kalerkantho

শুক্রবার । ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২২ । ১৫ আশ্বিন ১৪২৯ ।  ৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

শিক্ষার্থীদের রোদে দাঁড় করিয়ে এমপিকে অভ্যর্থনা!

সরিষাবাড়ী (জামালপুর) প্রতিনিধি   

১৬ আগস্ট, ২০২২ ১৭:০৫ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



শিক্ষার্থীদের রোদে দাঁড় করিয়ে এমপিকে অভ্যর্থনা!

জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে প্রধান অতিথিকে অভ্যর্থনা দিতে প্রায় ঘন্টাব্যাপী প্রখর রোদে শিক্ষার্থীদের দাঁড়িয়ে রাখার অভিযোগ উঠেছে  স্কুল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে। গতকাল সোমবার (১৫ আগস্ট) বিকেলে উপজেলার পোগলদিঘা ইউনিয়নের বয়ড়া ইসরাইল আহম্মদ উচ্চ বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়।

স্থানীয় ও বিদ্যালয় সূত্র জানায়, শেখ রাসেল ডিজিটাল ল্যাব পরিদর্শন ও জাতীয় শোক দিবসের কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি ছিলেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ও নানা সমালোচনার দায়ে প্রতিমন্ত্রীর পদ হারানো ডা. মুরাদ হাসান।

বিজ্ঞাপন

সোমবার বিকেল তিনটায় ডিজিটাল ল্যাব পরিদর্শন, আলোচনা সভা ও কাঙালি ভোজের আয়োজন করা হয়। কিন্ত স্কুল কর্তৃপক্ষ দুপুর থেকেই প্রখর রোদে স্কুল মাঠে শিক্ষার্থীদের লাইন করে দাঁড়িয়ে রাখে। পরে শিক্ষার্থীদের দীর্ঘ প্রতিক্ষার পর বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে প্রধান অতিথি ডা. মুরাদ হাসান উপস্থিত হন।

বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণিতে পড়ুয়া নাজমুল ইসলাম বাঁধনসহ একাধিক শিক্ষার্থী জানান, এমপিকে স্বাগত জানানোর জন্য সব ছাত্র-ছাত্রীই মাঠে দাঁড়িয়েছিলাম। স্কুল থেকে উপস্থিত থাকতে নির্দেশ দিয়েছিলো, না মেনে কী করতাম!

এ ব্যাপারে পোগলদিঘা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আশরাফুল আলম মানিক জানান, বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আব্দুর রউফ বাচ্চু ও সদস্য বাবু শিক্ষার্থীদের লাইনে দাঁড় করিয়েছিলেন বলে শুনেছি। এটি নিয়মবহির্ভূত ও দুঃখজনক।

বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক শেখ মাহমুদ জানান, শোক দিবস উপলক্ষে মতিয়ার রহমান তালুকদার স্মৃতি সংসদ বিদ্যালয়ে দুস্থদের জন্য খাবার বিতরণের আয়োজন করে। এমপি মহোদয় বিকেল দিকে অনুষ্ঠানে আসেন। শিক্ষার্থীদের দুপুর থেকেই উপস্থিত করা হয়।

অভিযোগ প্রসঙ্গে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সুরুজ্জামান জানান, শিক্ষার্থীরা এমপি মহোদয়কে ফুল ছিটিয়ে অভ্যর্থনা জানায়নি, শুধুমাত্র মাঠে লাইন ধরে দাঁড়িয়েছিল। এটি কোনো অপরাধ নয়।

বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আব্দুর রউফ বাচ্চু অভিযোগ অস্বীকার করে কালের কন্ঠকে জানান, শিক্ষার্থীদের মাঠে লাইনে দাঁড়ানোর জন্য বলা হয়নি। প্রধান অতিথি বিদ্যালয়ে আসার কথা জানতে পেরে তারা লাইনে দাঁড়ায়। প্রধান অতিথি দেখে তাদের সরে যেতে বললে শিক্ষার্থীরা অনুষ্ঠানস্থলে চলে যায়। তবে শিক্ষার্থীরা যখন লাইনে দাঁড়ায় তখন রোদ ছিল না।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোজাম্মেল হক জানান, কাউকে অভ্যর্থনা জানাতে শিক্ষার্থীদের রাস্তায় বা মাঠে দাঁড় করানো আইনগতভাবেই নিষেধ। প্রধান অতিথিকে অভ্যর্থনা জানানোর সাথে শোক দিবসের তাৎপর্যের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। বিষয়টি জানি না, অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) উপমা ফারিসাজানান, বিষয়টি জানি না। খোঁজখবর নিচ্ছি।



সাতদিনের সেরা