kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২ । ১৪ আশ্বিন ১৪২৯ ।  ২ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

পাবনার চাটমোহর

পরকীয়া প্রেমিক যুগলকে শিকলে বেঁধে নির্যাতন, ১০ হাজার টাকায় রফা!

চাটমোহর (পাবনা) প্রতিনিধি    

১৪ আগস্ট, ২০২২ ১৫:১৭ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



পরকীয়া প্রেমিক যুগলকে শিকলে বেঁধে নির্যাতন, ১০ হাজার টাকায় রফা!

পরকীয়া প্রেমিক যুগলকে ধরে ফেলে এলাকাবাসী। তাদের শিকল দিয়ে বেঁধে রাতভর নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। পরে এক সালিস বৈঠকে বিষয়টি ১০ হাজার টাকা জরিমানার মাধ্যমে রফা হয় বলেও জানা গেছে। গতকাল শনিবার (১৩ আগস্ট) দিনব্যাপী পাবনার চাটমোহর উপজেলার নিমাইচড়া ইউনিয়নে এ নিয়ে চলে আলোচনা।

বিজ্ঞাপন

এর আগে শুক্রবার (১২ আগস্ট) রাতে নিমাইচড়ার করকোলা গ্রামের একটি বাড়িতে ওই প্রেমিক যুগলকে আটকে রেখে নির্যাতনের ঘটনা ঘটে।  

এলাকাবাসী ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, নিমাইচরা ইউনিয়নের করকোলা গ্রামের এক সন্তানের জননী এক তরুণীর সঙ্গে ভাঙ্গুড়া উপজেলার অষ্টমনীষা ইউনিয়নের হঠাৎপাড়া গ্রামের বাসিন্দা এক সন্তানের জনক তরুণের পরকীয়া প্রেমের সম্পর্ক চলছিল। বিভিন্ন সময় তারা একে অপরের সাথে দেখা করতেন এবং একান্তে সময় কাটাতেন। এরই ধারাবাহিকতায় গত শুক্রবার রাত ১০টার দিকে ওই তরুণীর ঘরে প্রবেশ করেন প্রেমিক। এ সময় এলাকাবাসী টের পেয়ে তাদের আটক করে। পরে তাদের গাছের সঙ্গে শিকল দিয়ে বেঁধে সারা রাত অমানবিক নির্যাতন চালানো হয়।

পরদিন শনিবার সকালে তাদেরকে নিয়ে আসা হয় নিমাইচড়া ইউনিয়ন পরিষদে। সেখানে নিমাইচড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুরজাহান বেগম মুক্তি এবং তার বোন অষ্টমনীষা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সুলতানা জাহান বকুল সালিস বৈঠক করেন। সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত চলা সালিস বৈঠকে প্রেমিককে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করে মুক্তি দেওয়া হয়। আর প্রেমিকাকে তার স্বামীর কাছে পাঠানো হয়। কিন্তু স্বামী এসব ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে প্রথমে স্ত্রীকে আর ঘরে নেবেন না বলে জানান। অবশেষে তাকে রাজি করানো হয়েছে। পরে ওই জরিমানার টাকাও বিভিন্নজনের মাঝে ভাগ-বাটোয়ারা হয়ে যায়।

এ বিষয়ে হেলাল উদ্দিনের বাবা বলেন, ‌‌‌‘আমার  ছেলেকে বেঁধে রেখে নির্যাতন করা হয়েছে। পরে পরিষদের লোকজন ১০ হাজার টাকা জরিমানা করে ছেড়ে দিয়েছে। এই টাকা পরিষদের চৌকিদারসহ লোকজনরা ভাগ-বাটোয়ারা করে নিয়েছে। ’

মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও ওই তরুণীর স্বামী কল ধরেননি। তবে জরিমানার বিষয়টি জানেন না বলে এলাকাবাসীকে বলেছেন।

নিমাইচড়া ইউপি চেয়ারম্যান নুরজাহান বেগম মুক্তি বলেন, ‘এলাকার ব্যক্তিবর্গ ও পার্শ্ববর্তী অষ্টমনীষার চেয়ারম্যান আমার বড় বোন সুলতানা জাহান বকুল আপার উপস্থিতিতে তাদের সাংসারিক ও সন্তানদের কথা চিন্তা করে বিষয়টি মিটমাট করে দেওয়া হয়েছে। কারো প্রতি জোর-জুলুম করা হয়নি। তবে রাতে অভিযুক্তদের শিকল দিয়ে বেঁধে নির্যাতনের বিষয়টি আমি জানতাম না। পরে জেনেছি। আর জরিমানার বিষয়টিও আমার জানা নেই। ’

এ বিষয়ে অষ্টমনীষা ইউপি চেয়ারম্যান সুলতানা জাহান বকুল বলেন, ‘আমি সালিসের পুরো সময় ছিলাম না। জরুরি কাজে চলে এসেছিলাম। পরে কী হয়েছে আমি জানি না। নির্যাতনের বিষয়টিও আমি জানতাম না। ’

চাটমোহর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জালাল উদ্দিন বলেন, ‘বিষয়টি আমি শুনেছি। রাতে ওই যুগল আটক হলে সকালে স্থানীয়রা বসে সমাধান করেছেন। ইউনিয়ন পরিষদে সালিস বা জরিমানা হয়েছে কি না আমি জানি না। নির্যাতনের বিষয়টিও আমাদের জানা নেই। কেউ যদি থানায় অভিযোগ দেয় তাহলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ’



সাতদিনের সেরা