kalerkantho

বুধবার । ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২২ । ১৩ আশ্বিন ১৪২৯ ।  ১ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

ভাটায় রান্ধি, জোয়ারে খাই

বেতাগী (বরগুনা) প্রতিনিধি   

১৪ আগস্ট, ২০২২ ২০:৩২ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



 ভাটায় রান্ধি, জোয়ারে খাই

‘কী আর করুম, জোয়ারের পানিতে মোগো হগল তলাইয়া যায়। তখন রানতে পারি না। মোরা কয়েক দিন ধইরা ভাটায় রান্ধি, জোয়ার খাই। ’ কথাগুলো বলছিলেন উপকূলীয় জনপদের বরগুনার বেতাগী সদর ইউনিয়নের ঝোপখালী গ্রামের চল্লিশোর্ধ্ব রহিমা আক্তার।

বিজ্ঞাপন

তার মতো আরো প্রায় পাঁচ হাজার পরিবারের ৪০ হাজার মানুষের একই দশা। বঙ্গোপসাগরের লঘুচাপের কারণে গত কয়েক দিনের টানা বর্ষণ ও পূর্ণিমার জোতে বিষখালীতে অস্বাভাবিক পানি বৃদ্ধির ফলে নিম্নাঞ্চলগুলো তলিয়ে গেছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপের কারণে কয়েক দিন ধরে দমকা বাতাস বইছে, সূর্যের দেখা মিলছে না।  প্রকৃতি অন্ধকার রূপ ধারণ করছে এবং আকাশ কালো মেঘে ঢেকে রয়েছে। ফলে বিষখালী নদীর পানি অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। ফলে উপজেলার বেতাগী সদর ইউনিয়নের ঝোপখাল, মোকামিয়া, বিবিচিনির দেশান্তরকাঠি, সদর ইউনিয়নের বাসন্ডা পুলের হাট, লক্ষ্মীপুরা, ভোলানাথপুর, হোসনাবাদের জলিসা, বদনিখালী, মায়ার হাট, মিরের হাট, সরিষামুড়ি ইউনিয়নের আকনে হাট, মন্নানের হাট গ্রামের ৪০ হাজার মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছে।  

স্থানীয়রা জানায়, পানি জোয়ারে এলেও ভাটির সময় কমে যায়। নিম্নাঞ্চলগুলো কয়েক দিন ধরে পানির নিচে তলিয়ে আছে। বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিয়েছে।  জোয়ারের সময় রান্না করতে পারছে না পানিবন্দিরা।

ওই এলাকার বাসিন্দা সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুস সোবাহান বলেন, ‘বেড়িবাঁধের ভাঙা অংশ শিগগিরই মেরামত করা দরকার। পানিতে তলিয়ে থাকা গবাদি পশু নিয়ে আমরা বিপাকে রয়েছি। ’

এ বিষয় পৌর মেয়র আলহাজ এ বি এম গোলাম বলেন, পৌর শহরের বাজারের নিম্নাঞ্চল তলিয়ে গেছে। আবার ভাটির সময় পানি নেমে যায়। একনেকে পৌর শহরের ‘শহররক্ষা বাঁধ’ প্রকল্পের অনুমোদন করা হয়েছে। শিগগিরই এ প্রকল্পের কাজ শুরু হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুহৃদ সালেহীন বলেন, ‘আমার মনিটরিং টিম মাঠে কাজ করছে। কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পেলে স্বেচ্ছাসেবকদের সেখানে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ’

 



সাতদিনের সেরা