kalerkantho

শনিবার । ১ অক্টোবর ২০২২ । ১৬ আশ্বিন ১৪২৯ ।  ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

গার্ডার পড়ে পাঁচজনের মৃত্যু: আশুলিয়ায় ফেরা হলো না তাদের

সাভার প্রতিনিধি   

১৬ আগস্ট, ২০২২ ০২:৪২ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



গার্ডার পড়ে পাঁচজনের মৃত্যু: আশুলিয়ায় ফেরা হলো না তাদের

সোমবার দুপুর ১২টার দিকে আশুলিয়ার ভাড়া বাসা থেকে নববধূকে মেয়ে রিয়া মনিকে আনতে গিয়েছিলেন মা ফাহিমা বেগম ও খালা ঝরনা। সঙ্গে ছিল ঝরনা বেগমের দুই শিশু ও রিয়া মনি ভাইসহ স্বজনরা। পরে সন্ধ্যার পর খবর পাই ফেরার পথে দুর্ঘটনায় ফাহিমা বেগম ও তার বোন ঝরনাসহ শিশুরাও মারা গেছেন। এই বাড়ির ছাদে গত শনিবার রিয়া মনির বিয়ে হয় হৃদয় নামে এক ছেলের সঙ্গে।

বিজ্ঞাপন

আমরাও নিজেরা উপস্থিত থেকে বিয়ের সহযোগিতা করেছি। দাওয়াত খেয়েছি। শুনে খুবই খারাপ লাগছে- এমন কথাগুলো বলেছিলেন ফাহিমা বেগম ও তার মেয়ে রিয়া মনি আশুলিয়া যেখানে বসবাস করত সে বাড়ির ম্যানেজার শফিকুল ইসলাম।

সোমবার (১৫ আগস্ট) রাত ১০টার দিকে আশুলিয়া খেঁজুর বাগান এলাকার আশরাফ উদ্দিনের বাড়িতে গিয়ে ফাহিমা ও রিয়া মনির ভাড়া বাসার খোঁজ মিলে। বাসায় গিয়ে কক্ষটি তালাবদ্ধ দেখা যায়। বাড়ির পাশে সড়কে ও আশপাশের দোকানে এই দুর্ঘটনার খবরে শোকের ছায়া সেখানে।

শফিকুল ইসলাম বলেন, আশুলিয়ার খেঁজুর বাগান এলাকার আশরাফ উদ্দিনের ৮ তলার বাড়ির ৬ তলার ৬০৪ নম্বর ইউনিটের এক কক্ষে ভাড়া থাকতেন মা ফাহিমা বেগম ও মেয়ে রিয়া মনি। তারা গত এক বছর ধরে ভাড়া থাকতেন। রিয়া মনির এক ভাই আছে। সে মাদরাসায় পড়তেন। মাঝে মধ্যে আসতেন। গত শনিবার রিয়া মনির বিয়ে হয়। ফাহিমা বেগম সিআইপিএল নামে একটি গার্মেন্টে চাকরি করতেন ও রিয়া মনি রেডিয়েন্স নামে আরেকটি কারখানায় চাকরি করতেন। আর বিয়ে উপলক্ষে রিয়ার খালা ঝরনা বেগম ও তার মেয়েরা গ্রাম থেকে এখানে এসেছিলেন। রিয়া মনির বাবা আব্দুর রাজ্জাক অনেক আগেই মারা গেছেন। তবে রিয়া মনির নানা-নানি আশুলিয়ার অন্য এলাকায় বসবাস করেন। তাদের সবার গ্রামের বাড়ির জামালপুর জেলার ইসলামপুর থানা এলাকায়। রিয়া মনি ও তার স্বামী হৃদয় বেঁচে আছেন। হৃদয়ের বাড়ি কুষ্টিয়া জেলায়।

একই বাড়ির ৩ তলায় প্রতিবেশী সামলা আক্তার, আজ দুপুরে দেখলাম মিষ্টি হাতে নিয়ে তারা যাচ্ছে আমার দোকানের সামনে দিয়ে। পরে সন্ধ্যায় শুনি তারা সবাই মারা গেছে। খুব খারাপ লাগছে। বলার মতো ভাষা নাই। খুব কষ্ট লাগছে, আমার চোখের সামনে দিয়ে গেল, পরে শুনি মারা গেছে।

এই বাড়ি কাজ করেন মাসুদ রানা। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, গত দুই দিন আগে বিয়ে হইছে। আমিও ছিলাম। অনেক আনন্দ করছি। এখন তাগো কথা শুইনা খুব খারাপ লাগতেছে।

প্রসঙ্গত, সোমবার বিকালে ঢাকার দক্ষিণখান থানার কাওলায় বৌভাত শেষে নববধূ মেয়ে রিয়া মনিকে নিয়ে ফেরার পথে উত্তরায় তাদের বহনকারী প্রইভেটকারের ওপর বিআরটির প্রকল্পের ৭০ টন ওজনের গার্ডার ছিড়ে চাপা পড়ে প্রাণ হারায় দুই শিশুসহ মা ও ঝরনা বেগমসহ তার বোন ফাহিমা বেগম। একই সঙ্গে মারা যান চালকের আসনে বসা রিয়া মনির শ্বশুর রবেল মিয়াও। গুরুতর আহত হয়ে বেঁচে আছেন নবদম্পতি হৃদয় ও রিয়া মনি।



সাতদিনের সেরা