kalerkantho

বুধবার । ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২২ । ১৩ আশ্বিন ১৪২৯ ।  ১ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

জোয়ারে পূর্ব সুন্দরবন প্লাবিত : বিপর্যস্ত বন্য প্রাণী

শরণখোলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি   

১৪ আগস্ট, ২০২২ ১৭:১৯ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



জোয়ারে পূর্ব সুন্দরবন প্লাবিত : বিপর্যস্ত বন্য প্রাণী

‘পূর্ব সুন্দরবনের সবচেয়ে উঁচু স্থানটি হলো শরণখোলা রেঞ্জের কটকা অভয়ারণ্য এলাকা। আজ রবিবার (১৪ আগস্ট) জোয়ারে প্রায় চার ফুট পানি উঠেছে সেখানে। আর তিন-চার ইঞ্চি পানি হলেই কটকার মিষ্টি পানির পুকুরটিতে পানি ঢুকে যেত। জোয়ারের পানির তোড়ে মায়াবী চিত্রল হরিণ, বন্য শূকরদের হাবুডুবু খেয়ে সামান্য উঁচু স্থানে যাওয়ার প্রতিযোগিতা শুরু হয়।

বিজ্ঞাপন

গাছের ডালে উঠে যায় বানরের দল। বন্য প্রাণীদের এমন বিপর্যস্ত দৃশ্য দেখা ছাড়া আর কিছুই করার ছিল না আমাদের। ’ কথাগুলো বলছিলেন পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের কটকা অভয়ারণ্য কেন্দ্রের বনরক্ষী মো. দুলাল তালুকদার।

বন বিভাগ সূত্র জানায়, পূর্ণিমার প্রভাবে এক সপ্তাহ ধরে আহাওয়া পরিস্থিতি খারাপ। তবে সর্বোচ্চ উচ্চতায় পানি উঠেছে  রবিবার। পূর্ব বন বিভাগের ৯৫ ভাগ বনই জোয়ারে প্লাবিত হয়েছে। এতে হরিণ, শূকর, বানর, রয়েল বেঙ্গল টাইগারসহ সকল প্রজাতির বন্য প্রাণীই বিপদগ্রস্ত হয়েছে। সকাল-সন্ধ্যা দুইবার প্লাবিত হচ্ছে বন। সোমবার পানি আরো বাড়তে পারে বলে বন বিভাগের ধারণা।

দুবলা জেলেপল্লী টহল ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দিলিপ কুমার মজুমদার মুঠোফোনে কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমাদের দুবলার চরটি সগরের একেবারে মোহনায় হওয়ায় জোয়ারের পানি সরাসরি আঘাত করে এখানে। পানিতে কাঠের নির্মিত আমাদের অফিসঘর তলিয়ে গেছে। হরিণগুলো দলে দলে এসে আমাদের অফিসের পাশের পুকুরপারের উঁচু স্থানে আশ্রয় নিয়েছে। ’ 

শরণখোলা স্টেশন কর্মকর্তা (এসও) মো. আসাদুজ্জামান বলেন, সুন্দরবনের সদ্য খননকৃত পুকুরগুলো বাদে সমস্ত বন প্লাবিত হয়েছে। শরণখোলা রেঞ্জ অফিসের রাস্তাঘাট স্বাভাবিক জোয়ারের পানিতে কখনোই ডুবতে দেখিনি। কিন্তু এবার জোয়ারে তা ছাপিয়ে গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, বনের সমস্ত এলাকাই প্লাবিত হয়েছে।

চাঁদপাই রেঞ্জের করমজল বন্য প্রাণী প্রজনন কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আজাদ কবির বলেন, গত বছর ঘূর্ণিঝড় আম্ফানে করমজলে পানি উঠেছিল। তা ছাড়া স্বাভাবিক জোয়ারে কখনোই পানি ওঠে না করমজল অফিস চত্বরে। বন্য প্রাণীর শেডে ও পুকুরে পানি ঢোকেনি। শেডের প্রাণীরা নিরাপদেই আছে। তবে কুমির প্রজনন কেন্দ্রের ট্যাংকগুলো তলিয়ে গেছে। বেস্টনী থাকায় কুমির ও বাটাগুর বাসকা কচ্ছপগুলো বেরিয়ে যেতে পারেনি।

পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা ও চাঁদপাই রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) মো. শহিদুল ইসলাম হাওলাদার বলেন, পূর্ব বন বিভাগের সবচেয়ে উঁচু স্থান শরণখোলা রেঞ্জের কটকা অভয়ারণ্য এলাকা। সেখানেই এবারের জোয়ারে তিন-চার ফুট পানি উঠছে। তাহলে বোঝা যায়, বনের কোথাও জোয়ারের পানি ঢুকতে বাকি নেই। হরিণ ও শূকরের বাচ্চাগুলো বেশি ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। পানি না টানা পর্যন্ত কিছুই বলা যাবে না। তবে এখন পর্যন্ত কোনো বন্য প্রাণীর খারাপ খবর পাওয়া যায়নি।

এ ব্যাপারে সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মুহাম্মদ বেলায়েত হোসেন বলেন, জোয়ারে সুন্দরবন ওভার ফ্লো হয়েছে। পুকুরপাড় বাদে সবখানে পানি উঠছে। দুবলা ও কটকা এলাকা বেশি প্লাবিত হয়েছে। পূর্ব বন বিভাগের দুটি রেঞ্জের সকল স্টেশন ও টহল ফাঁড়ির কর্মকর্তা ও বনরক্ষীদের নিরাপদে থেকে সার্বিক বিষয় পর্যবেক্ষণ করতে বলা হয়েছে।



সাতদিনের সেরা