম উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি। শত শত একর আবাদি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

 

সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার বাহাদুরাবাদ ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের ভাটিরপাড়া সংলগ্ন ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙনে ফসলি আঁখ নদীগর্ভে চলে যাচ্ছে। বিগত দুই-তিন বছর ধরে এই পয়েন্টে প্রায় ৫০ একর  জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড কিংবা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কেউ কোনো খোঁজ-খবর নেযননি এবং প্রতিকারের ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি। একইসাথে ভাঙন এলাকার পাশে বছরের পর বছর চলছে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন। প্রশাসনের অনিয়মিত অভিযানের ফাঁক ফোকর  দিয়ে দিনে-রাতে অবৈধ বালু উত্তোলন আর বিক্রি চলছে।  

জীবন জীবিকার একমাত্র অবলম্বন এই জমি নদীগর্ভে চলে যাওয়ায় দিশাহারা হয়ে পড়েছেন  শত শত কৃষক। তাদের চোখে মুখে হতাশার ছাপ। নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত চাষি মির্জা, তোতা, মাসুদসহ কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তারা এ নিয়ে ক্ষুব্ধ। কাকে কী বলবেন!  তাদের ভাষা নেই। কেবল চেয়ে চেয়ে নদীভাঙন দেখছেন।

জিল বাংলা সুগার মিলের জিএম কৃষি আনোয়ার হোসেন বলেন, ফসলি আঁখের জমি এভাবে যদি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায় তাহলে সুগার মিল চালানো কঠিন হয়ে যাবে।  

একই ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের পোল্যাকান্দীতেও নদীভাঙন অব্যাহত রয়েছে। তাছাড়া  পার্শ্ববর্তী নদীভাঙনপ্রবণ ইউনিয়ন চিকাজানী, চুকাইবাড়ী ইউনিয়নে প্রতিবছর নদী ভেঙে একরের পর একর জমি বিলীন হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট বিভাগের কোনো মাথাব্যথা নেই এবং কার্যকর কোনো ব্যবস্থা গ্রহণেরও উদ্যোগ নিতে দেখা যায়নি। জনপ্রতিনিধিরাও অনেকটা গাছাড়া ভাব নিয়ে দেখে যাচ্ছেন সব।  

দেওয়ানগঞ্জ সহকারী কমিশনার (ভূমি) আহনা জিন্নাত কালের কণ্ঠকে বলেন, নদীভাঙন প্রতিরোধের জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগ রয়েছে। এটা আমাদের কাজ না। তাছাড়া আমরা এর সম্পর্কে সঠিক তথ্য পাই না। এগুলো পেলে অন্তত এডি লাইন টেনে পরবর্তিতে ক্ষতিগ্রস্ত ভূমির মালিকরা যেন সেই জমি ফিরে পেতে অগ্রাধিকার পান সেই ব্যবস্থা করা যেতো।  

জামালপুর পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী আবু সাইদ বলেন, গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা বিবেচনায় নদীভাঙন প্রতিরোধে আমাদের বাজেট দেওয়া হয়। ফসলি জমি রক্ষার কোনো বরাদ্দ আমাদের নেই। বাংলাদেশ নদীমাতৃক দেশ। কাজেই এখানে নদীভাঙন স্বাভাবিক বিষয়। মূলত পুরো বরাদ্দ ঢেলে দিলেও নদীভাঙন থেকে ফসলি জমি রক্ষার কোনো ব্যবস্থা করা দুষ্কর। তবে আমরা এ সমস্যার কথা উল্লেখ করে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের বাজেট দিয়েছি।



সাতদিনের সেরা